মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। তার পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো

‘আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন।

২০১৮ সালে আমার প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়।

সে বছর নির্বাচনের আগে উনি আমার মতো তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে ভিডিও করেছিলেন। শুরু করেছিলেন এভাবে, ‘আপনারা যারা এবারে প্রথম ভোট দেবেন, তাদেরকে আমি কিছু বলতে চাই।’

মানুষটা সুবক্তা। রাজনীতিতে আসার আগে শিক্ষক ছিলেন, কথা শুনলে সেটা বোঝা যেত। সবাই বলছিল ভোট চুরি হবে। উনি বলেছিলেন- কেন্দ্রে গিয়ে দেখিয়ে দিন ‘আপনারাই দেশের মালিক’, ‘ইউ ম্যাটার’।

ওনার কথা মনে করেই খিলগাঁওয়ে আমাদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলাম। সকালেই বুঝতে পারি কত বড় কারচুপি হচ্ছে।

এতো কিছুর পরও উনি নিজের আসনে জিতেছিলেন। কিন্তু সংসদে যান নাই। কারচুপির ভোটে গড়া সংসদে তিনি বসতে চান নাই।

ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দূরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না। বরং ক্ষমতার চেয়ার পেতে সব নীতি বিকিয়ে দেন। উনি এখানে অনন্য।

যে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, বার বার তাকে জেলে পাঠিয়েছে, তারা পনেরো বছরেও তার নামে দুর্নীতির একটা মামলা দাঁড় করাতে পারেন নাই।

কোনোদিন মনে হয় নাই মানুষটা টাকা বানানোর জন্য রাজনীতিতে এসেছেন।

রাজনীতিতে আসার পর অনেক প্রবীণ মানুষের পরামর্শ চেয়েছি, রাজনীতির ভেতরের এবং বাইরের। স্যারের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে, ওনার রাজনৈতিক জীবনের শিক্ষা নিয়ে জানতে চেয়েছি। অকপটে সব বলেছেন। কোন বইগুলো পড়া দরকার, নাম বলে দিয়েছেন। নিজের বই দিয়ে দিয়েছেন।

আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে এমন মানুষ বেশি পাবেন না, যিনি আপনার সঙ্গে বই নিয়ে কথা বলবেন, বা আপনাকে বই পড়তে দেবেন। কোন মানুষটা রাজনীতিকে কী মনে করেন, এই ছোট জিনিসগুলোতেই সেটা ধরা পড়ে।

আজ তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসলেন।

আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের সময়। এই পদটা সেই মুহূর্তগুলোর বড় বড় সংকটের কেন্দ্রে ছিল। আবার এই পদটাই কোনো কোনো সময়ে দেশকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে। পার্থক্যটা তৈরি হয়েছে চেয়ারে বসা মানুষটার চরিত্র কেমন, তার উপর।

আমার বিশ্বাস ওনার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদটার সম্মান, মর্যাদা আর রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। মানুষটাকে যতটুকু জেনেছি, আশা রাখতে চাই।

আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না। বাংলাদেশের।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» বিপর্যস্ত স্বপ্ন

» দুই সন্তান নিয়ে ৮ বছর লিভ-ইন, অবশেষে গোপন বিয়ে অভিনেতার

» যারা বাংলাদেশকে ধারণ করে না, তাদের মাধ্যমেই বড় বড় দুর্নীতি হয়: সাদিক কায়েম

» মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট

» রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবকে স্বাগত জানিয়ে ঢাবিতে ছাত্রদলের মিছিল

» ভারত সফর হতে হবে সমতার, সমমর্যাদার ও বন্ধুত্বের: জামায়াত আমির

» স্থানীয় সরকার মন্ত্রী হচ্ছেন ড. আবদুল মঈন খান

» ধর্ম প্রতিমন্ত্রী হচ্ছেন শামীম কায়সার লিংকন

» তথ্যমন্ত্রী হচ্ছেন ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ

» প্রশাসনের উদাসীনতায় বুলবুলকে প্রাণ দিতে হলো: চরমোনাই পীর

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মির্জা ফখরুল রাষ্ট্রপতির শপথ গ্রহণের পর তাসনিম জারার দীর্ঘ পোস্ট

ফাইল ছবি

 

অনলাইন ডেস্ক : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেছেন। এরপরই তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দীর্ঘ এক স্ট্যাটাস দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক নেত্রী ডা. তাসনিম জারা।

শুক্রবার (২১ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে তিনি এ স্ট্যাটাস দেন। তার পোস্টটি পাঠকদের জন্য হুবহু দেওয়া হলো

‘আজ মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্যার রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিলেন।

২০১৮ সালে আমার প্রথম ভোট দেওয়ার সুযোগ হয়।

সে বছর নির্বাচনের আগে উনি আমার মতো তরুণ ভোটারদের উদ্দেশে ভিডিও করেছিলেন। শুরু করেছিলেন এভাবে, ‘আপনারা যারা এবারে প্রথম ভোট দেবেন, তাদেরকে আমি কিছু বলতে চাই।’

মানুষটা সুবক্তা। রাজনীতিতে আসার আগে শিক্ষক ছিলেন, কথা শুনলে সেটা বোঝা যেত। সবাই বলছিল ভোট চুরি হবে। উনি বলেছিলেন- কেন্দ্রে গিয়ে দেখিয়ে দিন ‘আপনারাই দেশের মালিক’, ‘ইউ ম্যাটার’।

ওনার কথা মনে করেই খিলগাঁওয়ে আমাদের কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়েছিলাম। সকালেই বুঝতে পারি কত বড় কারচুপি হচ্ছে।

এতো কিছুর পরও উনি নিজের আসনে জিতেছিলেন। কিন্তু সংসদে যান নাই। কারচুপির ভোটে গড়া সংসদে তিনি বসতে চান নাই।

ক্ষমতার চেয়ার পেয়েও শুধু নীতির জন্য তা দূরে ঠেলে দিতে সবাই পারেন না। বরং ক্ষমতার চেয়ার পেতে সব নীতি বিকিয়ে দেন। উনি এখানে অনন্য।

যে আওয়ামী লীগ সরকার তাকে শেষ করে দিতে চেয়েছিল, বার বার তাকে জেলে পাঠিয়েছে, তারা পনেরো বছরেও তার নামে দুর্নীতির একটা মামলা দাঁড় করাতে পারেন নাই।

কোনোদিন মনে হয় নাই মানুষটা টাকা বানানোর জন্য রাজনীতিতে এসেছেন।

রাজনীতিতে আসার পর অনেক প্রবীণ মানুষের পরামর্শ চেয়েছি, রাজনীতির ভেতরের এবং বাইরের। স্যারের সঙ্গে যতবার কথা হয়েছে, ওনার রাজনৈতিক জীবনের শিক্ষা নিয়ে জানতে চেয়েছি। অকপটে সব বলেছেন। কোন বইগুলো পড়া দরকার, নাম বলে দিয়েছেন। নিজের বই দিয়ে দিয়েছেন।

আমাদের রাজনীতির অঙ্গনে এমন মানুষ বেশি পাবেন না, যিনি আপনার সঙ্গে বই নিয়ে কথা বলবেন, বা আপনাকে বই পড়তে দেবেন। কোন মানুষটা রাজনীতিকে কী মনে করেন, এই ছোট জিনিসগুলোতেই সেটা ধরা পড়ে।

আজ তিনি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে বসলেন।

আমাদের রাজনীতির সবচেয়ে বিপজ্জনক মুহূর্ত হচ্ছে ক্ষমতার পালাবদলের সময়। এই পদটা সেই মুহূর্তগুলোর বড় বড় সংকটের কেন্দ্রে ছিল। আবার এই পদটাই কোনো কোনো সময়ে দেশকে স্থিতিশীলতা দিয়েছে। পার্থক্যটা তৈরি হয়েছে চেয়ারে বসা মানুষটার চরিত্র কেমন, তার উপর।

আমার বিশ্বাস ওনার কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি পদটার সম্মান, মর্যাদা আর রাষ্ট্রে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে। মানুষটাকে যতটুকু জেনেছি, আশা রাখতে চাই।

আজ থেকে তিনি আর তার দলের কেউ না। বাংলাদেশের।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com