ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইয়েমেনের মারিব প্রদেশে সৌদি আরবের একটি এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত করার দাবি করে ভিডিও প্রকাশ করেছে দেশটির ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা। সম্প্রতি লোহিত সাগর ও সংলগ্ন কৌশলগত অঞ্চলগুলোতে হুতির দ্রুত অগ্রযাত্রার মুখে এই ঘটনাটি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে নতুন করে বড় ধরনের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
হুতির দাবি অনুযায়ী, পশ্চিম-মধ্য ইয়েমেনের আকাশসীমায় ‘শত্রুভাবাপন্ন কর্মকাণ্ড’ চলাকালে স্থানীয়ভাবে নির্মিত ভূ-পৃষ্ঠ থেকে আকাশে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই অত্যাধুনিক বিমানটিকে ধ্বংস করা হয়।
প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার দৃশ্য এবং পরবর্তীতে মরুভূমির মাঝে বিদ্ধস্ত বিমানের ভগ্নাংশ পরিদর্শন করতে দেখা যায় ইয়েমেনি যোদ্ধাদের। এ সময় সৌদি আরবের পতাকাসংবলিত জাতীয় প্রতীক ও ‘৫৫৩৯’ সনাক্তকরণ নম্বরযুক্ত একটি টেলফিন বা পেছনের পাখনা প্রদর্শন করে হুতি।
সামগ্রিক ঘটনার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল ও সামরিক বিশ্লেষক সেড্রিক লেইটন ভিডিওটির প্রাথমিক মূল্যায়নে জানান, ডানা ও লেজের চিহ্নগুলো সৌদি বিমান বাহিনীর এফ-১৫এসএ মডেলের বৈশিষ্ট্যের সাথে সম্পূর্ণ মিলে যায়। তবে প্রকাশিত ভিডিওটির সত্যতা এবং এর ভৌগোলিক অবস্থান স্বাধীনভাবে যাচাই করার কথা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক তথ্যমাধ্যমগুলো। অন্যদিকে ঘটনাটি নিয়ে এখন পর্যন্ত রিয়াদ কিংবা ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটির সময়কাল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ইয়েমেনের দীর্ঘদিনের গৃহযুদ্ধ বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক সংঘাতের একটি সক্রিয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে হুথিরা লড়াই জোরদার করে বিশাল অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। গত সপ্তাহে লোহিত সাগরের একটি মূল বন্দর শহর এবং বাব আল-মান্দেব প্রণালীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ‘ময়য়ুন’ দ্বীপটি দখল করে নেয় তারা। এই প্রণালিটি হরমুজের বিকল্প হিসেবে সৌদি তেল ও প্রক্রিয়াজাত পণ্য রপ্তানির একটি প্রধান শিপিং রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। হুতির এই সামরিক সফলতায় সৌদি আরবের সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বোয়িং নির্মিত এফ-১৫ বিমানটি আন্তর্জাতিক সামরিক ইতিহাসে অন্যতম সফল যুদ্ধবিমান হিসেবে বিবেচিত। ইয়েমেনের এই ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেলে, শত্রুপক্ষের হামলায় মার্কিন তৈরি এই ক্যাটাগরির বিমান ধ্বংস হওয়ার এটি হবে মাত্র দ্বিতীয় ঘটনা। এর আগে ইরানের সাথে যুদ্ধের প্রথম দিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর একটি এফ-১৫ স্ট্রাইক ঈগল একইভাবে গুলি করে নামিয়েছিল ইরানি বাহিনী। সূত্র: সিএনএন








