কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কাঠামোগত সংস্কার না করা হয়, এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে। তাদের ভেতর সেই প্রবণতা আছে। এই সরকারকে বলব, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দাবি যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্ট্রো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক চিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এটা আগেই বলেছি, এই কাঠামো, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না যদি গোড়ায় আমরা পরিবর্তন না করি। মৌলিক পরিবর্তন না করি। এটা কোনো ব্যক্তি, প্রধানের, সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকে আমরা ৭ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উদযাপন করলাম। এ বছর সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে একটি আয়োজন করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, আমরা আজকের এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেছি। যেটা ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ এবং সত্যিকার অর্থেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি, পুরো চিত্র প্রদর্শনীতে সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রকল্প ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ঘাত-প্রতিঘাত, স্বৈরতন্ত্র, বাকশাল, ফ্যাসিবাদ সবকিছুকে অতিক্রম করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন মুক্তি এনে দিল এই দেশের মানুষকে, জনগণকে, আমরা আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই জিনিসটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা এই চিত্র প্রদর্শনী থেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার এবং যেটা আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হলো, কেড়ে নিল এই সরকার। কিন্তু আমাদের যে অঙ্গীকার, জুলাইয়ের অঙ্গীকার হচ্ছে সংবিধান সংস্কার করা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কার করা। তো সেই লড়াইটা এখন আসলে রয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের চিত্র প্রদর্শনীর বার্তাটা হচ্ছে এটাই যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা যদি ধরে রাখতে চাই, তাহলে তার যে আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কারের সেই লড়াইটা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তারা দুইটা ভোটে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু একটা ভোটের ফলাফল তারা মানে নাই। আপনারা জানেন, গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

তিনি বলেন, এবারে যে সরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন হলো, আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সেটার কী পরিস্থিতি। ইতিহাস বিকৃতি থেকে শুরু করে দলীয়করণ এবং সবকিছুই সেখানে আপনারা দেখবেন। কোনো ধরনের সার্বজনীন বক্তব্য নাই, অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বাংলাদেশ, জুলাই যে সকলের, সেই বার্তাটা তারা দিচ্ছে না। তারা সবকিছুকে দলীয়করণ করছে। স্থানীয় সরকার প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী যেরকম দলীয়করণ করছে, একইভাবে ইতিহাসকে তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সারাদেশে ৫ আগস্ট কিন্তু দেখেছি, বিভিন্ন জেলায় যেসব সরকারি প্রোগ্রাম হয়েছে, সেখানে সরকার দলের বাইরে যেসব সমন্বয়ক বা জুলাই যোদ্ধা ছিল বা অন্য কোনো দলের মধ্যে থাকলে তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা অংশগ্রহণ করতে আসলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় হামলাও করা হয়েছে। এইভাবে যখন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবার উদযাপন করল এবং আমরা বলি, শুধু উদযাপনে না, এটা আসলে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, খুব সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত ৫ আগস্ট দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম যে দিল্লিতে বসে প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার শক্তি। এটা তো হওয়ার ছিল। এটা যে হঠাৎ করে হয়ে গেছে, এরকম কিন্তু না। সরকারের জায়গা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে, কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই কিন্তু পতিত স্বৈরাচার শক্তি, ফ্যাসিবাদী শক্তি এটা করার সুযোগ পাচ্ছে।

আমরা বারবার বলেছি যে ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে, পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে, আমরা কিন্তু জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে চাই। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা প্রেস রিলিজ দিয়ে বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে, এটাকে বলে বাগাড়ম্বর, চলতি ভাষায় আমরা বলি গলাবাজি।

তিনি বলেন, প্রেস রিলিজে, বক্তব্যে বড় বড় কথা বলতেছেন, কিন্তু আপনি কোনো কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা তো হওয়ার কথাই ছিল। তারা তো ঘোষণা দিয়েই এবং দিল্লি সরকার তাদেরকে সহযোগিতা করতেছে, ভারত সরকার সহযোগিতা করতেছে। ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডাকা উচিত ছিল সরকারের এবং ডেকে কঠোরভাবে এটার নিন্দা জানানো উচিত ছিল। পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনা হলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, কোন ধরনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে, সেটা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার দলের বন্ধুরা বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলে, ফ্যাসিবাদের প্রশ্নেও তারা নাকি আছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সংস্কার প্রশ্নে যেরকম তারা জুলাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, বিচার প্রশ্নে এবং পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে ঠেকানোর প্রশ্নেও এই সরকার আসলে আপোষকামী সরকার। আপোষকামী হলে জনগণ তো বসে থাকবে না। এবং ১১ দলীয় ঐক্য আছে এবং যে সকল আরও সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে যারা সংস্কার এবং বিচার চায়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধ করব, তার বিচার নিশ্চিত করব এবং যে সংস্কার, গণভোটের যে গণরায়, সেই রায় অনুযায়ী আমরা কাজ করব।

নাহিদ বলেন, সরকার যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, এই কমিটি করে সরকার লেজিটিমেসি হারিয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিবর্তন যে তারা করতে চায় না এবং তাদের যে জনগণের আস্থা, সে আস্থাটি হারিয়েছে। ফলে সাংবিধানিক একটি সংকট তৈরি হয়েছে এবং সংকট তৈরি হয়েছে জনগণের আস্থা তারা হারিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা যখন একটা সরকার হারায়, তখন তাদের টিকে থাকতে হয় ক্ষমতার দাপট এবং সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে। আর সেটা কিন্তু সেই চিত্র বিগত ১৬ বছরে যেরকম আমরা দেখেছি, এখন কিন্তু আমরা দেখছি এই সরকার সেটা শুরু করেছে। শুরু করেছে ক্যাম্পাসগুলোর মাধ্যমে। কারণ, যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা, আন্দোলনের দুর্গ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো। ফলে ছাত্রনেতাদের ওপর, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ এবং ১১ দলের পক্ষে যেসব ছাত্রনেতারা রয়েছেন, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন শক্তিকে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা আক্রমণ করছে নির্বিচারে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সাকিবের আর দেশে ফেরার সুযোগ নেই: ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

» আদালতের দেওয়া ২৪ ঘণ্টায়ও আত্মসমর্পণ করেননি তনু হত্যা মামলার আসামি হাফিজ

» লিবিয়া থেকে দেশে ফেরত এসেছে আরও ৩৪০ বাংলাদেশি

» কার্যক্রম নিষিদ্ধ আ. লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হবে না : রাশেদ খাঁন

» এক দফার ঘোষণা কোনো একক ব্যক্তির নয়: নুরুল হক নুর

» কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম

» ভারতে বসে হাসিনাকে ষড়যন্ত্রের সুযোগ দেওয়ায় ভারতের প্রতি জামায়াতের তীব্র নিন্দা

» নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেওয়া হবে না: ছাত্র জমিয়ত

» দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেওয়ার সময় দুই কিশোর গ্যাং সদস্য আটক

» বিএনপি নেতাকে গুলি, পথচারী নারীসহ আহত ২

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

কাঠামোগত সংস্কার না হলে এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে : নাহিদ ইসলাম

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, যদি কাঠামোগত সংস্কার না করা হয়, এই সরকারও স্বৈরাচারী হবে। তাদের ভেতর সেই প্রবণতা আছে। এই সরকারকে বলব, দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল দাবি যদি তারা বাস্তবায়ন না করে, তাদের পক্ষে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব হবে না।

শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর মিন্ট্রো রোডে বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের বাসভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নিয়ে এক চিত্র প্রদর্শনীতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা এটা আগেই বলেছি, এই কাঠামো, এই রাজনৈতিক সংস্কৃতি পরিবর্তন হবে না যদি গোড়ায় আমরা পরিবর্তন না করি। মৌলিক পরিবর্তন না করি। এটা কোনো ব্যক্তি, প্রধানের, সরকার প্রধানের ব্যক্তিগত ইচ্ছার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র পরিচালিত হয় না।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, আজকে আমরা ৭ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর উদযাপন করলাম। এ বছর সেই জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে একটি আয়োজন করা হয়েছে।

নাহিদ বলেন, আমরা আজকের এই জুলাই গণঅভ্যুত্থান সম্পর্কিত চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী দেখেছি। যেটা ‘জুলাই এখনো শেষ হয় নাই’ এবং সত্যিকার অর্থেই জুলাই গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি, পুরো চিত্র প্রদর্শনীতে সেটা তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে। পুরো বাংলাদেশের রাষ্ট্র প্রকল্প ১৯৪৭ সালের আজাদির লড়াই থেকে ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং ২০২৪-এর গণঅভ্যুত্থান পর্যন্ত বাংলাদেশ যে ঘাত-প্রতিঘাত, স্বৈরতন্ত্র, বাকশাল, ফ্যাসিবাদ সবকিছুকে অতিক্রম করে যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান নতুন মুক্তি এনে দিল এই দেশের মানুষকে, জনগণকে, আমরা আলোকচিত্রের মাধ্যমে সেই জিনিসটাকে ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি।

তিনি বলেন, আরও গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা এই চিত্র প্রদর্শনী থেকে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে রাষ্ট্র সংস্কার এবং যেটা আমরা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছি। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোট আমাদের থেকে চুরি করে নিয়ে যাওয়া হলো, কেড়ে নিল এই সরকার। কিন্তু আমাদের যে অঙ্গীকার, জুলাইয়ের অঙ্গীকার হচ্ছে সংবিধান সংস্কার করা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কার করা। তো সেই লড়াইটা এখন আসলে রয়ে গিয়েছে। আমাদের আজকের চিত্র প্রদর্শনীর বার্তাটা হচ্ছে এটাই যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে আমরা যদি ধরে রাখতে চাই, তাহলে তার যে আকাঙ্ক্ষা, রাষ্ট্র কাঠামোর আমল সংস্কারের সেই লড়াইটা আমরা এখনো চালিয়ে যাচ্ছি।

বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, এই সরকার নির্বাচিত হয়েছে। তারা দুইটা ভোটে অংশগ্রহণ করেছে, কিন্তু একটা ভোটের ফলাফল তারা মানে নাই। আপনারা জানেন, গণভোটের গণরায়ের সঙ্গে তারা বিশ্বাসঘাতকতা করছে।

তিনি বলেন, এবারে যে সরকারিভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান উদযাপন হলো, আপনারা দেখেছেন সারাদেশে সেটার কী পরিস্থিতি। ইতিহাস বিকৃতি থেকে শুরু করে দলীয়করণ এবং সবকিছুই সেখানে আপনারা দেখবেন। কোনো ধরনের সার্বজনীন বক্তব্য নাই, অন্তর্ভুক্তিমূলক যে বাংলাদেশ, জুলাই যে সকলের, সেই বার্তাটা তারা দিচ্ছে না। তারা সবকিছুকে দলীয়করণ করছে। স্থানীয় সরকার প্রশাসন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পদ-পদবী যেরকম দলীয়করণ করছে, একইভাবে ইতিহাসকে তারা দলীয়করণ করার চেষ্টা করছে। যেভাবে আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে দলীয়করণ করার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা সারাদেশে ৫ আগস্ট কিন্তু দেখেছি, বিভিন্ন জেলায় যেসব সরকারি প্রোগ্রাম হয়েছে, সেখানে সরকার দলের বাইরে যেসব সমন্বয়ক বা জুলাই যোদ্ধা ছিল বা অন্য কোনো দলের মধ্যে থাকলে তাদেরকে আমন্ত্রণ করা হয়েছে। কিন্তু তারা অংশগ্রহণ করতে আসলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়েছে। কিছু কিছু জায়গায় হামলাও করা হয়েছে। এইভাবে যখন সরকার জুলাই গণঅভ্যুত্থান এবার উদযাপন করল এবং আমরা বলি, শুধু উদযাপনে না, এটা আসলে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, খুব সাম্প্রতিক সময়ে, বিশেষত ৫ আগস্ট দুঃখজনকভাবে আমরা দেখলাম যে দিল্লিতে বসে প্রেস কনফারেন্স করার সুযোগ পাচ্ছে পতিত স্বৈরাচার শক্তি। এটা তো হওয়ার ছিল। এটা যে হঠাৎ করে হয়ে গেছে, এরকম কিন্তু না। সরকারের জায়গা থেকে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার ফলে, কূটনৈতিক পদক্ষেপ না নেওয়ার ফলেই কিন্তু পতিত স্বৈরাচার শক্তি, ফ্যাসিবাদী শক্তি এটা করার সুযোগ পাচ্ছে।

আমরা বারবার বলেছি যে ফ্যাসিবাদ প্রশ্নে, পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধের প্রশ্নে, আমরা কিন্তু জাতীয় ঐক্য বজায় রাখতে চাই। তারা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটা প্রেস রিলিজ দিয়ে বাহবা পাওয়ার চেষ্টা করছে। কিন্তু বাংলা ভাষায় একটা কথা আছে, এটাকে বলে বাগাড়ম্বর, চলতি ভাষায় আমরা বলি গলাবাজি।

তিনি বলেন, প্রেস রিলিজে, বক্তব্যে বড় বড় কথা বলতেছেন, কিন্তু আপনি কোনো কূটনৈতিক ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। এটা তো হওয়ার কথাই ছিল। তারা তো ঘোষণা দিয়েই এবং দিল্লি সরকার তাদেরকে সহযোগিতা করতেছে, ভারত সরকার সহযোগিতা করতেছে। ভারতীয় হাইকমিশনারকে ডাকা উচিত ছিল সরকারের এবং ডেকে কঠোরভাবে এটার নিন্দা জানানো উচিত ছিল। পরবর্তীতে এই ধরনের ঘটনা হলে সরকার কী ব্যবস্থা নেবে, কোন ধরনের কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেবে, সেটা জনগণের সামনে উন্মুক্ত করা উচিত ছিল।

তিনি আরও বলেন, আমাদের সরকার দলের বন্ধুরা বারবার জাতীয় ঐক্যের কথা বলে, ফ্যাসিবাদের প্রশ্নেও তারা নাকি আছে। কিন্তু আমাদের কাছে মনে হচ্ছে, সংস্কার প্রশ্নে যেরকম তারা জুলাই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, বিচার প্রশ্নে এবং পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে ঠেকানোর প্রশ্নেও এই সরকার আসলে আপোষকামী সরকার। আপোষকামী হলে জনগণ তো বসে থাকবে না। এবং ১১ দলীয় ঐক্য আছে এবং যে সকল আরও সামাজিক, রাজনৈতিক শক্তি আছে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে যারা সংস্কার এবং বিচার চায়, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে পতিত স্বৈরাচার শক্তিকে প্রতিরোধ করব, তার বিচার নিশ্চিত করব এবং যে সংস্কার, গণভোটের যে গণরায়, সেই রায় অনুযায়ী আমরা কাজ করব।

নাহিদ বলেন, সরকার যে সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছে, এই কমিটি করে সরকার লেজিটিমেসি হারিয়েছে। যে কোনো ধরনের পরিবর্তন যে তারা করতে চায় না এবং তাদের যে জনগণের আস্থা, সে আস্থাটি হারিয়েছে। ফলে সাংবিধানিক একটি সংকট তৈরি হয়েছে এবং সংকট তৈরি হয়েছে জনগণের আস্থা তারা হারিয়েছে।

তিনি বলেন, জনগণের আস্থা যখন একটা সরকার হারায়, তখন তাদের টিকে থাকতে হয় ক্ষমতার দাপট এবং সন্ত্রাসের ওপর ভিত্তি করে। আর সেটা কিন্তু সেই চিত্র বিগত ১৬ বছরে যেরকম আমরা দেখেছি, এখন কিন্তু আমরা দেখছি এই সরকার সেটা শুরু করেছে। শুরু করেছে ক্যাম্পাসগুলোর মাধ্যমে। কারণ, যেহেতু জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় ভূমিকা, আন্দোলনের দুর্গ ছিল এই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলো। ফলে ছাত্রনেতাদের ওপর, নির্বাচিত ছাত্র সংসদ এবং ১১ দলের পক্ষে যেসব ছাত্রনেতারা রয়েছেন, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি থেকে শুরু করে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষের বিভিন্ন শক্তিকে তারা ক্যাম্পাসে ঢুকতে দিচ্ছে না। তারা আক্রমণ করছে নির্বিচারে।

 

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com