আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের ফোনালাপ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনার ছড়িয়ে পড়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টোলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফোনালাপে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে চলাচল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সির(এসপিএ) তথ্যমতে, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের উপায়গুলো পর্যালোচনা করেছেন। এছাড়া ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও তারা মতবিনিময় করেছেন।

যুবরাজ ও ট্রাম্প সমুদ্রপথে চলাচলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় তারা পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে অব্যাহত সমন্বয় ও পরামর্শের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরই এই উভয় নেতা টেলিফোনে কথা বলেছেন। এই উত্তেজনা দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবসানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলার পর এই নতুন সংকটের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে আত্মরক্ষার্থে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়, এতে নতুন করে উপসাগরীয় আঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মিশর ও কাতার উভয় পক্ষকে পুনরায় সংলাপে বসার এবং বৃহত্তর সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে এ বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

গতকাল ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে সংযম, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তাদের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডোর হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: আরব নিউজ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল রবিবার

» দেবের কাছাকাছি হতেই স্বামী রাজের সঙ্গে ছন্দপতন শুভশ্রীর!

» ৫ আগস্ট সেনাবাহিনী চুপ থাকলে গৃহযুদ্ধ ঘটতে পারত: আব্দুল হক

» যে সম্মান আমি হারিয়েছি, রাষ্ট্র কি তার দায় নেবে?

» হরমুজ ইস্যুতে আলোচনায় জন্য ওমানে গেলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী

» দাবিদারদের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করাই ভালো মনে করেছি: তাসনিম জুমা

» শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার না করতে গণমাধ্যমের প্রতি সরকারের অনুরোধ

» মাকে বিদেশে নিইনি, কারণ এ রকম মানবিক সেবা সেখানে পাওয়া যেত না: প্রধানমন্ত্রী

» রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ইউক্রেনে আহত ১০

» ডা. জুবাইদার স্মৃতিবিজড়িত হোস্টেলে প্রধানমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই ট্রাম্পের সঙ্গে সৌদি যুবরাজের ফোনালাপ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে নতুন করে উত্তেজনার ছড়িয়ে পড়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে টোলিফোনে কথা বলেছেন সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান। ফোনালাপে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আঞ্চলিক নিরাপত্তা, সমুদ্রপথে চলাচল এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান যোগাযোগ নিয়ে আলোচনা করেছেন।

সৌদি প্রেস এজেন্সির(এসপিএ) তথ্যমতে, দুই নেতা দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের উপায়গুলো পর্যালোচনা করেছেন। এছাড়া ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার আলোচনাসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ঘটনাপ্রবাহ নিয়েও তারা মতবিনিময় করেছেন।

যুবরাজ ও ট্রাম্প সমুদ্রপথে চলাচলের নিরাপত্তা ও আন্তর্জাতিক নৌপথ সুরক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টায় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

অন্যদিকে সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এসপিএ-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ সময় তারা পুরো অঞ্চলে নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার লক্ষ্যে অব্যাহত সমন্বয় ও পরামর্শের গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করেন।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা বৃদ্ধির পরই এই উভয় নেতা টেলিফোনে কথা বলেছেন। এই উত্তেজনা দীর্ঘদিনের বৈরিতা অবসানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করার আশঙ্কা তৈরি করেছে।

যুদ্ধবিরতি চুক্তি থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ইরানের হামলার পর এই নতুন সংকটের সূত্রপাত হয়। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে বিমান হামলা চালায়। পরবর্তীতে আত্মরক্ষার্থে তেহরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দেয়, এতে নতুন করে উপসাগরীয় আঞ্চলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

মিশর ও কাতার উভয় পক্ষকে পুনরায় সংলাপে বসার এবং বৃহত্তর সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে এ বছরের শুরুর দিকে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকটি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। অন্যদিকে পাকিস্তান সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রাখার প্রস্তাব দিয়েছে।

গতকাল ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে সম্মত হয়েছে। তবে সর্বশেষ পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনার পর যুদ্ধবিরতি কার্যত শেষ হয়ে গেছে বলে জানান তিনি।

সৌদি আরব ধারাবাহিকভাবে সংযম, সংলাপ ও কূটনৈতিক সমাধানের আহ্বান জানিয়ে আসছে। তাদের লক্ষ্য হলো আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা এবং আন্তর্জাতিক নৌপথ বিশেষ করে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন করিডোর হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে আসছে।

সূত্র: আরব নিউজ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com