ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : পূর্ব ইউক্রেনের একটি অঞ্চল দখলের লক্ষ্যে চলতি বছরের শেষের দিকে রাশিয়া আরও তিন লাখ সেনা মোতায়েন করতে পারে বলে জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। রবিবার (২৩ আগস্ট) এক বক্তব্যে জেলেনস্কি বলেন, বিপুল সংখ্যক সেনা হারানোর পরেও তিনি ধারণা করছেন, বছরের শুরুতে রাশিয়ার দখলে ইউক্রেনের যতটুকু ভূখণ্ড ছিল, বছর শেষেও তাদের দখলে ঠিক ততটুকুই ভূখণ্ড থাকবে।
জেলেনস্কি দাবি করেন, বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মস্কো ২ লাখ ৬৭ হাজার সেনা হারিয়েছে। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৫৫ হাজার সেনা নিহত হয়েছে। আগামী মাসে রাশিয়ায় পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ২০২২ সালে সেনা তলবের (ড্রাফট) জেরে ব্যাপক বিক্ষোভ ও তরুণদের দেশত্যাগের ঘটনা ঘটলেও, এবারও নতুন করে সেনা তলবের বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।
জেলেনস্কি বলেন, আমরা নিশ্চিত নির্বাচনের পর তারা সেনা তলবের প্রক্রিয়া চালাবে। তবে আমাদের ধারণা, বড় শহরগুলোতে এটি করা হবে না। জেলেনস্কি আরও বলেন, তার বিশ্বাস পুতিন দেশের পূর্বাঞ্চলের পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে নতুন তলব করা ৩ লাখ সেনাকে মোতায়েন করবেন। তিনি জেনারেলদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন বছরের শেষের দিকে দোনেৎস্ক দখলের কাজ সম্পন্ন করা হয়। সেখানে নতুন করে মোতায়েন করা সেই ৩ লাখ রুশ সেনাকে তারা হারাবে। আমরা তাদের নিশ্চিহ্ন করে দেব।
ইউক্রেনীয় বাহিনী দোনেৎস্ক অঞ্চলের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রক্ষা করছে; এর মধ্যে রয়েছে স্লাভিয়ানস্ক ও ক্রামাতোরস্কের মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শিল্প-শহরগুলো। জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার পক্ষে পুরো দোনেৎস্ক অঞ্চল দখল করা অসম্ভব। তিনি ইঙ্গিত দেন, রুশ বাহিনী হয়তো ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলীয় খারকিভ ও সুমি এলাকায়ও অনুপ্রবেশের চেষ্টা চালাতে পারে।
আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার বিষয়ে কথা বলার সময় জেলেনস্কি ২০২৩ সালে সরবরাহকৃত প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের সংখ্যার (৬৭৫টি) সঙ্গে চলতি বছরের সম্ভাব্য সংখ্যার (২৬৪টি) তুলনা করেন। ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ফলে ইউক্রেনজুড়ে বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি বেড়েছে। আর এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করার একমাত্র উপায় হলো প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা।
তিনি বলেন, আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন দুর্ভাগ্যবশত এতে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে এবং বিষয়টি মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে। গত মাসে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, ইউক্রেনকে লাইসেন্সের আওতায় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির অনুমতি দেওয়া হতে পারে, তবে পরে তিনি সেই অবস্থান থেকে সরে আসেন।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র যদি তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের মজুদের সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ ইউক্রেনকে সরবরাহ করে, তবে কিয়েভ তার মূল্য পরিশোধ করবে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জানান, রাশিয়ার সামরিক শিল্পখাত বছরে প্রায় ১,৩০০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সক্ষমতা রাখতে পারে। তিনি বলেন, সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী পদক্ষেপের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য রয়েছে। ইউক্রেন দূরপাল্লার ড্রোন এবং নিজস্ব ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার গড়ে তুলেছে, যা রাশিয়ার অভ্যন্তরে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে।
তিনি রাশিয়ার ভূখণ্ডের ‘স্টারলিংক’ স্যাটেলাইট চিত্র ব্যবহারের অনুমতি পাওয়ার জন্য কিয়েভের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, স্টারলিংকের মালিক ইলন মাস্ক বলেছিলেন, তিনি মনে করেন এর ফলে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে রাশিয়ান ফেডারেশনের বিরুদ্ধে সংঘাতের মাত্রা অনেক বেড়ে যেতে পারে। তিতি জানান, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার পরিবর্তে তা শেষ করার জন্য তিনি ওয়াশিংটনের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।
আলোচনার বিষয়ে জেলেনস্কি ইঙ্গিত দেন, যুদ্ধ অবসানের সুযোগ আগামী গ্রীষ্মের শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান থাকতে পারে; কারণ এরপরই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারভিযান শুরু হবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারের জন্য এমন একটি আলোচনার কাঠামো খুঁজে বের করা খুবই কঠিন হয়ে পড়ছিল। যাতে রাশিয়া যুদ্ধ বন্ধ করতে সম্মত হয়, অথচ ইউক্রেনকে ডনবাস থেকে সরে আসতে না হয় কিংবা অন্য কোনো অগ্রহণযোগ্য শর্ত মেনে নিতে না হয়।
তিনি বলেন, জ্যারেড, স্টিভ এবং আমি এই সমস্ত আলোচনার সারসংক্ষেপ একটি পৃষ্ঠায় তৈরি করতে সম্মত হয়েছি।যেখানে যুদ্ধ অবসানের বাস্তবসম্মত উপায়গুলো উল্লেখ থাকবে। আমেরিকানরা আমাদের এবং রাশিয়ার সঙ্গে ঠিক এই বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করতে চায়।
সূত্র: সিএনএন।








