ঢাকা, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬: ওয়ানএআই চালু করল দেশের শীর্ষস্থানীয় টেলিযোগাযোগ সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গ্রামীণফোন। এখন থেকে মাইজিপি অ্যাপে একটিমাত্র ইন্টারফেস এবং সাবস্ক্রিপশনের মাধ্যমে ব্যবহার করা যাবে একাধিক এআই মডেল ও টুল। বাংলাদেশে এআই ব্যবহার আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে গ্রামীণফোনের পথযাত্রায় এই উদ্যোগ এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য অত্যাধুনিক এআই টুল-গুলোকে আরও সহজ, সুলভ ও সাশ্রয়ী করে তোলার লক্ষ্যে চালু হওয়া ওয়ানএআই প্ল্যাটফর্মে ব্যবহার করা যাবে চ্যাটজিপিটি, ক্লড, গ্রক, ডিপসিক, জেমিনাইসহ আরও অনেক শীর্ষস্থানীয় এআই মডেল।
একাধিক এআই প্ল্যাটফর্ম ও সাবস্ক্রিপশন আলাদাভাবে ব্যবহার করার প্রয়োজনীয়তা দূর করে ওয়ানএআই গ্রাহককে দেবে দৈনন্দিন বিভিন্ন প্রয়োজনে নির্বিঘ্নে এআই ব্যবহারের সুযোগ; যার মধ্যে রয়েছে শেখা ও গবেষণা, কনটেন্ট লেখা, কোডিং ও সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, সৃজনশীল কাজ, এআই দিয়ে ছবি তৈরি, ডকুমেন্ট বিশ্লেষণ ও সারসংক্ষেপ তৈরিসহ অন্যান্য এআইনির্ভর কাজ।
গ্রামীণফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই ডে’ উপলক্ষ্যে জিপিহাউসে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ওয়ানএআই সেবার উদ্বোধন ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ। গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ইয়াসির আজমান, গ্রামীণফোন ম্যানেজমেন্ট টিম ও কর্মীদের উপস্থিতিতে সেবাটির উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ওয়ানএআই লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সাবিরুল হক।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন,” আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের ডিজিটাল অর্থনীতির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে এবং দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপ বাস্তবায়নে এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার যে লক্ষ্য আমাদের রয়েছে, তা অর্জনে এআই-এর ভূমিকা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের অর্থনীতি, শিল্প খাত ও সমাজব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন নিয়ে এসেছে। তাই এআই-এর এই সম্ভাবনাকে গ্রহণ ও কার্যকরভাবে কাজে লাগানোর সক্ষমতা বাংলাদেশের অগ্রযাত্রার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ানএআই-এর মতো বিশেষ উদ্যোগের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে এআই-কে সহজলভ্য করে তুলতে গ্রামীণফোনের এমন অগ্রণী ভূমিকা দেখে আমি অত্যন্ত আশাবাদী। বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের জন্য এটি সাশ্রয়ী উপায়ে এআই টুল ব্যবহারের সুযোগ তৈরি করবে, যা তাদের পড়াশোনা, গবেষণা এবং দক্ষতা বৃদ্ধিতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এ ধরনের উদ্যোগ দেশে এআই-এর প্রসার ত্বরান্বিত করবে এবং বাংলাদেশের ডিজিটাল রূপান্তরের গতিকে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাবে, তা দেখার প্রত্যাশায় রয়েছি।“
গ্রামীণফোনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ইয়াসির আজমান বলেন, “এই উদ্যোগের মাধ্যমে আরও বড় পরিসরে গ্রামীনফোনের ‘এআই অ্যান্ড আই’ যাত্রার পরবর্তী ধাপের সূচনা হল। এখন আমাদের জন্য এআই আর কোনো পরীক্ষামূলক বিষয় নয়। স্বয়ংক্রিয় নেটওয়ার্ক এবং হাইপার-পারসোনালাইজড সেবা থেকে শুরু করে এআই-ভিত্তিক গ্রাহকসেবা পর্যন্ত, আমাদের কর্মী, সার্বিক কার্যক্রম ও গ্রাহক অভিজ্ঞতার সর্বস্তরে এআই-এর প্রয়োগ প্রতিনিয়ত আরও বিস্তৃত ও সুদৃঢ় হচ্ছে। আমরা বিশ্বাস করি, ভবিষ্যৎ কেবল এআই-এর একার নয়; বরং ভবিষ্যৎ সেই মানুষদের, যারা দায়িত্বশীলতার সাথে ও ইতিবাচক উদ্দেশ্যে এআই প্রযুক্তিকে কাজে লাগাবে। গ্রামীণফোনের ভেতরে আমরা যেমন ভবিষ্যৎ-উপযোগী সক্ষমতা তৈরি করছি, তেমনি এই লক্ষ্যকে প্রতিষ্ঠানের বাইরেও ছড়িয়ে দিচ্ছি। মাইজিপি অ্যাপে ওয়ানএআই যুক্ত করার মাধ্যমে আমরা কোটি কোটি গ্রাহকের—বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের—হাতে এআই-এর সম্ভাবনা সরাসরি পৌঁছে দিচ্ছি, যা শেখা, কাজ, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের পথকে আরও সহজ করে তুলবে। পাশাপাশি, গ্রামীণফোন একাডেমি ও ফিউচারমেকার্সের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা শিক্ষার্থী ও তরুণদের এআই দক্ষতা তৈরি করতে এবং তাদের উদ্ভাবনী ভাবনাকে অর্থপূর্ণ সমাধানে রূপান্তর করতে সহায়তা করছি। আমাদের লক্ষ্য হলো আরও বেশি মানুষকে দায়িত্বশীলভাবে এআই ব্যবহারে সক্ষম করে তোলা, যা বাংলাদেশের জন্য একটি নিরাপদ ও স্মার্ট আগামী গড়তে সাহায্য করবে।”
গ্রামীণফোন গ্রাহকরা মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমে সরাসরি ‘ওয়ানএআই’ ব্যবহার করতে পারবেন এবং তাঁদের মোবাইল ব্যালেন্সের মাধ্যমে পছন্দসই বিভিন্ন প্যাকেজ কিনতে পারবেন। শিক্ষার্থীদের জন্য প্যাকেজ শুরু হচ্ছে প্রতি মাসে মাত্র ৭১ টাকা থেকে; যার মাধ্যমে আনলিমিটেড এআই চ্যাটের পাশাপাশি গবেষণা, অ্যাসাইনমেন্ট, প্রেজেন্টেশন এবং কোডিং সহায়তার সুবিধা পাওয়া যাবে।








