জুতা পরে নামাজ পড়া যাবে কি?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক : জুতা বা মোজা পায়ে দিয়ে নামাজ ও জানাজা আদায় করা যাবে কি না- এ নিয়ে জনমনে প্রায়ই অস্পষ্টতা দেখা দেয়। বিশেষ করে শীতকাল, সফর কিংবা খোলা মাঠে জানাজার সময় এ প্রশ্নটি বেশি সামনে আসে। হাদিস, ফিকহ ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এর দালিলিক সমাধান জানা থাকা জরুরি।

ইসলামি শরিয়তমতে, জুতা পায়ে নামাজ পড়া ‘জায়েজ’ বা বৈধ, যদি জুতা পবিত্র থাকে। তবে নামাজের ধরন (সাধারণ নামাজ নাকি জানাজা) এবং জুতার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এর প্রয়োগে ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণ নিয়ম হলো- জুতার তলায় বা গায়ে যদি নাপাকি (পেশাব, পায়খানা বা রক্ত ইত্যাদি) না থাকে, তবে তা পায়ে দিয়ে নামাজ আদায়ে বাধা নেই। ধুলোবালি বা কাদা নাপাক নয়।

জুতা পায়ে সাধারণ নামাজ (রুকু ও সেজদাযুক্ত)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ক্ষেত্রে জুতা পায়ে রাখার বিষয়ে দুটি বিষয় লক্ষণীয়- ১. পবিত্রতা: জুতার তলা ও ওপরের অংশ অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। ২. সেজদার সক্ষমতা: জুতা বা বুট এমন নমনীয় হতে হবে যেন সেজদার সময় পায়ের আঙুলগুলো কেবলামুখী করে মাটিতে লাগানো সম্ভব হয়।

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) ‘ফয়জুল বারী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান যুগের শক্ত জুতা বা বুট পায়ে দিয়ে নামাজ পড়লে অনেক ক্ষেত্রে পায়ের আঙুল জমিনে লাগে না, বরং ভেতরে ঝুলে থাকে। অথচ সেজদায় পায়ের আঙুল জমিনে লাগানো আবশ্যক। আঙুল জমিনে না লাগলে সেজদা ত্রুটিপূর্ণ হয়, ফলে নামাজ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

জুতা পায়ে জানাজার বিধান

জানাজার নামাজে যেহেতু রুকু বা সেজদা নেই, তাই শক্ত জুতা বা বুট পরিধান করে জানাজা পড়লে ‘সেজদা না হওয়ার’ সংকট থাকে না। এ ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শুধুই ‘পবিত্রতা’। জুতার তলা ও ওপরের অংশ পবিত্র থাকলে জুতা পায়ে দিয়েই জানাজা পড়া যাবে। কিন্তু জুতার তলায় নাপাকি থাকলে তা পায়ে দিয়ে জানাজা পড়া বৈধ নয়। কারণ, নামাজি ব্যক্তির শরীর ও পোশাকের মতো তার পরিহিত জুতাও পবিত্র হওয়া আবশ্যক। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৫৮)

জুতা খুলে ‘জুতার ওপর দাঁড়িয়ে’ নামাজ : একটি সহজ সমাধান

মাঠ-ঘাটে বা রাস্তায় জানাজা ও ঈদের নামাজের সময় এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ পদ্ধতি। যদি জুতার তলায় নাপাকি থাকে অথবা সন্দেহ থাকে, তবে জুতা খুলে তার ওপর পা রেখে নামাজ পড়া যাবে। এ ক্ষেত্রে জুতাটি পরিধেয় পোশাক নয়, বরং ‘জায়নামাজ’ বা জমিন হিসেবে গণ্য হয়। নিয়ম হলো- জুতার যে অংশের ওপর পা রাখা হচ্ছে (অর্থাৎ জুতার ওপরের পিঠ), তা পবিত্র হতে হবে। জুতার তলা (যা মাটির সংস্পর্শে আছে) নাপাক হলেও নামাজে সমস্যা হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৬২)

তবে (মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা এবং সেজদার সুবিধার্থে) জুতা খুলে নামাজ পড়াই অধিকতর সতর্কতানির্ভর আমল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» রাশিয়ার শ্রমবাজারে ১ লাখ কর্মী পাঠাতে চায় বাংলাদেশ, সম্মত রুশ কর্তৃপক্ষ

» সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বিরোধী দল: ইশরাক

» নির্বাচনের আগে জামায়াতের গাড়ি-বাড়ি লাগত না, কিন্তু পরে সব লাগে : রাশেদ খান

» বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারের ফাঁদে অসহায় গ্রাহক

» গরমে শিশুর ডায়রিয়ার ঝুঁকি, যা জানা জরুরি

» মোসাদ্দেক–হৃদয়ে ভর করে লড়ছে বাংলাদেশ

» থ্রি-হুইলার আটক করায় হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে হামলা

» সুপ্রিমকোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

» যেসব উপকার মিলবে জাম খেলে

» কাঁঠালের বিচির হালুয়ার তৈরির রেসিপি

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জুতা পরে নামাজ পড়া যাবে কি?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক : জুতা বা মোজা পায়ে দিয়ে নামাজ ও জানাজা আদায় করা যাবে কি না- এ নিয়ে জনমনে প্রায়ই অস্পষ্টতা দেখা দেয়। বিশেষ করে শীতকাল, সফর কিংবা খোলা মাঠে জানাজার সময় এ প্রশ্নটি বেশি সামনে আসে। হাদিস, ফিকহ ও সমসাময়িক প্রেক্ষাপট বিবেচনায় এর দালিলিক সমাধান জানা থাকা জরুরি।

ইসলামি শরিয়তমতে, জুতা পায়ে নামাজ পড়া ‘জায়েজ’ বা বৈধ, যদি জুতা পবিত্র থাকে। তবে নামাজের ধরন (সাধারণ নামাজ নাকি জানাজা) এবং জুতার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এর প্রয়োগে ভিন্নতা রয়েছে। সাধারণ নিয়ম হলো- জুতার তলায় বা গায়ে যদি নাপাকি (পেশাব, পায়খানা বা রক্ত ইত্যাদি) না থাকে, তবে তা পায়ে দিয়ে নামাজ আদায়ে বাধা নেই। ধুলোবালি বা কাদা নাপাক নয়।

জুতা পায়ে সাধারণ নামাজ (রুকু ও সেজদাযুক্ত)

পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের ক্ষেত্রে জুতা পায়ে রাখার বিষয়ে দুটি বিষয় লক্ষণীয়- ১. পবিত্রতা: জুতার তলা ও ওপরের অংশ অবশ্যই পবিত্র হতে হবে। ২. সেজদার সক্ষমতা: জুতা বা বুট এমন নমনীয় হতে হবে যেন সেজদার সময় পায়ের আঙুলগুলো কেবলামুখী করে মাটিতে লাগানো সম্ভব হয়।

আল্লামা আনোয়ার শাহ কাশ্মীরি (রহ.) ‘ফয়জুল বারী’ গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন, বর্তমান যুগের শক্ত জুতা বা বুট পায়ে দিয়ে নামাজ পড়লে অনেক ক্ষেত্রে পায়ের আঙুল জমিনে লাগে না, বরং ভেতরে ঝুলে থাকে। অথচ সেজদায় পায়ের আঙুল জমিনে লাগানো আবশ্যক। আঙুল জমিনে না লাগলে সেজদা ত্রুটিপূর্ণ হয়, ফলে নামাজ বাতিল হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

জুতা পায়ে জানাজার বিধান

জানাজার নামাজে যেহেতু রুকু বা সেজদা নেই, তাই শক্ত জুতা বা বুট পরিধান করে জানাজা পড়লে ‘সেজদা না হওয়ার’ সংকট থাকে না। এ ক্ষেত্রে মূল বিবেচ্য বিষয় হলো শুধুই ‘পবিত্রতা’। জুতার তলা ও ওপরের অংশ পবিত্র থাকলে জুতা পায়ে দিয়েই জানাজা পড়া যাবে। কিন্তু জুতার তলায় নাপাকি থাকলে তা পায়ে দিয়ে জানাজা পড়া বৈধ নয়। কারণ, নামাজি ব্যক্তির শরীর ও পোশাকের মতো তার পরিহিত জুতাও পবিত্র হওয়া আবশ্যক। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৫৮)

জুতা খুলে ‘জুতার ওপর দাঁড়িয়ে’ নামাজ : একটি সহজ সমাধান

মাঠ-ঘাটে বা রাস্তায় জানাজা ও ঈদের নামাজের সময় এটি একটি অত্যন্ত কার্যকর ও নিরাপদ পদ্ধতি। যদি জুতার তলায় নাপাকি থাকে অথবা সন্দেহ থাকে, তবে জুতা খুলে তার ওপর পা রেখে নামাজ পড়া যাবে। এ ক্ষেত্রে জুতাটি পরিধেয় পোশাক নয়, বরং ‘জায়নামাজ’ বা জমিন হিসেবে গণ্য হয়। নিয়ম হলো- জুতার যে অংশের ওপর পা রাখা হচ্ছে (অর্থাৎ জুতার ওপরের পিঠ), তা পবিত্র হতে হবে। জুতার তলা (যা মাটির সংস্পর্শে আছে) নাপাক হলেও নামাজে সমস্যা হবে না। (ফতোয়ায়ে হিন্দিয়া: ১/৬২)

তবে (মসজিদের পবিত্রতা রক্ষা এবং সেজদার সুবিধার্থে) জুতা খুলে নামাজ পড়াই অধিকতর সতর্কতানির্ভর আমল।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com