ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : রাজধানীর বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবারের দামে বাড়তির ধারা যেন থামছেই না। মাছ ও গরুর মাংসের দাম আগেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। এমন পরিস্থিতিতে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে প্রোটিনের সহজ উৎস হিসেবে ভরসা ছিল পোল্ট্রি মুরগি ও ডিম। কিন্তু সম্প্রতি এই দুটি পণ্যের দামও হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় নতুন করে চাপে পড়েছেন ক্রেতারা।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের দামে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে বাজারে এসে অনেক ক্রেতাই হতাশা প্রকাশ করছেন।
বাজার ঘুরে জানা যায়, কয়েকদিন আগেও প্রতি কেজি পোল্ট্রি মুরগি ১৭০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই দাম বেড়ে অনেক বাজারে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও এর চেয়েও বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ করেছেন ক্রেতারা।
একই সঙ্গে বেড়েছে ডিমের দামও। ফার্মের লাল ডিম গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ৯০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ১০০ থেকে ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছু বাজারে আরও বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন ক্রেতারা।
অন্যদিকে মাছ ও গরুর মাংসের বাজারে আগেই চড়া দামের চাপ রয়েছে। বাজারে মাঝারি আকারের অনেক মাছই ৩০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। জনপ্রিয় মাছগুলোর দাম আরও বেশি। ফলে অনেক নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে নিয়মিত মাছ কেনাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
গরুর মাংসের দামও সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এমন দামে অনেক পরিবার মাসে একবারও গরুর মাংস কিনতে পারছে না বলে জানান ক্রেতারা।
রাজধানীর এক বাজারে পোল্ট্রি মুরগি কিনতে আসা রায়হান আলী বলেন, মাছ আর গরুর মাংস তো অনেক আগেই আমাদের নাগালের বাইরে চলে গেছে। তাই পরিবারের জন্য মাঝে মাঝে পোল্ট্রি মুরগি কিনতাম। এখন সেটার দামও বেড়ে যাচ্ছে। এতে আমাদের মতো মানুষের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়ছে।
তিনি আরও বলেন, গতকাল নতুন সরকার সংসদে বসলো। আমরা ভেবেছিলাম বাজারে হয়তো একটু স্বস্তি আসবে। কিন্তু বাস্তবে তো উল্টো দামই বাড়তে শুরু করেছে। সামনে কী হবে বুঝতে পারছি না।
বিক্রেতারা বলছেন, খামার পর্যায়ে মুরগি উৎপাদনের খরচ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে এর প্রভাব পড়ছে। বিশেষ করে মুরগির খাদ্য, পরিবহন ও অন্যান্য খরচ বাড়ার কারণে পাইকারি বাজারে দাম বাড়ছে। ফলে খুচরা বাজারেও বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
একজন বিক্রেতা বলেন, আমরাও বেশি দামে বিক্রি করতে চাই না। কিন্তু পাইকারি বাজার থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়েই দাম কিছুটা বাড়িয়ে বিক্রি করছি।
ভোক্তারা বলছেন, নিত্যপণ্যের বাজারে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির কারণে তাদের সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। চাল-ডাল, সবজি, তেল থেকে শুরু করে প্রায় সব খাবারের দামই বাড়তি। এর মধ্যে মাছ, মাংস, মুরগি ও ডিমের দাম বাড়ায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অনেকের জন্যই বিলাসিতায় পরিণত হচ্ছে।
বাজারে ঘুরে দেখা যায়, অনেক ক্রেতাই আগের মতো এক কেজি মুরগি না কিনে অল্প পরিমাণে কিনছেন। কেউ কেউ আবার ডজনের বদলে অর্ধডজন ডিম কিনে নিচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, মূল্যবৃদ্ধির চাপ সরাসরি সাধারণ মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও প্রভাব ফেলছে।
ক্রেতাদের আশা, বাজারে কার্যকর তদারকি ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় আনা গেলে হয়তো আবারও পোল্ট্রি মুরগি ও ডিমের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে ফিরে আসবে। তবে আপাতত বাজারে যে চিত্র দেখা যাচ্ছে, তাতে স্বস্তির বদলে উদ্বেগই বেশি দেখা যাচ্ছে।
সূএ: ঢাকা মেইল ডটকম








