এক উঠানে ৯ লাশ, আত্মীয়স্বজন-এলাকাবাসীর শোকের মাতম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মোংলায় এক উঠানে ৯টি লাশ। মৃত্যুর খবরে ছুটে এসেছেন আত্মীয়স্বজন ও নিকট-দূর প্রতিবেশীরাও। সবার কান্নায় পৌর শহরের সাত্তার লেনের বাড়িটিতে এখন শোকের মাতম চলছে। পৌর বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকসহ তার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনির মৃতদেহ এখন সাত্তার লেনের বাড়িতেই। আজ জুম্মার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পৌর কবরস্থানে একে একে দাফন করা হবে তাদের।

এর আগে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে মৃতদেহ এসে পৌঁছায় মোংলায় নিহত রাজ্জাকের বাড়িতে। অন্যদিকে রাতেই খুলনার কয়রায় পৌঁছায় রাজ্জাকের নব পুত্রবধূ ও তার বোন, নানী এবং দাদীর মরদেহ। আর বাগেরহাটের রামপালের সিঙ্গেরবুনিয়ায় পৌঁছায় মাইক্রোবাস চালক নাঈমের মরদেহ। নাঈমের জানাজা শুক্রবার বেলা ১১টায় হওয়ার কথা রয়েছে। আর নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম ও নানী আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।

নিহতের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে মোংলার আকাশ। সবার মুখে একই কথা, আনন্দ যে এভাবে বিশাদে রূপ নেবে তা কল্পনাও করতে পারেনি। এমন দুর্ঘটনা-এর আগে তারা দেখেননি।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল হোসেন রনি বলেন, রাজ্জাক ভাই আমাদের দলের লোক। ছেলেকে বিয়ে করিয়ে নববধূ নিয়ে ফেরার পথে সবাই মারা গেছে। এটা কোনোভাবেই যেন মেনে নেওয়ার মত নয়। এতো বড় ট্র্যাজেডি-এর আগে মোংলায় আর ঘটেনি।

নিহত বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সর্দার বলেন, আমার ভাইয়ের পরিবারের ১২ জনের মধ্যে ৯ জনই মারা গেল। বাকি আছে আমার ভাবি ও দুই ভাইপো। ভাইপো একজন বাড়িতে তার মায়ের কাছে আছে, আরেকজন খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ইতিকাফের সময় মসজিদের ছাদে যাওয়া যাবে?

» এয়ার ফ্রায়ারে রান্না করা কি স্বাস্থ্যকর?

» ইফতারে ফলের সালাদ তৈরির রেসিপি

» ‌‘পাঁচ আগস্টের পরাজিত শক্তি এখনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত’

» ‘উপদেষ্টা হওয়ার কালে দোসর ভালো লাগে, এখন লাগে না’: তুষার

» জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার কবরে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের শ্রদ্ধা

» বিদেশি মদসহ এক মাদক কারবারি গ্রেফতার

» যাত্রীবাহী বাস ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

» দ্রুতই চালু হবে শাহজালালের তৃতীয় টার্মিনাল: বিমানমন্ত্রী

» মুম্বাইয়ের দূষিত বাতাস নিয়ে দীপিকার ক্ষোভ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

এক উঠানে ৯ লাশ, আত্মীয়স্বজন-এলাকাবাসীর শোকের মাতম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : মোংলায় এক উঠানে ৯টি লাশ। মৃত্যুর খবরে ছুটে এসেছেন আত্মীয়স্বজন ও নিকট-দূর প্রতিবেশীরাও। সবার কান্নায় পৌর শহরের সাত্তার লেনের বাড়িটিতে এখন শোকের মাতম চলছে। পৌর বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকসহ তার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ ও নাতি-নাতনির মৃতদেহ এখন সাত্তার লেনের বাড়িতেই। আজ জুম্মার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় উপজেলা পরিষদ মাঠে জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর পৌর কবরস্থানে একে একে দাফন করা হবে তাদের।

এর আগে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে মৃতদেহ এসে পৌঁছায় মোংলায় নিহত রাজ্জাকের বাড়িতে। অন্যদিকে রাতেই খুলনার কয়রায় পৌঁছায় রাজ্জাকের নব পুত্রবধূ ও তার বোন, নানী এবং দাদীর মরদেহ। আর বাগেরহাটের রামপালের সিঙ্গেরবুনিয়ায় পৌঁছায় মাইক্রোবাস চালক নাঈমের মরদেহ। নাঈমের জানাজা শুক্রবার বেলা ১১টায় হওয়ার কথা রয়েছে। আর নিহতদের পরিবারের আবেদনের প্রেক্ষিতে মরদেহের ময়নাতদন্ত ছাড়াই হাসপাতাল থেকে হস্তান্তর করা হয়।

নিহতরা হলেন- বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তার বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই আব্দুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া ঐশী, তাঁর ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম, বড় ভাই আশরাফুল আলম জনির স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা পুতুল, তাদের ছেলে আলিফ, আরফা, ইরাম। কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম ও নানী আনোয়ারা বেগম এবং মাইক্রোবাস চালক নাঈম।

নিহতের আত্মীয়স্বজন ও এলাকাবাসী শোকে স্তব্ধ। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে মোংলার আকাশ। সবার মুখে একই কথা, আনন্দ যে এভাবে বিশাদে রূপ নেবে তা কল্পনাও করতে পারেনি। এমন দুর্ঘটনা-এর আগে তারা দেখেননি।

উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল হোসেন রনি বলেন, রাজ্জাক ভাই আমাদের দলের লোক। ছেলেকে বিয়ে করিয়ে নববধূ নিয়ে ফেরার পথে সবাই মারা গেছে। এটা কোনোভাবেই যেন মেনে নেওয়ার মত নয়। এতো বড় ট্র্যাজেডি-এর আগে মোংলায় আর ঘটেনি।

নিহত বিএনপি নেতা আ. রাজ্জাকের ছোট ভাই সাজ্জাদ সর্দার বলেন, আমার ভাইয়ের পরিবারের ১২ জনের মধ্যে ৯ জনই মারা গেল। বাকি আছে আমার ভাবি ও দুই ভাইপো। ভাইপো একজন বাড়িতে তার মায়ের কাছে আছে, আরেকজন খুলনা মেডিকেলে চিকিৎসাধীন।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com