ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ভারতের নয়ডা-তে হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে অভিযুক্ত পালিয়ে যায় নিজ গ্রাম বিহারে। প্রায় এক সপ্তাহ আত্মগোপনে থাকার পর তাকে খুঁজতে খুঁজতে সেখানে পৌঁছে যায় পুলিশ। তবে গিয়ে তারা দেখে, বাড়িতে নিষিদ্ধ মদ রাখার অভিযোগে এরই মধ্যে তাকে গ্রেপ্তার করেছে বিহার পুলিশ। পরে স্থানীয় আদালত থেকে ট্রানজিট রিমান্ড নিয়ে অভিযুক্তকে নিজেদের হেফাজতে নেয় উত্তর প্রদেশের নয়ডা পুলিশ।
নয়ডার ‘বারাউলা নেস্ট রেন্টাল প্যানোরামা’ ভবনের একটি ফ্ল্যাটে গত ৮ আগস্ট রাতে হত্যার ঘটনাটি ঘটে। এই ফ্ল্যাটেই ভাড়া থাকতেন বিটেক ইঞ্জিনিয়ার রমন রাজ। একই ভবনের অন্য একটি ফ্ল্যাটে থাকতেন মহক আহমেদ। ১৯ বছর বয়সী মহক দ্বাদশ শ্রেণী পাস করে মাসখানেক আগে আসাম থেকে নয়ডা এসেছিলেন কাজের খোঁজে। একটি কল সেন্টারে চাকরি নিয়ে সেই ভবনে পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকা শুরু করেন মহক। একই ভবনের একই ফ্লোরে থাকার কারণে অল্প সময়েই রমনের সাথে মহকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ৮ আগস্ট মদ্যপ অবস্থায় মহক রমনের ফ্ল্যাটে যান। সাথে ছিল তার বান্ধবী ও রুমমেট সঞ্জনা। সেখানে একটি ডেটিং অ্যাপের ব্যবহার নিয়ে প্রথমে রমনের সাথে মহকের কথা কাটাকাটি হয়।
এরপর মহক রমনের সাবেক প্রেমিকাকে নিয়ে মন্তব্য করলে ঝগড়া আরো তুঙ্গে ওঠে। প্রেমিক-প্রেমিকার ঝগড়া নিজেরাই মিটিয়ে ফেলবে ভেবে সঞ্জনা চলে যান। কিন্তু তাদের ঝগড়া থামেনি। বরং আরো তীব্র আকার ধারণ করে। এক পর্যায়ে রমন ধারালো অস্ত্র দিয়ে অন্তত ১০টি আঘাত করে মহককে হত্যা করে। তারপর খুব ঠান্ডা মাথায় মহকের মরদেহ বাসার ভেতরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যায়। যাওয়ার সময় রমন বাসার বাইরের কুলারটি চালিয়ে দিয়ে যায়, যাতে লাশের পচা গন্ধ সহজে বাইরে আসতে না পারে। পরদিন সঞ্জনা ভেবেছিল মহক কাজে চলে গেছে বা অন্য কোনো বান্ধবীর বাসায় গেছে।
তবে তার পরদিনও মহকের কোনো খোঁজ না পেয়ে চিন্তায় পড়ে যায় সঞ্জনা। ততক্ষণে কুলার ভেদ করে তীব্র পচা গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো ভবনে। দুর্গন্ধের কারণে সন্দেহ তৈরি হলে ভবনের মালিক সার্থক বানসাল পুলিশকে খবর দেন। হত্যার দুদিন পর ১০ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে নয়ডার সেক্টর ৪৯ থানার পুলিশ দরজা ভেঙে রমনের ঘরের ভেতর থেকে মহক আহমেদের রক্তাক্ত ও ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে। পুলিশ সেখান থেকে ফরেনসিক আলামত সংগ্রহের পর লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং বাড়ির মালিকের অভিযোগের ভিত্তিতে রমন রাজের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক হত্যা মামলা করে।
এরপর নয়ডা পুলিশ রমন রাজের সন্ধানে নামে। গত ১৫ আগস্ট নয়ডা পুলিশ বিহারের কাটিহার টাউন থানার নয়া টোলা এলাকায় তার গ্রামের বাড়িতে পৌঁছায়। তবে সেখানে গিয়ে নয়ডা পুলিশ জানতে পারে, বাসায় ৫ লিটার মদ রাখার অভিযোগে কাটিহার পুলিশ আগেই রমনকে গ্রেপ্তার করেছে। নয়ডা পুলিশ কাটিহার থানায় গিয়ে আদালতের অনুমতি নিয়ে রমনকে ট্রানজিট রিমান্ডে নিয়েছে। ট্রানজিট রিমান্ডের অধীনে নয়ডা পুলিশ রমনকে বিহার থেকে উত্তর প্রদেশের নয়ডায় নিয়ে আসছে, যেখানে মহক আহমেদ হত্যা মামলার মূল তদন্ত ও জিজ্ঞাসাবাদ হবে। কাটিহারে মদসহ গ্রেপ্তারের পর রমনকে সেখানে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রাখা হয়েছিল। কাটিহার পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে মহক আহমেদকে হত্যার কথা স্বীকারও করে।
বিহারে মদ নিষিদ্ধ, এটা রমনের অজানা নয়। তারপরও খুনের অভিযোগ মাথায় নিয়ে পালিয়ে বেড়ানো একজন মানুষ বাসায় ৫ লিটার মদ রাখবে, এটা স্বাভাবিক নয়। কারো কারো ধারণা রমন জানতো উত্তর প্রদেশের পুলিশ খুব কড়া। হত্যার অভিযোগে সরাসরি তাদের হাতে ধরা পড়লে এনকাউন্টারে প্রাণ খোয়ানোর ঝুঁকি ছিল। তাই এনকাউন্টার থেকে বাঁচতেই রমন মদ নিয়ে বিহার পুলিশের আছে ধরা দিয়েছিল। তার ধারণা ছিল মদ নিয়ে গ্রেপ্তার হলে সে সহজেই জেল হেফাজতে চলে যেতে পারবে এবং উত্তর প্রদেশ পুলিশ হুট করে তার বড় কোনো ক্ষতি করতে পারবে না।
সূত্র: এনডিটিভি








