ইরানের যে কৌশলে হতাশায় ছটফট করছেন ট্রাম্প!

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর জল্পনা চলছে। শান্তি প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের বিলম্ব প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হতাশা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মনে হচ্ছে, তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করছে ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আগের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, ইরান শুক্রবারের মধ্যে নতুন প্রস্তাব দিতে পারে।

তবে এই বিলম্ব ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, শিগগিরই একটি জবাব দেওয়া হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের ধৈর্য কমে আসার ইঙ্গিত মিলেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত তাদের বুদ্ধি ফেরাতে হবে।” যদিও এর আগের দিন তিনি কিছুটা নমনীয় সুরে বলেছিলেন, ইরান তাদের নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা আদৌ সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে পারছেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তে এই বিলম্বের পেছনে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ নেতা গোপনে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, কট্টরপন্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও পক্ষই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না, ইরানের এই ধীরগতির সিদ্ধান্ত কৌশলগত নাকি পরিস্থিতিগত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনিশ্চয়তা বজায় রাখাটাই ইরানের জন্য একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

সব মিলিয়ে, তেহরানের সিদ্ধান্তে দেরি যত বাড়ছে, ততই আন্তর্জাতিক চাপ ও জল্পনাও বাড়ছে- যা চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। আর এতে ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প। ফলশ্রুতিতে হতাশায় ছটফট করছেন তিনি। তার সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া যেন তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধগুলো দ্রুত সংস্কারে কার্যকর পদক্ষেপ চায় জামায়াত

» দেশ পরিচালনায় আওয়ামী শাসনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে: রফিকুল ইসলাম

» ফ্যামিলি কার্ডে মুদ্রাস্ফীতির ঝুঁকি আছে কি? সংসদে প্রধানমন্ত্রীকে হাসনাত আবদুল্লাহর প্রশ্ন

» বিএনপি কীভাবে মুক্তিযুদ্ধের দল হয়? প্রশ্ন জামায়াত নেতা আজহারের

» ৩০ লাখ কোটি টাকার ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে কাজ করছে সরকার : তথ্যমন্ত্রী

» ছাত্র আন্দোলনে জামায়াত-শিবিরের পরামর্শ নেইনি : সংসদে নুর

» সংস্কৃতি চর্চা ছাড়া সমাজকে আলোকিত করা সম্ভব নয়: আবদুস সালাম

» আধিপত্য ও হাট ইজারা নিয়ে দ্বন্দ্বে টিটনকে গুলি করে হত্যা : ডিবি

» নভেম্বরে কাতারে বসছে ফিফা অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপ

» ইরানের যে কৌশলে হতাশায় ছটফট করছেন ট্রাম্প!

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ইরানের যে কৌশলে হতাশায় ছটফট করছেন ট্রাম্প!

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর জল্পনা চলছে। শান্তি প্রস্তাব নিয়ে তেহরানের বিলম্ব প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হতাশা প্রকাশ্যে চলে এসেছে। মনে হচ্ছে, তিনি ধৈর্য হারিয়ে ফেলছেন।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় নতুন একটি শান্তি প্রস্তাবের খসড়া প্রস্তুত করছে ইরান। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র আগের প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর ধারণা, ইরান শুক্রবারের মধ্যে নতুন প্রস্তাব দিতে পারে।

তবে এই বিলম্ব ইঙ্গিত দিচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনির সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, গত সপ্তাহান্তে ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, শিগগিরই একটি জবাব দেওয়া হবে। যদিও নির্দিষ্ট কোনও সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি, তবে প্রকাশ্যে এমন মন্তব্য কূটনৈতিক চাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসের ধৈর্য কমে আসার ইঙ্গিত মিলেছে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে। তিনি সামাজিক মাধ্যমে ইরানকে সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত তাদের বুদ্ধি ফেরাতে হবে।” যদিও এর আগের দিন তিনি কিছুটা নমনীয় সুরে বলেছিলেন, ইরান তাদের নেতৃত্ব পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইরানের নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা আদৌ সর্বোচ্চ নেতার কাছে পৌঁছাতে পারছেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, সিদ্ধান্তে এই বিলম্বের পেছনে দুটি সম্ভাবনা রয়েছে। প্রথমত, নিরাপত্তাজনিত কারণে সর্বোচ্চ নেতা গোপনে অবস্থান করায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গেছে। দ্বিতীয়ত, কট্টরপন্থীরা ইচ্ছাকৃতভাবে সময়ক্ষেপণ করে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কোনও পক্ষই নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না, ইরানের এই ধীরগতির সিদ্ধান্ত কৌশলগত নাকি পরিস্থিতিগত। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনিশ্চয়তা বজায় রাখাটাই ইরানের জন্য একটি কার্যকর কৌশল হতে পারে।

সব মিলিয়ে, তেহরানের সিদ্ধান্তে দেরি যত বাড়ছে, ততই আন্তর্জাতিক চাপ ও জল্পনাও বাড়ছে- যা চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও জটিল করে তুলছে। আর এতে ধৈর্য হারাচ্ছেন ট্রাম্প। ফলশ্রুতিতে হতাশায় ছটফট করছেন তিনি। তার সাম্প্রতিক প্রতিক্রিয়া যেন তেমনই ইঙ্গিত দিচ্ছে। সূত্র: সিএনএন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com