নাড়িভুঁড়িসহ ড্রেসিং করা মুরগি খাওয়া কি মাকরুহ?

সংগৃহীত ছবি

 

ধর্ম ডেস্ক :বর্তমানে বাজারে মুরগি জবাইয়ের পর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ‘ড্রেসিং’ করে বিক্রি করা হয়। এই পদ্ধতিতে মুরগির লোম বা পালক পরিষ্কারের জন্য নাড়িভুঁড়িসহ মুরগিটিকে অল্প সময়ের জন্য গরম পানিতে চুবিয়ে নেওয়া হয়। সাধারণ মুসলমানদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে- এভাবে ড্রেসিং করা মুরগির গোশত খাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ হবে, নাকি তা মাকরুহ বা নাজায়েজ হয়ে যাবে?

ড্রেসিং করা মুরগির শরয়ি হুকুম

ফিকহি কিতাবসমূহের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দোকানগুলোতে প্রচলিত সাধারণ ড্রেসিং পদ্ধতিতে মুরগির গোশত খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরুহ হবে না। কারণ, এক্ষেত্রে মুরগিকে খুব অল্প সময়ের জন্য গরম পানিতে রাখা হয়। এই সামান্য সময়ে মুরগির পেটের ভেতরের নাপাকির প্রভাব বা গন্ধ গোশতের গভীরে পৌঁছায় না। মূলত পালকের গোড়া ও লোমকূপগুলো নরম করে সহজে পরিষ্কার করার জন্য এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়।
সুতরাং, যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া না যাবে যে, গরম পানির কারণে নাড়িভুঁড়ির প্রভাব বা গন্ধ গোশতের ভেতর ঢুকে গেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই মুরগি খাওয়া বৈধ।

কখন খাওয়া নাজায়েজ হবে?

তবে যদি মুরগিকে দীর্ঘ সময় ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম পানিতে চুবিয়ে রাখা হয় এবং এর ফলে পেটের ভেতরের নাপাকির স্বাদ, দুর্গন্ধ গোশতের ভেতরে প্রবেশ করে, তাহলে সেই মুরগির গোশত খাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ হয়ে যাবে। ফিকাহবিদরা একে ‘মুন্তিন’ বা দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিহিত করেছেন।

পরিষ্কার ও পাক করার গুরুত্ব

সাধারণ নিয়মে (অল্প সময় গরম পানিতে রেখে) যেসব মুরগি ড্রেসিং করা হয়, সেগুলো রান্নার আগে অবশ্যই খুব ভালোভাবে ধুয়ে পাক-পবিত্র করে নেওয়া জরুরি। এতে করে চামড়ার ওপর লেগে থাকা ময়লা বা সম্ভাব্য নাপাকি দূর হয়ে যায় এবং গোশত খাওয়ার পূর্ণ উপযোগী হয়।

সতর্কতা ও উত্তম পন্থা

অনেক সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কিংবা একই পানিতে বারবার মুরগি চুবানোর ফলে পানির বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ফুকাহায়ে কেরাম পরামর্শ দিয়েছেন, সন্দেহমুক্ত থাকার জন্য ড্রেসিং না করে মুরগির চামড়া ফেলে দেওয়াই উত্তম ও অধিক সতর্কতামূলক পন্থা। এতে নাপাকি গোশতে মিশে যাওয়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকে না।

সারকথা, প্রচলিত সাধারণ নিয়মে নাড়িভুঁড়িসহ ড্রেসিং করা মুরগির গোশত খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরুহ নয়, যদি না নাপাকির প্রভাব গোশতের ভেতরে পৌঁছে। তবে রান্নার আগে তা খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া আবশ্যক। আর তাকওয়া বা সতর্কতার খাতিরে চামড়া ফেলে দিয়ে গোশত খাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো।

(তথ্যসূত্র: ফাতহুল কাদির: ১/১৮৬; আল-বাহরুর রায়েক: ১/২৩৯; মাজমাউল আনহুর: ১/৯১; রদ্দুল মুহতার: ১/৩৩৪)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সত্যকে চাপা দেওয়া যায় না, ডিএনএ শনাক্তকরণ প্রসঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা

» যারা বিতাড়িত হয়েছে তারা বসে নেই : এম সাখাওয়াত

» তারেক রহমানের সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

» ভারতে বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ অনড়: আসিফ নজরুল

» বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে বনপাড়া পৌরশহরে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল

» সহকর্মীদের প্রতিবন্ধী সন্তানের শিক্ষা সহায়তায় স্কলারশিপ চালু করল ব্র্যাক ব্যাংক

» ভিভো এক্স৩০০ প্রো: সবার প্রিয় ফ্ল্যাগশিপ

» ২০২৬ সালে তরুণদের দৈনন্দিন ব্যবহারে গুরুত্ব দিচ্ছে স্মার্টফোন ব্র্যান্ডগুলো

» মাওলানা ভাসানীর কবর জিয়ারতের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শুরু করবেন তারেক রহমান

» জকসুর ১৪ কেন্দ্রের ফল: ভিপি পদে ২৪৯ ভোটে এগিয়ে ছাত্রদল

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

নাড়িভুঁড়িসহ ড্রেসিং করা মুরগি খাওয়া কি মাকরুহ?

সংগৃহীত ছবি

 

ধর্ম ডেস্ক :বর্তমানে বাজারে মুরগি জবাইয়ের পর নির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ‘ড্রেসিং’ করে বিক্রি করা হয়। এই পদ্ধতিতে মুরগির লোম বা পালক পরিষ্কারের জন্য নাড়িভুঁড়িসহ মুরগিটিকে অল্প সময়ের জন্য গরম পানিতে চুবিয়ে নেওয়া হয়। সাধারণ মুসলমানদের মনে প্রায়ই প্রশ্ন জাগে- এভাবে ড্রেসিং করা মুরগির গোশত খাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে জায়েজ হবে, নাকি তা মাকরুহ বা নাজায়েজ হয়ে যাবে?

ড্রেসিং করা মুরগির শরয়ি হুকুম

ফিকহি কিতাবসমূহের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে দোকানগুলোতে প্রচলিত সাধারণ ড্রেসিং পদ্ধতিতে মুরগির গোশত খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরুহ হবে না। কারণ, এক্ষেত্রে মুরগিকে খুব অল্প সময়ের জন্য গরম পানিতে রাখা হয়। এই সামান্য সময়ে মুরগির পেটের ভেতরের নাপাকির প্রভাব বা গন্ধ গোশতের গভীরে পৌঁছায় না। মূলত পালকের গোড়া ও লোমকূপগুলো নরম করে সহজে পরিষ্কার করার জন্য এই প্রক্রিয়া অবলম্বন করা হয়।
সুতরাং, যতক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পাওয়া না যাবে যে, গরম পানির কারণে নাড়িভুঁড়ির প্রভাব বা গন্ধ গোশতের ভেতর ঢুকে গেছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ওই মুরগি খাওয়া বৈধ।

কখন খাওয়া নাজায়েজ হবে?

তবে যদি মুরগিকে দীর্ঘ সময় ফুটন্ত বা অতিরিক্ত গরম পানিতে চুবিয়ে রাখা হয় এবং এর ফলে পেটের ভেতরের নাপাকির স্বাদ, দুর্গন্ধ গোশতের ভেতরে প্রবেশ করে, তাহলে সেই মুরগির গোশত খাওয়া শরিয়তের দৃষ্টিতে নাজায়েজ হয়ে যাবে। ফিকাহবিদরা একে ‘মুন্তিন’ বা দুর্গন্ধযুক্ত বলে অভিহিত করেছেন।

পরিষ্কার ও পাক করার গুরুত্ব

সাধারণ নিয়মে (অল্প সময় গরম পানিতে রেখে) যেসব মুরগি ড্রেসিং করা হয়, সেগুলো রান্নার আগে অবশ্যই খুব ভালোভাবে ধুয়ে পাক-পবিত্র করে নেওয়া জরুরি। এতে করে চামড়ার ওপর লেগে থাকা ময়লা বা সম্ভাব্য নাপাকি দূর হয়ে যায় এবং গোশত খাওয়ার পূর্ণ উপযোগী হয়।

সতর্কতা ও উত্তম পন্থা

অনেক সময় বাজারের ব্যবসায়ীরা তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে কিংবা একই পানিতে বারবার মুরগি চুবানোর ফলে পানির বিশুদ্ধতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। তাই ফুকাহায়ে কেরাম পরামর্শ দিয়েছেন, সন্দেহমুক্ত থাকার জন্য ড্রেসিং না করে মুরগির চামড়া ফেলে দেওয়াই উত্তম ও অধিক সতর্কতামূলক পন্থা। এতে নাপাকি গোশতে মিশে যাওয়ার আর কোনো আশঙ্কা থাকে না।

সারকথা, প্রচলিত সাধারণ নিয়মে নাড়িভুঁড়িসহ ড্রেসিং করা মুরগির গোশত খাওয়া নাজায়েজ বা মাকরুহ নয়, যদি না নাপাকির প্রভাব গোশতের ভেতরে পৌঁছে। তবে রান্নার আগে তা খুব ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া আবশ্যক। আর তাকওয়া বা সতর্কতার খাতিরে চামড়া ফেলে দিয়ে গোশত খাওয়া নিঃসন্দেহে ভালো।

(তথ্যসূত্র: ফাতহুল কাদির: ১/১৮৬; আল-বাহরুর রায়েক: ১/২৩৯; মাজমাউল আনহুর: ১/৯১; রদ্দুল মুহতার: ১/৩৩৪)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com