ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম আজ শনিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ইউটিলিটি রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডুরা) আয়োজিত ‘ভূমিকম্প ঝুঁকিতে দেশ, আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বললেন, ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে শুধু রাজউককে দায়ী করলে হবে না। ভবন মালিক, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং নকশা ও নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত প্রকৌশলী-স্থপতিদেরও দায়িত্ব রয়েছে। বাস্তবে বিভিন্ন পক্ষের যৌথ প্রক্রিয়ার মধ্যেই অনিয়মের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
ইঞ্জিনিয়ার মো. রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রিহ্যাব, ভবন মালিক ও রাজউকের ইন্সপেক্টর এই তিন পক্ষের যৌথ প্রযোজনায় অনিয়মগুলো হয়। সত্যি কথা বলছি, এই পরিস্থিতি রয়েছে। তবে কাউকে দোষারোপের উদ্দেশ্য করে নয়, বরং সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।রিয়াজুল ইসলাম বলেন, রাজউকের কোনো ইন্সপেক্টর অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত ভবনকে নিয়ম মেনে না চলেও ছাড়পত্র দিলে তার নিজেরই জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে অনেক কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন এবং কারও কারও বিরুদ্ধে চাকরিসংক্রান্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে রাজউকে যে সংখ্যক ইন্সপেক্টর থাকার কথা, বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়ার কারণে সেই সংখ্যা কমে এসেছে। তবে অনিয়ম বন্ধে কর্মকর্তাদের শাস্তির পাশাপাশি তাদের মোটিভেটও করা হচ্ছে-উল্লেখ করেন তিনি।
ভবন নির্মাণে নকশা পরিবর্তনের বিষয়ে রাজউক চেয়ারম্যান বলেন, কোনো ভবনের অনুমোদন ছয় তলার জন্য হলে সেটিকে নিয়ম বহির্ভূতভাবে ১০ তলা করে পরে শুধু জরিমানা নিয়ে বৈধ করার সুযোগ থাকা উচিত নয়। প্রয়োজনীয় অ্যাসেসমেন্ট ও কারিগরি যাচাই ছাড়া এ ধরনের ভবন অনুমোদন করা হলে তা ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।তিনি আরও বলেন, ভূমিকম্পের ঝুঁকি কমাতে ভবনের নকশা, মাটির গুণগত মান, নির্মাণ কাজের তদারকি এবং ভবন ব্যবহারের অনুমোদন— সবকিছুতেই নিয়ম মানতে হবে। নকশা প্রণয়নকারী প্রকৌশলী ও স্থপতিদেরও নির্মাণকাজের বাস্তবায়ন ও তদারকিতে দায়িত্ব নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, এই কাজ একদিনে শেষ হবে না। যখন থেকে ভবন নির্মাণ শুরু হয়েছে, তখন থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম চলে আসছে। আমরা এখন ধাপে ধাপে সেগুলো ঠিক করার চেষ্টা করছি।








