সংগৃহীত ছবি
অনলাইন ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, বাংলাদেশের পাট শিল্পে বৃহৎ পরিসরে বিনিয়োগের আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীন। দেশের ঐতিহ্যবাহী ও সম্ভাবনাময় এই খাতকে কেন্দ্র করে চীনা উদ্যোক্তারা কাঁচাপাট থেকে শুরু করে প্রস্তুত পাটপণ্য পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও আধুনিক উৎপাদন সুবিধা গড়তে চান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই আগ্রহ বাস্তবায়িত হলে পাট শিল্পে নতুন কর্মসংস্থান, রপ্তানি আয় এবং সামগ্রিক অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য গতি আসবে।
রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে বাংলাদেশ কৃষি সাংবাদিক ফোরাম (বিএজেএফ) আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘কৃষি ও খাদ্যে রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ শীর্ষক আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও কর্মশালার দ্বিতীয় দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, জুট ডাইভারসিফিকেশন নিয়ে যত কথা বলা হোক, বাস্তবে অগ্রগতি তেমন নেই। কারণ জুট রটিং বা পচানো এখন আর কেউ করতে চান না; পুরনো কষ্টকর পদ্ধতি মানুষের আগ্রহ কমিয়ে দিয়েছে। কিন্তু চীনা বিনিয়োগকারীরা আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশে এক মিলিয়ন টন জুট প্রক্রিয়াকরণ, বায়োফার্টিলাইজার, এনার্জি এবং সাশ্রয়ী প্লাস্টিকের বিকল্প তৈরি করতে আগ্রহী। সঠিক প্রযুক্তি যুক্ত হলে জুট আবারও বৃহৎ বৈশ্বিক বাজার দখল করতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের গতিপথ, ভবিষ্যৎ এবং রাষ্ট্র হিসেবে আমাদের যাত্রা—সবকিছুই বড়ভাবে নির্ধারণ করে কৃষি খাত। কৃষি শুধু খাদ্য নিরাপত্তা নয়, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, বৈদেশিক সম্পর্ক এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতাকেও গভীরভাবে প্রভাবিত করে।
১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, স্বাধীনতার ৫৪ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে ভয়াবহ বছর ছিল ১৯৭৪। ড. নামি হোসেনের সাম্প্রতিক গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, সে দুর্ভিক্ষে প্রায় ১৫ লাখ মানুষ মারা গিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, ইতিহাস বলে ১৯৭৭ সালে দেশে বড় বন্যা ও বৈশ্বিক বাজারে সংকট ছিল। এই পরিস্থিতিতেও জেনারেল জিয়া খাদ্য মজুদের দিকে মনোযোগ দেন এবং লক্ষাধিক টন খাদ্য আমদানি করে সংকট কাটান।
শফিকুল আলম জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ৬–৮ মিলিয়ন টন খাদ্য ঘাটতি পূরণে আন্তর্জাতিক বাজারের ওপর নির্ভরশীল। অথচ ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা কিংবা কোনো দেশের হঠাৎ রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে খাদ্য আমদানি কঠিন হয়ে পড়ে। তাই খাদ্য নিরাপত্তার জন্য শক্তিশালী রিজার্ভ, পর্যাপ্ত স্টক এবং দ্রুত আমদানির সক্ষমতা অত্যন্ত জরুরি।







