ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : পটুয়াখালীতে চায়ের দোকানের পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে রহিম প্যাদা (৬৫) নামের এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের মেয়ে সদর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। নিহত রহিম প্যাদা সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের আবাসন এলাকার বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করে আসছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, একই এলাকার কামাল হাওলাদার তার দোকান থেকে বাকিতে বিভিন্ন পণ্য নিতেন। মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে পাওনা টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কামাল হাওলাদারসহ কয়েকজন মিলে রহিম প্যাদাকে দোকান থেকে জোরপূর্বক নামিয়ে লাঠিসোঁটা দিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে বলে অভিযোগ স্বজনদের।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাত আনুমানিক ৮টা ৫০ মিনিটে পটুয়াখালী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. মো. জাকের হোসেন বলেন, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষায় শরীরে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
নিহতের বড় মেয়ে নাজমা আক্তার অভিযোগ করে বলেন, কামাল হাওলাদার, জামাল হাওলাদার, নুর ইসলাম হাওলাদার, খোকন হাওলাদার ও শাহাবুদ্দিন তালুকদার মিলে তার বাবাকে ঘিরে ধরে গালিগালাজ করেন এবং দোকান থেকে টেনে নামিয়ে মারধর করেন। বাধা দিতে গেলে তার মাকেও মারধর করা হয় বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও জানান, হামলার পর তার বাবা মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এবং অল্প সময়ের মধ্যেই নিস্তেজ হয়ে যান। স্থানীয়রা এগিয়ে এলেও তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। তিনি জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। আগের দিন বিকেলেও পাওনা টাকা নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে ঝগড়া ও হুমকির ঘটনা ঘটেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নিহতের ছোট মেয়ে তানজিলা বলেন, তাদের কোনো ভাই নেই। বাবা একাই দোকান পরিচালনা করতেন। তাকে একা পেয়ে পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হয়েছে বলে তাদের ধারণা।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা পলাতক থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পটুয়াখালী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান জানান, মরদেহের ময়নাতদন্ত প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









