ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ ও দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় ধরে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল পেরিয়ে অবশেষে ইরান থেকে মুক্তি পেয়েছেন দ্বৈত নাগরিকত্বধারী ইরানি-মার্কিন নারী ডেনা কারারি (৫৩)। গত বুধবার তার আইনজীবী জ্যারেড জেনসার নিশ্চিত করেছেন যে, ডেনা কারারি ইরান ছেড়েছেন এবং বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ডেনার আইনজীবীর পক্ষ থেকে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার বাসিন্দা ডেনা কারারি ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের আত্মীয়দের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে বিপাকে পড়েন। সে সময় ইরানি কর্তৃপক্ষ তার পাসপোর্ট জব্দ করে। যদিও তাকে সরাসরি কারাগারে বন্দি করা হয়নি, তবে শত্রুভাবাপন্ন দেশের সঙ্গে সহযোগিতার অভিযোগে ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাকে বিভিন্ন সময়ে দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করে। বিশেষ করে ২০২৫ সালের জুন মাসে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা বৃদ্ধির পর থেকেই তিনি কড়া নজরদারিতে ছিলেন।
ডেনা কারারির আইনজীবী জ্যারেড জেনসার জানান, রাজনৈতিক ঘুঁটি হিসেবে দ্বৈত নাগরিকদের আটকে রাখার যে দীর্ঘদিনের প্রবণতা ইরানের রয়েছে, ডেনা তারই শিকার হয়েছিলেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিরলস ও বিশেষ প্রচেষ্টার কারণেই তার এই মুক্তি সম্ভব হয়েছে।
ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই খবরটি শেয়ার করে একে ইরানের একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে প্রশংসা করেছেন। তবে এই মুক্তির পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কোনো বন্দিবিনিময় বা গোপন চুক্তি হয়েছে কি না, তা এখনো পরিষ্কার নয়।
পেশাগত জীবনে ডেনা কারারি ক্যালিফোর্নিয়ার ‘পালো আল্টো নেটওয়ার্কস’-এর কর্মী এবং ইরানি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের সহায়তায় গঠিত ‘চিলড্রেন অব মেহর ফাউন্ডেশন’ নামের একটি অলাভজনক সংস্থার সঙ্গে যুক্ত। দীর্ঘ প্রায় দুই বছর ধরে তার পরিবার ও বন্ধুরা তার মুক্তির জন্য লবিং করে আসছিলেন। গত ফেব্রুয়ারিতে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা নতুন রূপ নিলে তারা প্রায় আশাই ছেড়ে দিয়েছিলেন। ফলে তার এই আকস্মিক মুক্তির খবর পরিবার ও বন্ধুদের মাঝে আনন্দের বন্যা বয়ে এনেছে।
তবে ডেনা কারারি মুক্তি পেলেও কামরান হেকমতি ও সাংবাদিক রেজা ওয়ালিজাদাহসহ আরও অন্তত তিনজন মার্কিন নাগরিক এখনো ইরানের এভিন কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানা গেছে। সূত্র: নিউ ইয়র্ক টাইমস








