ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ভারতে গুগলের নির্মাণাধীন ১৫ বিলিয়ন ডলারের হাইপারস্কেল ডাটা সেন্টার প্রকল্পটি ঘিরে পরিবেশগত উদ্বেগ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের ক্ষোভ ঘনীভূত হচ্ছে। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমের তারলুভাডায় চলমান এই মেগা প্রকল্পটি ভারতে গুগলের সর্ববৃহৎ বিনিয়োগ। তবে পরিবেশবিদদের অভিযোগ, বিশাখাপত্তনমের চরম পানিসঙ্কটের মধ্যে এই প্রকল্প শহরের পানি সরবরাহে মারাত্মক চাপ সৃষ্টি করবে। মাত্র ৮৬০ মিটার দূরে অবস্থিত কম্বালাকোন্ডা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের চিতাবাঘ ও প্যানগোলিনের মতো প্রাণীদের আবাসস্থল বিঘ্নিত করবে।
সম্প্রতি বিশাখাপত্তনমে পরিবেশবাদী ও শিশুরা “আমরা ডাটা পান করতে পারি না” লেখা ব্যানার নিয়ে মিছিল করেছে। গুগলের লোগোতে হাতকড়া এঁকে প্রতিবাদ জানিয়েছে। আন্দোলনকারীরা দ্বারে দ্বারে সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং সৈকত প্রবাদের পরিকল্পনা করছেন। অলাভজনক সংস্থা ‘গ্রিন বিশাখা’র প্রতিষ্ঠাতা রাজা রাম মোহন রায় এক পাবলিক সমাবেশে জানান, মানুষের জীবিকার বিনিময়ে কোনো উন্নয়ন হতে পারে না। বর্তমানে ২৫ লাখ মানুষের এই শহরে প্রতিদিন ৪৮০ মিলিয়ন লিটার পানির চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হচ্ছে ৪১০ মিলিয়ন লিটার। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পে টানা ২০ বছরের জন্য পানির নিশ্চয়তা প্রদান নিয়ে চরম প্রশ্ন উঠেছে।
বিষয়টি গড়িয়েছে আদালত পর্যন্ত। অন্ধ্রপ্রদেশ হাইকোর্ট জল বিরাদারী নামক সংগঠনের দায়ের করা মামলার ভিত্তিতে রাজ্য সরকারকে জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছে, যার পরবর্তী শুনানি ২৪ আগস্ট নির্ধারিত হয়েছে। পাশাপাশি ‘হিউম্যান রাইটস ফোরাম’ পরিবেশ আদালতে আরও তিনটি মামলা দায়ের করেছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে অন্ধ্রপ্রদেশ সরকার জানিয়েছে, পরিবেশবাদীদের এই দাবিগুলো ভুল ও বিভ্রান্তিকর। তবে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেকোনো যুক্তিসঙ্গত পর্যালোচনার জন্য সরকার উন্মুক্ত। রাজ্য সরকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, ডাটা সেন্টারের জন্য গ্রামীণ বা আবাসিক ব্যবহারের পানি কিংবা নিকটস্থ জলাধারের পানি ব্যবহার করা হবে না এবং এটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য থেকে আইনানুগ দূরত্বের চেয়েও বেশি দূরে অবস্থিত।
অন্যদিকে গুগল এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, ভারতীয় সব আইন মেনেই প্রকল্পটির কাজ চলছে। স্থানীয় পানির উৎস বাঁচাতে এখানে উন্নত এয়ার কুলিং প্রযুক্তি এবং অভয়ারণ্যের ক্ষতি এড়াতে বিশেষ শব্দ-নিরোধক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সূত্র: রয়টার্স








