নারীর টাখনু বের হয়ে গেলে কি নামাজ ভেঙে যাবে?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক : ইসলামে নামাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সতর অর্থাৎ শরীর আবৃত রাখা। পুরুষ ও নারীর জন্য সতরের সীমানা ভিন্ন। নারীদের নামাজের ক্ষেত্রে চেহারা, হাতের কবজি ও পায়ের পাতা ছাড়া শরীরের বাকি অংশ ঢেকে রাখা ফরজ। বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, সেলোয়ার বা পাজামা কিছুটা খাটো হওয়ার কারণে রুকু বা সেজদার সময় কাপড় উপরের দিকে সরে গিয়ে পায়ের গোড়ালি বা টাখনু অনাবৃত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নামাজের শুদ্ধতা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়।

ফিকাহ ও ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের আলোকে এ বিষয়ে শরয়ি বিধান ও দালিলিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

মূল বিধান: টাখনু ঢাকা জরুরি

ইসলামি শরিয়তের মৌলিক বিধান অনুযায়ী নারীদের টাখনু বা পায়ের গিঁট নামাজের সতরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং নামাজের সময় উভয় পা টাখনুসহ ঢেকে রাখা জরুরি। এজন্য নারীদের উচিত এমন লম্বা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা, যা নড়াচড়ার সময়ও পা সম্পূর্ণভাবে আবৃত রাখে। প্রয়োজনে মোজা ব্যবহার করা উত্তম, যাতে সতর রক্ষায় কোনো ঘাটতি না থাকে।

অনিচ্ছাকৃতভাবে টাখনু বের হলে নামাজের বিধান

যদি অসতর্কতাবশত রুকু বা সেজদার সময় কাপড় সরে গিয়ে সামান্য অংশ যেমন শুধু টাখনু অনাবৃত হয়ে যায়, তাহলে এ কারণে নামাজ ভেঙে যাবে না। এর পেছনে স্পষ্ট ফিকহি ভিত্তি রয়েছে।

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নামাজে শরীরের কোনো অঙ্গের এক-চতুর্থাংশ (১/৪) বা তার বেশি অংশ যদি তিনবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলার সমপরিমাণ সময় খোলা থাকে, তবেই নামাজ ভঙ্গ হয়। নারীদের টাখনুকে স্বতন্ত্র কোনো অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয় না; বরং এটি পায়ের নলা বা পায়ের গোছার অংশ হিসেবে বিবেচিত। যেহেতু শুধু টাখনুর আয়তন পুরো পায়ের নলার এক-চতুর্থাংশের চেয়ে কম, তাই নামাজ চলাকালে কেবল টাখনু বের হয়ে থাকলে নামাজ নষ্ট হয় না।

হানাফি ফিকহের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নারীর টাখনু পায়ের নলার অনুগামী হিসেবে গণ্য হয়; এটি স্বতন্ত্র কোনো অঙ্গ নয়। তাই নামাজে কেবল টাখনু অনাবৃত থাকলে যেহেতু তা পুরো পায়ের নলার এক-চতুর্থাংশের সমপরিমাণ নয়, নামাজ শুদ্ধ থাকে। (গুনিয়াতুল মুতামাল্লি, পৃ. ২১৩)

একই সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়েছে আরও বহু ফতোয়া গ্রন্থে, যেমন খুলাসাতুল ফতোয়া, ফাতহুল কাদির, আল-বাহরুর রায়েক, আদ-দুররুল মুনতাকা এবং রাদ্দুল মুহতার (ফতোয়ায়ে শামি)।

সতর্কতা ও করণীয়

যদিও মাসয়ালা অনুযায়ী অনিচ্ছাকৃতভাবে কেবল টাখনু বের হলে নামাজ নষ্ট হয় না, তবুও এটি সতরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। তাই নারীদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নামাজে সতর রক্ষার জন্য করণীয় হলো-

  • নামাজের সময় পর্যাপ্ত লম্বা ও ঢিলেঢালা পোশাক নির্বাচন করা।
  • সেলোয়ার বা পাজামা গোড়ালির নিচ পর্যন্ত রাখা।
  • সন্দেহ এড়াতে নামাজের সময় মোজা ব্যবহার করা।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, নামাজে নারীদের টাখনু ঢেকে রাখা শরিয়তের নির্দেশ। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে রুকু বা সেজদার সময় টাখনু পরিমাণ খুলে গেলে নামাজ বাতিল হয় না। ইসলাম সহজতার ধর্ম; তবে পূর্ণাঙ্গ সতর বজায় রেখে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করাই একজন সচেতন মুমিন নারীর জন্য উত্তম ও কাম্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» প্রথম ম্যাচে কি ৪ পেসার নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ

» মুক্তিযুদ্ধবিরোধী শক্তিকে জনগণ আর সুযোগ দেবে না : রিজভী

» আরাফাত রহমান কোকোর জন্মদিনে বনানী কবরস্থানে শ্রদ্ধা নিবেদন

» সন্ধ্যা থেকে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী

» কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও রূপান্তরের যুগে তরুণরাই সভ্যতার মূল শক্তি: তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী

» তরুণরাই আগামীর বাংলাদেশ গড়ার মূল শক্তি : সমাজকল্যাণমন্ত্রী

» হালাল অর্থনীতি হতে পারে নতুন সম্ভাবনার বড় ক্ষেত্র : বাণিজ্যমন্ত্রী

» সরকারি খরচায় পৌনে ৫ লাখ মামলায় আইনি সহায়তা

» ডিবি হারুনকে সরানো নিয়ে কাদের-কামালের ফোনালাপে যে কথা হয়

» ঈদে মিলাদুন্নবীর তারিখ নির্ধারণে চাঁদ দেখা কমিটির সভা বৃহস্পতিবার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

নারীর টাখনু বের হয়ে গেলে কি নামাজ ভেঙে যাবে?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক : ইসলামে নামাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো সতর অর্থাৎ শরীর আবৃত রাখা। পুরুষ ও নারীর জন্য সতরের সীমানা ভিন্ন। নারীদের নামাজের ক্ষেত্রে চেহারা, হাতের কবজি ও পায়ের পাতা ছাড়া শরীরের বাকি অংশ ঢেকে রাখা ফরজ। বাস্তবে অনেক সময় দেখা যায়, সেলোয়ার বা পাজামা কিছুটা খাটো হওয়ার কারণে রুকু বা সেজদার সময় কাপড় উপরের দিকে সরে গিয়ে পায়ের গোড়ালি বা টাখনু অনাবৃত হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় নামাজের শুদ্ধতা নিয়ে অনেকের মনে প্রশ্ন দেখা দেয়।

ফিকাহ ও ফতোয়ার নির্ভরযোগ্য গ্রন্থসমূহের আলোকে এ বিষয়ে শরয়ি বিধান ও দালিলিক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

মূল বিধান: টাখনু ঢাকা জরুরি

ইসলামি শরিয়তের মৌলিক বিধান অনুযায়ী নারীদের টাখনু বা পায়ের গিঁট নামাজের সতরের অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং নামাজের সময় উভয় পা টাখনুসহ ঢেকে রাখা জরুরি। এজন্য নারীদের উচিত এমন লম্বা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরিধান করা, যা নড়াচড়ার সময়ও পা সম্পূর্ণভাবে আবৃত রাখে। প্রয়োজনে মোজা ব্যবহার করা উত্তম, যাতে সতর রক্ষায় কোনো ঘাটতি না থাকে।

অনিচ্ছাকৃতভাবে টাখনু বের হলে নামাজের বিধান

যদি অসতর্কতাবশত রুকু বা সেজদার সময় কাপড় সরে গিয়ে সামান্য অংশ যেমন শুধু টাখনু অনাবৃত হয়ে যায়, তাহলে এ কারণে নামাজ ভেঙে যাবে না। এর পেছনে স্পষ্ট ফিকহি ভিত্তি রয়েছে।

হানাফি ফিকহ অনুযায়ী, নামাজে শরীরের কোনো অঙ্গের এক-চতুর্থাংশ (১/৪) বা তার বেশি অংশ যদি তিনবার ‘সুবহানাল্লাহ’ বলার সমপরিমাণ সময় খোলা থাকে, তবেই নামাজ ভঙ্গ হয়। নারীদের টাখনুকে স্বতন্ত্র কোনো অঙ্গ হিসেবে গণ্য করা হয় না; বরং এটি পায়ের নলা বা পায়ের গোছার অংশ হিসেবে বিবেচিত। যেহেতু শুধু টাখনুর আয়তন পুরো পায়ের নলার এক-চতুর্থাংশের চেয়ে কম, তাই নামাজ চলাকালে কেবল টাখনু বের হয়ে থাকলে নামাজ নষ্ট হয় না।

হানাফি ফিকহের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, নারীর টাখনু পায়ের নলার অনুগামী হিসেবে গণ্য হয়; এটি স্বতন্ত্র কোনো অঙ্গ নয়। তাই নামাজে কেবল টাখনু অনাবৃত থাকলে যেহেতু তা পুরো পায়ের নলার এক-চতুর্থাংশের সমপরিমাণ নয়, নামাজ শুদ্ধ থাকে। (গুনিয়াতুল মুতামাল্লি, পৃ. ২১৩)

একই সিদ্ধান্ত উল্লেখ করা হয়েছে আরও বহু ফতোয়া গ্রন্থে, যেমন খুলাসাতুল ফতোয়া, ফাতহুল কাদির, আল-বাহরুর রায়েক, আদ-দুররুল মুনতাকা এবং রাদ্দুল মুহতার (ফতোয়ায়ে শামি)।

সতর্কতা ও করণীয়

যদিও মাসয়ালা অনুযায়ী অনিচ্ছাকৃতভাবে কেবল টাখনু বের হলে নামাজ নষ্ট হয় না, তবুও এটি সতরের অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় ইচ্ছাকৃতভাবে এমনটি করা মাকরুহ বা অপছন্দনীয়। তাই নারীদের জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

নামাজে সতর রক্ষার জন্য করণীয় হলো-

  • নামাজের সময় পর্যাপ্ত লম্বা ও ঢিলেঢালা পোশাক নির্বাচন করা।
  • সেলোয়ার বা পাজামা গোড়ালির নিচ পর্যন্ত রাখা।
  • সন্দেহ এড়াতে নামাজের সময় মোজা ব্যবহার করা।

সারসংক্ষেপে বলা যায়, নামাজে নারীদের টাখনু ঢেকে রাখা শরিয়তের নির্দেশ। তবে অনিচ্ছাকৃতভাবে রুকু বা সেজদার সময় টাখনু পরিমাণ খুলে গেলে নামাজ বাতিল হয় না। ইসলাম সহজতার ধর্ম; তবে পূর্ণাঙ্গ সতর বজায় রেখে নামাজ আদায় করার চেষ্টা করাই একজন সচেতন মুমিন নারীর জন্য উত্তম ও কাম্য।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com