ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে সীমান্তবর্তী সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। অভিযানে মাটির নিচে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ছয়টি পিস্তল, সাতটি ম্যাগাজিন ও বিভিন্ন ধরনের ২২ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
বৃহস্পতিবার ভোরে হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধীন সাতছড়ি বিওপির দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমানের নেতৃত্বে বিজিবির একটি দল সাতছড়ি রিজার্ভ ফরেস্টের দুর্গম পাহাড়ি ও ঘন জঙ্গল এলাকায় বিশেষ অভিযান চালায়।
অভিযানকালে বনাঞ্চলের গভীরে মাটির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় অস্ত্র ও গোলাবারুদের সন্ধান পায় বিজিবি। পরে সেগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ছয়টি পিস্তল, সাতটি ম্যাগাজিন এবং বিভিন্ন ধরনের ২২ রাউন্ড গুলি।
বিজিবির প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ডাকাতি কিংবা অন্যান্য সন্ত্রাসী ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে দুষ্কৃতকারীরা এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় লুকিয়ে রেখেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে এখনো বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গোলাবারুদ যথাযথ আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে থানায় জমা দেওয়ার কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে বিজিবি। পাশাপাশি অস্ত্রগুলো কারা সেখানে লুকিয়ে রেখেছিল, তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা তৎপরতা এবং অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
হবিগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৫ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. তানজিলুর রহমান এক প্রেস ব্রিফিংয়ে বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদের বিস্তার রোধ এবং সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বিজিবি দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। যেকোনো ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে ভবিষ্যতে বিজিবির অভিযান ও তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে।
তিনি আরও জানান, শুধু অস্ত্র উদ্ধারের ক্ষেত্রেই নয়, গত তিন মাসে ৫৫ বিজিবির অভিযানে সাতছড়ি সংরক্ষিত বনাঞ্চলের দুর্গম সীমান্ত এলাকা থেকে প্রায় ৪১ লাখ টাকা মূল্যের ২৩৮ কেজি ভারতীয় গাঁজা, ২ হাজার ৫৮৫ পিস ইয়াবা, ৫৯ বোতল মদ এবং ২১টি গরু আটক করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, সীমান্তবর্তী দুর্গম এই বনাঞ্চলকে কেন্দ্র করে অবৈধ অস্ত্র, মাদক ও অন্যান্য অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বিজিবির নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।








