মহাসড়ক চাঁদাবাজিমুক্ত করার অঙ্গীকার হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যকে মহাসড়কে যানবাহন থেকে অবৈধ টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আশ্বাস দেন, এই সময়ের পর যানবাহন থেকে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের টাকা আদায়ের আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি চালু করা অন্যতম। অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরো মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি কাভারেজের আওতায় রয়েছে এবং এই রুটের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চালিত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে হাইওয়ে পুলিশ কেন্দ্রীয়ভাবে এই দু’টি প্রধান মহাসড়কে নজরদারি করতে পারছে।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের এআই ক্যামেরাগুলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে স্থাপন করা হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য হাইওয়ে পুলিশ শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাহিনী ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নজরদারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধান জানান, আধুনিক এই নজরদারি ব্যবস্থা মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতাকে আরও জোরদার করবে। একই সাথে এটি যে কোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিতে এবং যানজট নিরসনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নজরদারি ব্যবস্থাটি এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কগুলোতেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।

ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা-এই দুটোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা শক্তিশালী করার ওপর এই বাহিনী বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে। জনসাধারণের আস্থা অর্জন এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা বজায় রাখতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে দেশব্যাপী ৭৩টি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেবার মান আরও কার্যকর করতে এই বাহিনীর পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বস্ত্র খাতের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিলেন প্রধানমন্ত্রী

» ১০ রোগের উপশম হয় যে পাতা খেলে!

» পায়ের পাতা ও গোড়ালি ব্যথায় করণীয়

» বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৬২ জন গ্রেফতার

» সাংবাদিক আবু হেনা রাসেল আর নেই

» দিল্লির বিক্ষোভ নিয়ে কঙ্গনা : ‘সবাই ভীষণ আতঙ্কে ছিলাম’

» জাতিসংঘে সড়ক নিরাপত্তা প্যানেলের যৌথ-সভাপতি সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী

» একনেকে ১৪ হাজার ৪১ কোটি টাকার ৮ প্রকল্প অনুমোদন

» মাদক উদ্ধারসহ ৩২৬টি মামলায় ৪০৬ জন গ্রেপ্তার

» হাজারীবাগে ছুরিকাঘাতে যুবক নিহত

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মহাসড়ক চাঁদাবাজিমুক্ত করার অঙ্গীকার হাইওয়ে পুলিশ প্রধানের

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার অঙ্গীকার করেছেন হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ফারুক আহমেদ।

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, হাইওয়ে পুলিশের কোনো সদস্যকে মহাসড়কে যানবাহন থেকে অবৈধ টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

সম্প্রতি গণমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অতিরিক্ত আইজিপি ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আগামী দুই মাসের মধ্যে মহাসড়কগুলোকে চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করতে পারব বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’

গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা আশ্বাস দেন, এই সময়ের পর যানবাহন থেকে হাইওয়ে পুলিশ সদস্যদের টাকা আদায়ের আর কোনো অভিযোগ থাকবে না।

তিনি বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও কর্মদক্ষতা বাড়াতে এই বাহিনী ইতোমধ্যে বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এরমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলোতে উন্নত নজরদারি প্রযুক্তি চালু করা অন্যতম। অপরাধ ও মাদক চোরাচালানের বিরুদ্ধে সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম পুরো মহাসড়ক এবং ঢাকা-মাওয়া মহাসড়ককে সার্বক্ষণিক সিসিটিভি নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।

ফারুক আহমেদ বলেন, পুরো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন সিসিটিভি কাভারেজের আওতায় রয়েছে এবং এই রুটের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) চালিত ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। একইভাবে ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও নজরদারি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। এর ফলে হাইওয়ে পুলিশ কেন্দ্রীয়ভাবে এই দু’টি প্রধান মহাসড়কে নজরদারি করতে পারছে।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের এআই ক্যামেরাগুলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে স্থাপন করা হয়েছে। এটি আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য হাইওয়ে পুলিশ শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের সাথে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে বাহিনী ইতোমধ্যে অনানুষ্ঠানিকভাবে এই নজরদারি নেটওয়ার্ক ব্যবহার শুরু করেছে।

হাইওয়ে পুলিশ প্রধান জানান, আধুনিক এই নজরদারি ব্যবস্থা মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক পাচারসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তৎপরতাকে আরও জোরদার করবে। একই সাথে এটি যে কোনো দুর্ঘটনায় দ্রুত সাড়া দিতে এবং যানজট নিরসনেও বিশেষ ভূমিকা রাখবে।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নজরদারি ব্যবস্থাটি এখন আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। পরবর্তী সময়ে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য মহাসড়কগুলোতেও এই প্রযুক্তি সম্প্রসারণ করা হবে।

ফারুক আহমেদ বলেন, মহাসড়কে ডাকাতি ও মাদক চোরাচালান প্রতিরোধ এবং নির্বিঘ্নে যানবাহন চলাচল নিশ্চিত করা-এই দুটোই আমাদের প্রধান দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, তথ্য-প্রযুক্তিভিত্তিক পুলিশিংয়ের মাধ্যমে সেবার মান উন্নত করা, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা শক্তিশালী করার ওপর এই বাহিনী বিশেষভাবে জোর দিচ্ছে। জনসাধারণের আস্থা অর্জন এবং মহাসড়কের নিরাপত্তা বজায় রাখতে জনগণের অংশগ্রহণ বাড়াতে কমিউনিটি পুলিশিং ব্যবস্থা জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, হাইওয়ে পুলিশ বর্তমানে দেশব্যাপী ৭৩টি থানার মাধ্যমে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। সেবার মান আরও কার্যকর করতে এই বাহিনীর পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com