অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি ॥ ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সেমাই কারখানাগুলো। কিন্তু সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর
পরিবেশ আর স্বাস্থ্যঝুঁকি, তবে তা হয়ে ওঠে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। পচা ডিম, পশুর
চর্বি (এনিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন চলছে পুরোদমে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে
এসব লাচ্ছা সেমাই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বাজারজাত করার অভিযোগ
উঠেছে।

জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সংলগ্ন বীর হাতিজা মোড় এলাকায় থিতি
মনি ফুড বেকারী নামের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার কারী সোহলী শেখের পুত্র বাবুল মিয়া।
তিনি দাম্ভিকতার সহিত বলেন- ১১ বছর ধরে এভাবেই ব্যবসা করছি। কোন সমস্যা
নেই,সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চলি।

স্থানীয়রা জানান,বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই এসব সেমাই খোলা অবস্থায় ও
পলি প্যাকেটে বিক্রির বাজারজাত করে আসছেন। মানুষের খাওয়ার জন্য অত্যন্ত
ঝুঁকিপূর্ণ এসব লাচ্ছা সেমাই শহরের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় হাটবাজার ছাড়াও
পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে অবাধে পাঠানো হচ্ছে। ভেজালবিরোধী
অভিযান শিথিল হয়ে পড়ায় অধিক মুনাফার আশায় এসব লাচ্ছা সেমাইতে ব্যবহার করা
হচ্ছে ব্যবহারের অনুপযোগী নিম্নমানের ময়দা, পামতেলসহ পোড়া তেল।
নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ও গ্লাভস ব্যবহার
বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ কারখানায় এই বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা
কাজ করছেন।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, অস্বাস্থ্যকর
পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এমনকি
দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সেমাই তৈরি বিষয়ে মেলান্দহ স্যানিটারী ইন্সপেক্টর রাবেয়া বেগম
বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের তেল ব্যবহার করে সেমাই তৈরি হচ্ছে আমিও
জানি। তাকে তাকে বকাঝকা দিয়ে আসছি। তবে তার অনুমোদিত কোন লাইসেন্স নেই।
তবে তবে আপনি লেখেন লেখলে আমার সুবিধা হবে।

সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ যাচাই করা প্রয়োজন। উৎসবের
আনন্দ যেন ভেজালের কারণে বিষাদে পরিণত না হয়, এটাই প্রত্যাশা তাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গ্রামে ১০-১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না, অভিযোগ রুমিন ফারহানার

» অনিবন্ধিত সাংবাদিকরাই সোস্যাল মিডিয়ায় মিসইনফরমেশন উপস্থাপন করেন: তথ্য প্রতিমন্ত্রী

» সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ কাঙ্ক্ষিত ফলাফল অর্জনে ব্যর্থ হচ্ছে: ড. হামিদুর

» দীর্ঘমেয়াদি গৃহঋণে নতুন উদ্যোগ, ফ্ল্যাট কেনা সহজ হবে মধ্যবিত্তদের

» মতিঝিলে দিনে-দুপুরে ব্যাংকের সামনে গুলি, ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই

» দেশীয় অস্ত্রসহ ৪জন গ্রেফতার

» সীতাকুণ্ডে আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: ৩৭ জনের নামে মামলা, গ্রেফতার ৩

» বিয়ের সাজে অপু বিশ্বাস, ফেসবুক পোস্ট ঘিরে আলোচনা

» বন্ধুর ছদ্মবেশে গুপ্তচর, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েল নিয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

» রামিসা হত্যা মামলার রায়ের প্রতিক্রিয়ায় যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি হচ্ছে নিম্নমানের লাচ্ছা সেমাই

লিয়াকত হোসাইন লায়ন, জামালপুর প্রতিনিধি ॥ ঈদ সামনে এলেই ব্যস্ত হয়ে ওঠে সেমাই কারখানাগুলো। কিন্তু সেই ব্যস্ততার আড়ালে যদি লুকিয়ে থাকে ভেজাল, অস্বাস্থ্যকর
পরিবেশ আর স্বাস্থ্যঝুঁকি, তবে তা হয়ে ওঠে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি। পচা ডিম, পশুর
চর্বি (এনিমেল ফ্যাট), কৃত্রিম ঘি, নিম্নমানের পামওয়েল ও ডালডা ব্যবহার করে
অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে উৎপাদন চলছে পুরোদমে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা হচ্ছে
এসব লাচ্ছা সেমাই বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই বাজারজাত করার অভিযোগ
উঠেছে।

জামালপুরের মেলান্দহ ও ইসলামপুর উপজেলার সংলগ্ন বীর হাতিজা মোড় এলাকায় থিতি
মনি ফুড বেকারী নামের ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার কারী সোহলী শেখের পুত্র বাবুল মিয়া।
তিনি দাম্ভিকতার সহিত বলেন- ১১ বছর ধরে এভাবেই ব্যবসা করছি। কোন সমস্যা
নেই,সব জায়গায় ম্যানেজ করেই চলি।

স্থানীয়রা জানান,বিএসটিআইয়ের অনুমোদন ছাড়াই এসব সেমাই খোলা অবস্থায় ও
পলি প্যাকেটে বিক্রির বাজারজাত করে আসছেন। মানুষের খাওয়ার জন্য অত্যন্ত
ঝুঁকিপূর্ণ এসব লাচ্ছা সেমাই শহরের চাহিদা মিটিয়ে স্থানীয় হাটবাজার ছাড়াও
পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা শহরে অবাধে পাঠানো হচ্ছে। ভেজালবিরোধী
অভিযান শিথিল হয়ে পড়ায় অধিক মুনাফার আশায় এসব লাচ্ছা সেমাইতে ব্যবহার করা
হচ্ছে ব্যবহারের অনুপযোগী নিম্নমানের ময়দা, পামতেলসহ পোড়া তেল।
নিয়ম অনুযায়ী সেমাই তৈরির কারখানায় পর্যাপ্ত আলো-বাতাস, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন
পরিবেশ, মানসম্মত কাঁচামাল এবং শ্রমিকদের অ্যাপ্রোন, হেডকভার ও গ্লাভস ব্যবহার
বাধ্যতামূলক। অথচ অধিকাংশ কারখানায় এই বালাই নেই। ঘামভেজা শরীরেই শ্রমিকরা
কাজ করছেন।

ইসলামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. এএএম আবু তাহের বলেন, অস্বাস্থ্যকর
পরিবেশে তৈরি খাবার খেলে পেটের পীড়া, ডায়রিয়া, খাদ্যবিষক্রিয়া এমনকি
দীর্ঘমেয়াদী শারীরিক জটিলতাও দেখা দিতে পারে। শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি।
অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সেমাই তৈরি বিষয়ে মেলান্দহ স্যানিটারী ইন্সপেক্টর রাবেয়া বেগম
বলেন, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের তেল ব্যবহার করে সেমাই তৈরি হচ্ছে আমিও
জানি। তাকে তাকে বকাঝকা দিয়ে আসছি। তবে তার অনুমোদিত কোন লাইসেন্স নেই।
তবে তবে আপনি লেখেন লেখলে আমার সুবিধা হবে।

সচেতন মহলের মতে, ঈদকে কেন্দ্র করে খাদ্যপণ্যে ভেজাল রোধে কঠোর তদারকি জরুরি। একই সঙ্গে ভোক্তাদেরও সচেতন হতে হবে পণ্য কেনার আগে উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের ঠিকানা, অনুমোদনের সিল, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণ তারিখ যাচাই করা প্রয়োজন। উৎসবের
আনন্দ যেন ভেজালের কারণে বিষাদে পরিণত না হয়, এটাই প্রত্যাশা তাদের।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com