ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত সশস্ত্র বাহিনীর এক বিবৃতিতে বলা হয়, কুয়েতের আহমদ আল-জাবের বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর উপগ্রহ যোগাযোগ ব্যবস্থা, সামরিক সরঞ্জাম ডিপো এবং যুদ্ধবিমানের হ্যাঙ্গার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। পাশাপাশি সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল মিনহাদ বিমানঘাঁটিতে মার্কিন বাহিনীর অবস্থান ও রাডার সিস্টেমেও আক্রমণ চালিয়েছে ইরানি বাহিনী।
অন্যদিকে, সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক বার্তায় কুয়েতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। একে স্পষ্ট ইরানি আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করেছে দেশটি। এর আগের দিন বাহরাইন ও জর্ডানও তাদের ভূখণ্ডে ইরানের একাধিক হামলা প্রতিহত করার কথা জানায়।
চলতি সপ্তাহে প্রণালীতে খনি স্থাপনের চেষ্টার অভিযোগে হরমুজ প্রণালির একটি দ্বীপে ইরানি রকেট লঞ্চারে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দু’দেশের সংঘাত আরও বেড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন স্বাভাবিক করার দাবি করলেও বাস্তবে পরিস্থিতি উল্টো। হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল যুদ্ধপূর্ব পরিস্থিতির চেয়ে অনেক নিচে রয়েছে, যার ফলে মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের বৃদ্ধি পেয়েছে।
হামলায় ইরান ব্যবহার করছে ‘খাইবার শেকান’ নামক মাঝারি পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। সলিড ফুয়েল বা কঠিন জ্বালানিতে চলা অত্যন্ত নির্ভুল ও দ্রুত উৎক্ষেপণযোগ্য এই ক্ষেপণাস্ত্রগুলোকে ধ্বংস করা মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কোরের (আইআরজিসি) মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেন মোহেব্বি জানান, ইরানের সামরিক উৎপাদন ও মজুদ ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সচল রয়েছে।
এদিকে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ এক অনুষ্ঠানে বলেন, নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা কার্যকর মনে হলেও এ থেকে সৃষ্ট অর্থনৈতিক চাপ এবং সরকার পতনের ভয় তেহরানকে মরিয়া কোনো পদক্ষেপে বাধ্য করতে পারে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইসরায়েলে আক্রমণ করা হলে ইরানকে মধ্যযুগীয় যুগে ঠেলে দেওয়া হবে এবং তাদের সমস্ত জাতীয় সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান








