আকিকার আগে সন্তান মারা গেলে করণীয় কী

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। নবজাতকের বরকত ও নিরাপত্তা কামনায় এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে পশু জবাই করাকে ইসলামি পরিভাষায় ‘আকিকা’ বলা হয়। তবে সন্তান যদি আকিকা দেওয়ার আগে মারা যায়, তবে তার বিধান কী- তা জানতে চান অনেকে। এ বিষয়ে ফিকহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাব ও হাদিসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

আকিকার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

আকিকার উদ্দেশ্য বহুমুখী। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, সুন্নাহ পালন এবং নবজাতকের বরকত ও নিরাপত্তা কামনা করা। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (আকিকার পশু জবাই) কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।’ (সহিহ বুখারি: ৫৪৭১)

মৃত সন্তানের আকিকার বিধান: ফিকহি বিশ্লেষণ

সন্তান যদি আকিকার আগেই মারা যায়, তার পক্ষ থেকে আকিকা করার বিষয়টি নিয়ে ফকিহগণের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

আকিকা মূলত জীবিত সন্তানের জন্য মোস্তাহাব আমল। সন্তান মারা যাওয়ার পর তার পক্ষ থেকে আকিকা করার বিষয়টি আর ততটা গুরুত্ব বহন করে না। কারণ আকিকার একটি বড় উদ্দেশ্য হলো- জীবিত সন্তানের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা। তবে কোনো পিতা-মাতা চাইলে তাদের মৃত সন্তানের পক্ষ থেকেও আকিকা করতে পারেন।
ইমাম নববি (রহ.) তাঁর ‘আল-মাজমু’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, সন্তান জন্মের পর মারা গেলেও তার পক্ষ থেকে আকিকা করা বৈধ (৮/৪১২)। তবে ‘আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ’ অনুযায়ী, যেহেতু আকিকার একটি উদ্দেশ্য শিশুর পার্থিব নিরাপত্তা ও সুস্থতা, তাই শিশুর মৃত্যুর পর এই মাকসাদটি আর বিদ্যমান থাকে না। (৩০/২৭৭)

‘মুরতাহান’ বা বন্ধক হাদিসের ব্যাখ্যা

একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সাথে দায়বদ্ধ (মুরতাহান) থাকে।’ (ইবনে মাজাহ: ৩১৬৫)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে এবং এটি নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা বিদ্যমান। কিছু আলেমের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সন্তানের সুপারিশ বা শাফায়াতের বিষয়টি আকিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। অর্থাৎ, আকিকা করা হলে সন্তান কেয়ামতের দিন বাবা-মায়ের জন্য সুপারিশ করার সুযোগ পায়। যদিও অনেক মুহাদ্দিস একে প্রতীকী অর্থেও ব্যাখ্যা করেছেন, তবুও সুপারিশ লাভের আশায় অনেক অভিভাবক মৃত সন্তানের পক্ষ থেকেও আকিকা করাকে উত্তম মনে করেন।

অভিভাবকের করণীয় ও সিদ্ধান্ত

দালিলিক আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তগুলো নিম্নরূপ:
মৃত সন্তানের বা সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিন আসার আগে মারা গেলে আকিকা করা জরুরি নয়। (দ্র. ফতোয়ায়ে রহিমিয়া: ১০/৬২)
তবে কেউ যদি মৃত সন্তানের পক্ষ থেকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় বা সুপারিশের প্রত্যাশায় আকিকা করেন, তবে তা জায়েজ এবং এতে সওয়াব রয়েছে। (ইলাউস সুনান: ১৭/১১৪)
আকিকা করার মূল দায়িত্ব পিতার। তবে সামর্থ্য না থাকলে আকিকা না দিলে কোনো গুনাহ হবে না।

অতএব, সন্তান মারা যাওয়ার পর আকিকা করা শরিয়তে বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নয়, তবে এটি একটি ঐচ্ছিক ও সওয়াবের কাজ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ঈদের মিছিল ও তিনদিন ঈদ উৎসব আয়োজন করা হবে : আসিফ মাহমুদ

» শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ উপনির্বাচন : বহাল সবার প্রার্থিতা

» বিএনপি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয়করণ করতে চাচ্ছে: সারজিস

» ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্রপতির ভাষণ শুনতে আমরা সংসদে যাচ্ছি না: নাহিদ

» অস্ত্র-গুলিসহ ডাকাত আটক

» রিশাদকে সামলানোর পরিকল্পনায় পাকিস্তান

» শুধু জুলাই জাতীয় সনদ নয়, নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

» সংবাদপত্রে ঈদের ছুটি ৫ দিন: নোয়াব

» শরণখোলায় ১৮ ফুট লম্বা অজগরের পেটে ছাগল, পরে সুন্দরবনে অবমুক্ত

» দেড় হাজার দরিদ্র পরিবারের মাঝে ঈদ সামগ্রি দিলেন  সাবেক ইউপি সদস্য

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আকিকার আগে সন্তান মারা গেলে করণীয় কী

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :সন্তান মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে এক বিশেষ নেয়ামত। নবজাতকের বরকত ও নিরাপত্তা কামনায় এবং আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ে পশু জবাই করাকে ইসলামি পরিভাষায় ‘আকিকা’ বলা হয়। তবে সন্তান যদি আকিকা দেওয়ার আগে মারা যায়, তবে তার বিধান কী- তা জানতে চান অনেকে। এ বিষয়ে ফিকহশাস্ত্রের নির্ভরযোগ্য কিতাব ও হাদিসের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো।

আকিকার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

আকিকার উদ্দেশ্য বহুমুখী। এর অন্যতম লক্ষ্য হলো মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা, সুন্নাহ পালন এবং নবজাতকের বরকত ও নিরাপত্তা কামনা করা। রাসুলুল্লাহ (স.) ইরশাদ করেছেন, ‘সন্তানের সঙ্গে আকিকা সম্পর্কিত। তার পক্ষ থেকে রক্ত প্রবাহিত (আকিকার পশু জবাই) কর এবং তার অশুচি (চুল, নখ ইত্যাদি) দূর করে দাও।’ (সহিহ বুখারি: ৫৪৭১)

মৃত সন্তানের আকিকার বিধান: ফিকহি বিশ্লেষণ

সন্তান যদি আকিকার আগেই মারা যায়, তার পক্ষ থেকে আকিকা করার বিষয়টি নিয়ে ফকিহগণের মধ্যে আলোচনা রয়েছে।

আকিকা মূলত জীবিত সন্তানের জন্য মোস্তাহাব আমল। সন্তান মারা যাওয়ার পর তার পক্ষ থেকে আকিকা করার বিষয়টি আর ততটা গুরুত্ব বহন করে না। কারণ আকিকার একটি বড় উদ্দেশ্য হলো- জীবিত সন্তানের নিরাপত্তা ও কল্যাণ কামনা। তবে কোনো পিতা-মাতা চাইলে তাদের মৃত সন্তানের পক্ষ থেকেও আকিকা করতে পারেন।
ইমাম নববি (রহ.) তাঁর ‘আল-মাজমু’ কিতাবে উল্লেখ করেছেন যে, সন্তান জন্মের পর মারা গেলেও তার পক্ষ থেকে আকিকা করা বৈধ (৮/৪১২)। তবে ‘আল-মাওসুআতুল ফিকহিয়্যাহ’ অনুযায়ী, যেহেতু আকিকার একটি উদ্দেশ্য শিশুর পার্থিব নিরাপত্তা ও সুস্থতা, তাই শিশুর মৃত্যুর পর এই মাকসাদটি আর বিদ্যমান থাকে না। (৩০/২৭৭)

‘মুরতাহান’ বা বন্ধক হাদিসের ব্যাখ্যা

একটি হাদিসে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (স.) বলেন- ‘প্রত্যেক শিশু তার আকিকার সাথে দায়বদ্ধ (মুরতাহান) থাকে।’ (ইবনে মাজাহ: ৩১৬৫)
এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমদের মধ্যে একাধিক মত রয়েছে এবং এটি নিয়ে তাত্ত্বিক আলোচনা বিদ্যমান। কিছু আলেমের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সন্তানের সুপারিশ বা শাফায়াতের বিষয়টি আকিকার সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে পারে। অর্থাৎ, আকিকা করা হলে সন্তান কেয়ামতের দিন বাবা-মায়ের জন্য সুপারিশ করার সুযোগ পায়। যদিও অনেক মুহাদ্দিস একে প্রতীকী অর্থেও ব্যাখ্যা করেছেন, তবুও সুপারিশ লাভের আশায় অনেক অভিভাবক মৃত সন্তানের পক্ষ থেকেও আকিকা করাকে উত্তম মনে করেন।

অভিভাবকের করণীয় ও সিদ্ধান্ত

দালিলিক আলোচনার প্রেক্ষিতে সিদ্ধান্তগুলো নিম্নরূপ:
মৃত সন্তানের বা সন্তান জন্মের পর সপ্তম দিন আসার আগে মারা গেলে আকিকা করা জরুরি নয়। (দ্র. ফতোয়ায়ে রহিমিয়া: ১০/৬২)
তবে কেউ যদি মৃত সন্তানের পক্ষ থেকে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় বা সুপারিশের প্রত্যাশায় আকিকা করেন, তবে তা জায়েজ এবং এতে সওয়াব রয়েছে। (ইলাউস সুনান: ১৭/১১৪)
আকিকা করার মূল দায়িত্ব পিতার। তবে সামর্থ্য না থাকলে আকিকা না দিলে কোনো গুনাহ হবে না।

অতএব, সন্তান মারা যাওয়ার পর আকিকা করা শরিয়তে বাধ্যতামূলক কোনো বিষয় নয়, তবে এটি একটি ঐচ্ছিক ও সওয়াবের কাজ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com