[ঢাকা, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৫] দেশের বাজারে নিজেদের নতুন হাইব্রিড এসইউভি সিরিজ আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচন করেছে স্বনামধন্য গাড়ির ব্র্যান্ড এমজি বাংলাদেশ। আজ ১৭ জানুয়ারি, শনিবার, এমজি বাজারে এনেছে এমজি এইচএস হাইব্রিড প্লাস এবং এমজি এইচএস সুপার হাইব্রিড (প্লাগ-ইন হাইব্রিড) মডেল। দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব গাড়ির ব্যবহার বাড়ানোর পথে এটি এমজি’র একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
নতুন এই হাইব্রিড এসইউভিগুলোর মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৯ লাখ টাকা থেকে। জ্বালানি দক্ষতা, কম কার্বন নিঃসরণ এবং দেশের দৈনন্দিন ব্যবহার উপযোগী আধুনিক সুবিধার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে এই মডেলগুলো।
এমজি এইচএস হাইব্রিড প্লাস মডেলটি তৈরি করা হয়েছে দৈনন্দিন ব্যবহার ও স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে। গাড়িটিতে রয়েছে একটি স্মার্ট হাইব্রিড পাওয়ার সিস্টেম, যা সর্বোচ্চ ২২১.৩ বিএইচপি শক্তি উৎপাদন করতে সক্ষম। চালানোর পরিস্থিতি অনুযায়ী গাড়িটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিদ্যুৎ ও পেট্রোল মোডের মধ্যে পরিবর্তন করে। বাস্তব ব্যবহারে এই মডেলটির জ্বালানি দক্ষতা লিটারপ্রতি প্রায় ২৩.৮ কিলোমিটার পর্যন্ত পাওয়া যাবে। ফলে শহরের ভেতর এবং দীর্ঘ ভ্রমণ—দুই ক্ষেত্রেই এটি কার্যকর।
অন্যদিকে, এমজি এইচএস সুপার হাইব্রিড বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড মডেলটি তুলনামূলকভাবে আরও উন্নত বৈদ্যুতিক সুবিধা নিয়ে এসেছে। ৫৯ লাখ টাকা মূল্যের এই গাড়িতে রয়েছে ২৪.৭ কিলোওয়াট-আওয়ার ক্ষমতার ব্যাটারি। একবার সম্পূর্ণ চার্জ দিলে শুধুমাত্র বিদ্যুৎ ব্যবহার করে ১২০ কিলোমিটারেরও বেশি পথ চলতে পারে গাড়িটি। প্রতিদিনকার স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে এতে কোনো কার্বন নিঃসরণ হয় না। আবার ব্যাটারি ও পূর্ণ জ্বালানি ট্যাংকের সম্মিলিত ব্যবহারে গাড়িটির মোট চলার সক্ষমতা ১ হাজার কিলোমিটারেরও বেশি।
মডেলের সঙ্গে অতিরিক্ত সুবিধা হিসেবে একটি ৭.৪ কিলোওয়াট হোম চার্জিং স্টেশন বিনামূল্যে দিচ্ছে এমজি বাংলাদেশ। এর জন্য ক্রেতাদের কোনো অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হবে না।
উন্মোচন অনুষ্ঠানে এমজি বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হোসেন মাশনুর চৌধুরী বলেন, “আজকের এই আয়োজন শুধু নতুন দুটি গাড়ি বাজারে আনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি বাংলাদেশের টেকসই ও আধুনিক পরিবহন ব্যবস্থার ভবিষ্যৎ গঠনে এমজি’র দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকারের প্রতিফলন। তিনি বলেন, এইচএস হাইব্রিড প্লাস ও এইচএস সুপার হাইব্রিড মডেলের মাধ্যমে আমরা গ্রাহকদের জন্য উন্নত প্রযুক্তি, উচ্চ জ্বালানি দক্ষতা এবং প্রিমিয়াম স্বাচ্ছন্দ্য। হাইব্রিড এসইউভি গাড়ির খাতে এ মডেলগুলো নতুন এক মানদণ্ড স্থাপন করবে।”
এমজি বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ মোস্তাফিজুর রশিদ ভূইয়া বলেন, “নতুন এই হাইব্রিড মডেলগুলো এমজি’র উদ্ভাবনী কৌশলের ধারাবাহিকতাকে ধরে রেখেছে। গ্রাহকদের ইতিবাচক সাড়া প্রমাণ করে, বাংলাদেশ এখন পরবর্তী প্রজন্মের স্মার্ট মোবিলিটির জন্য প্রস্তুত। এইচএস সিরিজ সি-সেগমেন্ট এসইউভি ক্যাটাগরিতে প্রত্যাশার নতুন মাপকাঠি তৈরি করবে।”
ডিজাইন ও ফিচারের দিক থেকেও নতুন এইচএস সিরিজে রয়েছে আধুনিকতার ছোঁয়া। গাড়ির ভেতরে রয়েছে ১২.৩ ইঞ্চির একটি ইনফোটেইনমেন্ট টাচস্ক্রিন এবং একই আকারের ডিজিটাল ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। এসব প্রযুক্তি সঠিক দিকনির্দেশনা, কানেক্টিভিটি এবং ব্যবহারবান্ধব নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করবে। ২৭২০ মিলিমিটার হুইলবেসের কারণে গাড়ির ভেতরে পর্যাপ্ত জায়গা ও আরামদায়ক যাত্রা নিশ্চিত করা হয়েছে। ১৭৬ মিলিমিটার গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স থাকায় দেশের বিভিন্ন ধরনের সড়ক পরিস্থিতিতে গাড়ি চালানো সহজ হবে। গাড়ির বাইরের অংশে রয়েছে ১৯ ইঞ্চি অ্যালয় হুইল, এলইডি লাইটিং এবং এমজি’র বর্তমান বৈশ্বিক এসইউভি ডিজাইনের ছাপ।
নিরাপত্তা ও ব্যবহারিক সুবিধার ওপর বাড়তি জোর দেওয়া হয়েছে এইচএস সিরিজে। গাড়িগুলোর বুট স্পেস প্রায় ৫০৭ লিটার, যা সিট ভাঁজ করলে ১ হাজার ৪৮৪ লিটারের বেশি করা সম্ভব। স্ট্যান্ডার্ড নিরাপত্তা ফিচারের মধ্যে রয়েছে সাতটি এয়ারব্যাগ, এমজি পাইলট এডিএএস লেভেল–২, পিএম ২.৫ এয়ার ফিল্ট্রেশন সিস্টেম এবং উন্নত মানের মাল্টি-স্পিকার সাউন্ড সিস্টেম। যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও আরামদায়ক ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা নিশ্চিত করবে অত্যাধুনিক এসব ফিচার।








