সৌদি-মার্কিন পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র উদ্বেগ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন-রিয়াদের মধ্যকার এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। চুক্তিটি মূলত একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার লক্ষ্যে করা হলেও তা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা।

যদিও চুক্তিটি কার্যকর হতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে, তবে এটি প্রকাশের পর থেকেই জেরুজালেমে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। এই নীরবতার মধ্যে বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহু সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন।

আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হলে তা পুরো অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক দৌড় শুরু করবে। একইভাবে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই তথাকথিত বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রে রূপ নেবে। তিনি ইসরায়েল সরকারকে মার্কিন কংগ্রেসে জোর লবিং চালিয়ে এই চুক্তি ঠেকানোর আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তা কখনোই স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। ফলে রিয়াদের এই পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনকে তারা তাদের একচ্ছত্র সামরিক সুবিধার জন্য সরাসরি হুমকি বলে মনে করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তিটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং জো বাইডেন প্রশাসন; উভয় আমলেই আলোচনায় ছিল। তবে পরমাণু বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তির কারণেই এতদিন এটি বাস্তবে রূপ নেয়নি। সমালোচকদের মতে, চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি সহজ পথ তৈরি করে দেবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» গর্ভাবস্থায় মর্নিং সিকনেস সারানোর ঘরোয়া উপায়

» আলুর নাগেট তৈরির রেসিপি

» পশ্চিম তীরে সংঘর্ষে ১ ইসরায়েলি নিহত, আহত ৩

» বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২৬ জন গ্রেফতার

» বিশেষ অভিযান বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ২০ জন গ্রেফতার

» ‎৮০ টাকার নিচে মিলছে না সবজি, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচে বাড়বাড়ন্ত দাম

» শিখা অনির্বাণে শ্রদ্ধা নিবেদন করলেন নবনিযুক্ত নৌবাহিনী প্রধান

» শাহরুখ কি সত্যিই আন্দোলন সমর্থন করছেন?

» গভীর সমুদ্রে জেলের জালে ধরা পড়ল সোলজারফিশ

» গত ২৪ ঘণ্টায় বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৪২৮ জন গ্রেপ্তার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

সৌদি-মার্কিন পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে তীব্র উদ্বেগ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র-সৌদি আরবের মধ্যে সম্প্রতি স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ইসরায়েলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। ওয়াশিংটন-রিয়াদের মধ্যকার এই চুক্তির আওতায় মার্কিন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সৌদি আরবে পারমাণবিক রিয়্যাক্টর নির্মাণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। চুক্তিটি মূলত একটি বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার লক্ষ্যে করা হলেও তা মধ্যপ্রাচ্যে এক ভয়াবহ পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের একাধিক শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা।

যদিও চুক্তিটি কার্যকর হতে মার্কিন কংগ্রেসের অনুমোদনের প্রয়োজন রয়েছে, তবে এটি প্রকাশের পর থেকেই জেরুজালেমে রাজনৈতিক উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। তবে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং তার সরকারের প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেননি। এই নীরবতার মধ্যে বিরোধী নেতারা নেতানিয়াহু সরকারের তীব্র সমালোচনা শুরু করেছেন।

আসন্ন নির্বাচনে নেতানিয়াহুকে চ্যালেঞ্জ জানাতে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট এই পদক্ষেপকে ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য এক মারাত্মক কৌশলগত ব্যর্থতা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরবের মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অনুমতি দেওয়া হলে তা পুরো অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক দৌড় শুরু করবে। একইভাবে সাবেক প্রতিরক্ষা মন্ত্রী অ্যাভিগডোর লিবারম্যান আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এই তথাকথিত বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক অস্ত্রে রূপ নেবে। তিনি ইসরায়েল সরকারকে মার্কিন কংগ্রেসে জোর লবিং চালিয়ে এই চুক্তি ঠেকানোর আহ্বান জানান।

মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলকে একমাত্র পারমাণবিক অস্ত্রধারী দেশ হিসেবে গণ্য করা হয়, যদিও তারা আনুষ্ঠানিকভাবে তা কখনোই স্বীকার বা অস্বীকার করেনি। ফলে রিয়াদের এই পারমাণবিক ক্ষমতা অর্জনকে তারা তাদের একচ্ছত্র সামরিক সুবিধার জন্য সরাসরি হুমকি বলে মনে করছে।

দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে থাকা এই চুক্তিটি ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদ এবং জো বাইডেন প্রশাসন; উভয় আমলেই আলোচনায় ছিল। তবে পরমাণু বিস্তার রোধে কাজ করা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার আপত্তির কারণেই এতদিন এটি বাস্তবে রূপ নেয়নি। সমালোচকদের মতে, চুক্তিটি শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির একটি সহজ পথ তৈরি করে দেবে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণকে চিরতরে বদলে দিতে পারে।

সূত্র: রয়টার্স

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com