রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে কি অমঙ্গল হয়?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে অমঙ্গল হয়, সংসারে অভাব আসে কিংবা রিজিক কমে যায়-এমন কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত। অনেকে মনে করেন, রাতে ঘর পরিষ্কার করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। আসলে এ ধারণার কি কোনো ধর্মীয় ভিত্তি আছে?

ইসলামি বিধান কী?

ইসলামে রাতে ঘর ঝাড়ু দেওয়া নিষিদ্ধ-এমন কোনো সহিহ হাদিস বা নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। ঘর পরিষ্কার রাখার প্রয়োজন হলে দিন বা রাত যেকোনো সময় তা করা যায়।

ইসলাম পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (সহিহ মুসলিম: ২২৩)

তাই ঘর পরিষ্কারের জন্য রাত বা দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে শরিয়ত নির্ধারণ করে দেয়নি।

রাতে ঝাড়ু দিলে সম্পদ কমে যায়?

রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে বরকত নষ্ট হয়, সম্পদ কমে যায় বা রিজিকে টান পড়ে এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। বাস্তবে এর কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।

আগের সময়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় অল্প আলোতে ঘর ঝাড়ু দিলে মেঝেতে পড়ে থাকা ছোট কোনো মূল্যবান জিনিস ধুলোবালির সঙ্গে বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। সম্ভবত এ ধরনের ব্যবহারিক সতর্কতা থেকেই পরবর্তী সময়ে রাতে ঝাড়ু না দেওয়ার লোকাচার তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

রাতে ঝাড়ু দেওয়া কি কুলক্ষণ?

রাতে ঝাড়ু দেওয়াকে অমঙ্গল বা বিপদের কারণ মনে করারও ভিত্তি নেই। কোনো সময়, বস্তু বা ঘটনাকে অশুভ মনে করে তার কারণে বিপদ আসবে-এ ধরনের কুসংস্কার ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো বস্তুকে কুলক্ষণ মনে করা শিরক, কোনো বন্তুকে কুলক্ষণ ভাবা শিরক।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩৯১০)

তাই রাতে ঝাড়ু দিলে ঘরে মসিবত আসবে, রিজিক কমে যাবে বা সম্পদ নষ্ট হবে-এমন বিশ্বাস করা ঠিক নয়। একজন মুমিনের উচিত এ ধরনের কুসংস্কারের পরিবর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা করা।

রাতে ঘর পরিষ্কার করলে সমস্যা আছে?

ঘর ময়লা হলে বা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে রাতেও ঝাড়ু দেওয়া যাবে।

তবে ঘর পরিষ্কার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, ঝাড়ুর শব্দ বা ধুলাবালিতে যেন অন্যের ঘুম, বিশ্রাম বা ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিও খেয়াল রাখা জরুরি।

মোটকথা, রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে অমঙ্গল হয়, রিজিক কমে যায় বা সম্পদ চলে যায়-এমন ধারণার ইসলামি ভিত্তি নেই। প্রয়োজন হলে রাতে ঘর পরিষ্কার করা যাবে। তাই প্রচলিত কুসংস্কারের বদলে নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞান অনুযায়ী চলাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» নতুন রাষ্ট্রপতি বরণে প্রস্তুত বঙ্গভবন

» জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে মির্জা ফখরুলের শ্রদ্ধা

» মন্ত্রিসভায় যুক্ত হচ্ছেন নতুন চারজন, শপথ আজই

» কিশোর গ্যংয়ের ৩ সদস্য গ্রেফতার

» বাংলাদেশি প্রবাসীদের বৈরুত দূতাবাসের সতর্কতা বার্তা

» রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে কি অমঙ্গল হয়?

» ট্রাকের ধাক্কায় মা-মেয়ে নিহত, আহত বাবা

» হোটেল কক্ষ নোংরা করার অভিযোগ, যা বললেন জেমসের ম্যানেজার

» চিকিৎসায় অবহেলায় এক মায়ের মৃত্যু মেনে নেওয়া যায় না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

» বিরোধীদলের অংশগ্রহণকে সরকার সংকীর্ণভাবে মূল্যায়ন করছে : হামিদুর রহমান

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে কি অমঙ্গল হয়?

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে অমঙ্গল হয়, সংসারে অভাব আসে কিংবা রিজিক কমে যায়-এমন কথা আমাদের সমাজে প্রচলিত। অনেকে মনে করেন, রাতে ঘর পরিষ্কার করাও ইসলামে নিষিদ্ধ। আসলে এ ধারণার কি কোনো ধর্মীয় ভিত্তি আছে?

ইসলামি বিধান কী?

ইসলামে রাতে ঘর ঝাড়ু দেওয়া নিষিদ্ধ-এমন কোনো সহিহ হাদিস বা নির্ভরযোগ্য দলিল নেই। ঘর পরিষ্কার রাখার প্রয়োজন হলে দিন বা রাত যেকোনো সময় তা করা যায়।

ইসলাম পরিচ্ছন্নতার প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘পবিত্রতা ঈমানের অর্ধেক।’ (সহিহ মুসলিম: ২২৩)

তাই ঘর পরিষ্কারের জন্য রাত বা দিনের কোনো নির্দিষ্ট সময়কে শরিয়ত নির্ধারণ করে দেয়নি।

রাতে ঝাড়ু দিলে সম্পদ কমে যায়?

রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে বরকত নষ্ট হয়, সম্পদ কমে যায় বা রিজিকে টান পড়ে এমন কথা প্রায়ই শোনা যায়। বাস্তবে এর কোনো নির্ভরযোগ্য দলিল নেই।

আগের সময়ে বিদ্যুতের ব্যবস্থা না থাকায় অল্প আলোতে ঘর ঝাড়ু দিলে মেঝেতে পড়ে থাকা ছোট কোনো মূল্যবান জিনিস ধুলোবালির সঙ্গে বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকত। সম্ভবত এ ধরনের ব্যবহারিক সতর্কতা থেকেই পরবর্তী সময়ে রাতে ঝাড়ু না দেওয়ার লোকাচার তৈরি হয়ে থাকতে পারে।

রাতে ঝাড়ু দেওয়া কি কুলক্ষণ?

রাতে ঝাড়ু দেওয়াকে অমঙ্গল বা বিপদের কারণ মনে করারও ভিত্তি নেই। কোনো সময়, বস্তু বা ঘটনাকে অশুভ মনে করে তার কারণে বিপদ আসবে-এ ধরনের কুসংস্কার ইসলাম নিরুৎসাহিত করেছে।

রাসুলুল্লাহ (স.) বলেছেন, ‘কোনো বস্তুকে কুলক্ষণ মনে করা শিরক, কোনো বন্তুকে কুলক্ষণ ভাবা শিরক।’ (সুনানে আবু দাউদ: ৩৯১০)

তাই রাতে ঝাড়ু দিলে ঘরে মসিবত আসবে, রিজিক কমে যাবে বা সম্পদ নষ্ট হবে-এমন বিশ্বাস করা ঠিক নয়। একজন মুমিনের উচিত এ ধরনের কুসংস্কারের পরিবর্তে আল্লাহর ওপর ভরসা করা।

রাতে ঘর পরিষ্কার করলে সমস্যা আছে?

ঘর ময়লা হলে বা পরিষ্কার করার প্রয়োজন হলে রাতেও ঝাড়ু দেওয়া যাবে।

তবে ঘর পরিষ্কার করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, ঝাড়ুর শব্দ বা ধুলাবালিতে যেন অন্যের ঘুম, বিশ্রাম বা ইবাদতে বিঘ্ন না ঘটে। পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি অন্যের অধিকার ও স্বাচ্ছন্দ্যের প্রতিও খেয়াল রাখা জরুরি।

মোটকথা, রাতে ঘর ঝাড়ু দিলে অমঙ্গল হয়, রিজিক কমে যায় বা সম্পদ চলে যায়-এমন ধারণার ইসলামি ভিত্তি নেই। প্রয়োজন হলে রাতে ঘর পরিষ্কার করা যাবে। তাই প্রচলিত কুসংস্কারের বদলে নির্ভরযোগ্য ইসলামি জ্ঞান অনুযায়ী চলাই একজন মুমিনের জন্য উত্তম।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com