শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সহজ ৬ টিপস

ছবি সংগৃহীত

 

লাইফস্টাইল ডেস্ক :শিশুদের ঘুম পাড়ানো প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে যেন বিশাল এক যুদ্ধ। আবার সকালে তাদের জাগিয়ে তোলাও যেন আরেক চ্যালেঞ্জ। সন্তানকে ঘুম পাড়ানো ও জাগিয়ে তোলার এই চিত্র প্রায় প্রতিটি পরিবারেই দেখা যায়। শিশুর ঘুমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভিভাবকের ঘুমও। দেখা যায়, শিশুকে ঘুম পাড়াতে যেয়ে বাবা-মায়েদের ঘুমেরও বারোটা বেজে গেছে। আর এজন্য মূলত মোবাইল ফোন বা শিশুর জেদকে দায়ী করে থাকেন অনেকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, শিশু সারাদিন, বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা কী করছে সেসব কার্যকলাপ তার ঘুমের সময় এবং মানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন ঘুমের আগে এই ৬টি অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারলে আপনার শিশু সহজেই ঘুমাতে পারবে। চলুন জেনে নিই সেগুলো-

১. রাতে ঘুমানোর আগে ডিভাইস ব্যবহার না করা: আজকাল শিশুদের মধ্যে ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। রাতে ঘুমানো আগে প্রায় সব শিশুই মোবাইল, ট্যাবলেট, টিভি কিংবা গেম খেলার জন্য ডিভাইস ব্যবহার করে। কেউ কেউ তো ফোনের স্ক্রিন দেখতে দেখতেই ঘুমিয়ে পড়ে। এসব ডিভাইস শিশুর মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে শিশুর স্ক্রিনটাইম  বন্ধ করে দিন।

২. ঘুমের সময় ঠিক করা: বাসার বড়রা জেগে থাকলে শিশু একা ঘুমাতে চাইবে না। মানুষের চলাচল ও শব্দ শিশুর মনোযোগ নষ্ট করে। তাই রুমের আলো নিভিয়ে শিশুর সঙ্গে আপনিও ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. ছুটির দিনেও একই সময়ে ঘুমান: অনেকে ছুটির দিনে প্রাত্যহিক রুটিন বদলে ফেলেন। এ কাজটি ভুলেও করবেন না। এতে করে শিশুর ‘বডি ক্লক’ বা শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৪. বিছানাকে শুধু ঘুমানোর জন্যই ব্যবহার করুন: বিছানায় বসে পড়াশোনা করা, ভিডিয়ো দেখা, গেম খেলা, খাওয়া-দাওয়া বা আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। এসব অভ্যাসও ত্যাগ করতে হবে। এ ধরনের অভ্যাস শিশুর মস্তিষ্কে বিছানার সঙ্গে ঘুমের পরিবর্তে অন্য কাজের সম্পর্ক তৈরি করে। তাই বিছানায় শুয়ে থাকলেও শিশুর ঘুম আসে না।

৫. ঘুমানোর আগে শিশুকে শান্ত পরিবেশ দিন: অনেকেই মনে করেন শিশুকে সারাদিন টিউশন, স্কুলের হোমওয়ার্ক, খেলাধুলোসহ নানা কাজে ব্যস্ত রাখলে রাতে সে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। এই ধারণাটা ভুল। অতিরিক্ত ব্যস্ততা শিশুর মানসিক চাপ বাড়ায়। তাই ঘুমের আগে শিশুর জন্য একটি শান্ত পরিবেশ ও সময় নিশ্চিত করুন। এর জন্য বই পড়া কিংবা গল্প শোনানো সেরা কাজ হতে পারে।

৬. রাতে ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন: রাতের বেলায় বেভারেজ জাতীয় পানীয়, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং কড়া লিকারের এড়িয়ে চলুন। এসব খাবার কিশোর-কিশোরীদের ঘুমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া, রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

শিশুদের দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত?

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অভ স্লিপ মেডিসিন (এএএসএম) শিশুদের ঘুম নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় ৮৬৪টি প্রকাশিত গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে তারা জানান, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য দৈনিক ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।

গবেষকরা আরও জানান, যেসব শিশুরা পর্যাপ্ত ঘুমায় অন্যান্য শিশুদের চেয়ে তাদের মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়, আচরণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা  বাড়ে এবং তাদের স্মৃতিশক্তিও প্রখর হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» অপমান করল পরে ক্ষমাও চাইল না, কী করবেন?

» শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সহজ ৬ টিপস

» গাজীপুরে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে গালিগালাজ, কলেজশিক্ষার্থী গ্রেফতার

» জাতীয় দলে দেশি কোচদের মেয়াদ আরও বাড়ছে!

» মাছ-সবজির দামে অস্বস্তিতে ক্রেতা

» যুবককে গুলি করে হত্যা

» শুভ জন্মাষ্টমী আজ

» হোয়াটসঅ্যাপে ব্যক্তিগত চ্যাট লুকিয়ে রাখবেন যেভাবে

» নতুন নিষেধাজ্ঞায় ক্ষেপে গিয়ে ইরান আরও চরম পদক্ষেপ নিতে পারে: ইসরায়েল

» রাজশাহী-নাটোরের মধ্যে আবারও বাস চলাচল বন্ধ

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

শিশুকে ঘুম পাড়ানোর সহজ ৬ টিপস

ছবি সংগৃহীত

 

লাইফস্টাইল ডেস্ক :শিশুদের ঘুম পাড়ানো প্রতিটি বাবা-মায়ের কাছে যেন বিশাল এক যুদ্ধ। আবার সকালে তাদের জাগিয়ে তোলাও যেন আরেক চ্যালেঞ্জ। সন্তানকে ঘুম পাড়ানো ও জাগিয়ে তোলার এই চিত্র প্রায় প্রতিটি পরিবারেই দেখা যায়। শিশুর ঘুমের সঙ্গে জড়িয়ে আছে অভিভাবকের ঘুমও। দেখা যায়, শিশুকে ঘুম পাড়াতে যেয়ে বাবা-মায়েদের ঘুমেরও বারোটা বেজে গেছে। আর এজন্য মূলত মোবাইল ফোন বা শিশুর জেদকে দায়ী করে থাকেন অনেকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাদের মতে, শিশু সারাদিন, বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা কী করছে সেসব কার্যকলাপ তার ঘুমের সময় এবং মানের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। তাই প্রতিদিন ঘুমের আগে এই ৬টি অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে পারলে আপনার শিশু সহজেই ঘুমাতে পারবে। চলুন জেনে নিই সেগুলো-

১. রাতে ঘুমানোর আগে ডিভাইস ব্যবহার না করা: আজকাল শিশুদের মধ্যে ডিভাইস ব্যবহারের প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। রাতে ঘুমানো আগে প্রায় সব শিশুই মোবাইল, ট্যাবলেট, টিভি কিংবা গেম খেলার জন্য ডিভাইস ব্যবহার করে। কেউ কেউ তো ফোনের স্ক্রিন দেখতে দেখতেই ঘুমিয়ে পড়ে। এসব ডিভাইস শিশুর মস্তিষ্ককে সক্রিয় রাখে। তাই ঘুমানোর অন্তত ৩০ থেকে ৬০ মিনিট আগে শিশুর স্ক্রিনটাইম  বন্ধ করে দিন।

২. ঘুমের সময় ঠিক করা: বাসার বড়রা জেগে থাকলে শিশু একা ঘুমাতে চাইবে না। মানুষের চলাচল ও শব্দ শিশুর মনোযোগ নষ্ট করে। তাই রুমের আলো নিভিয়ে শিশুর সঙ্গে আপনিও ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলুন।

৩. ছুটির দিনেও একই সময়ে ঘুমান: অনেকে ছুটির দিনে প্রাত্যহিক রুটিন বদলে ফেলেন। এ কাজটি ভুলেও করবেন না। এতে করে শিশুর ‘বডি ক্লক’ বা শরীরের স্বাভাবিক ঘড়ি নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

৪. বিছানাকে শুধু ঘুমানোর জন্যই ব্যবহার করুন: বিছানায় বসে পড়াশোনা করা, ভিডিয়ো দেখা, গেম খেলা, খাওয়া-দাওয়া বা আড্ডা দেওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকের। এসব অভ্যাসও ত্যাগ করতে হবে। এ ধরনের অভ্যাস শিশুর মস্তিষ্কে বিছানার সঙ্গে ঘুমের পরিবর্তে অন্য কাজের সম্পর্ক তৈরি করে। তাই বিছানায় শুয়ে থাকলেও শিশুর ঘুম আসে না।

৫. ঘুমানোর আগে শিশুকে শান্ত পরিবেশ দিন: অনেকেই মনে করেন শিশুকে সারাদিন টিউশন, স্কুলের হোমওয়ার্ক, খেলাধুলোসহ নানা কাজে ব্যস্ত রাখলে রাতে সে তাড়াতাড়ি ঘুমিয়ে পড়বে। এই ধারণাটা ভুল। অতিরিক্ত ব্যস্ততা শিশুর মানসিক চাপ বাড়ায়। তাই ঘুমের আগে শিশুর জন্য একটি শান্ত পরিবেশ ও সময় নিশ্চিত করুন। এর জন্য বই পড়া কিংবা গল্প শোনানো সেরা কাজ হতে পারে।

৬. রাতে ভারী খাবার ও ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন: রাতের বেলায় বেভারেজ জাতীয় পানীয়, অতিরিক্ত ক্যাফেইন এবং কড়া লিকারের এড়িয়ে চলুন। এসব খাবার কিশোর-কিশোরীদের ঘুমে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এছাড়া, রাতে ঘুমানোর অন্তত ৩ ঘণ্টা আগে খাওয়ার অভ্যাস করুন।

শিশুদের দৈনিক কত ঘণ্টা ঘুমানো উচিত?

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অভ স্লিপ মেডিসিন (এএএসএম) শিশুদের ঘুম নিয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছে। প্রায় ৮৬৪টি প্রকাশিত গবেষণাপত্র পর্যালোচনা করে তারা জানান, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী শিশুদের শারীরিক এবং মানসিক বিকাশের জন্য দৈনিক ৯ থেকে ১২ ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। আর ১৩ থেকে ১৮ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীদের প্রয়োজন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা।

গবেষকরা আরও জানান, যেসব শিশুরা পর্যাপ্ত ঘুমায় অন্যান্য শিশুদের চেয়ে তাদের মনোযোগ ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পায়, আচরণ নিয়ন্ত্রণে থাকে, নতুন কিছু শেখার ক্ষমতা  বাড়ে এবং তাদের স্মৃতিশক্তিও প্রখর হয়।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com