আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

ছবি সংগৃহীত

 

স্পোর্টস ডেস্ক :বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম তীব্র দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই দেশের এই লড়াই শুধু ফুটবলের নয়, ইতিহাস, আবেগ ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তেরও। তাই সেমিফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে মুখোমুখি লড়াইয়ে আসলে কে এগিয়ে?

অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুই দল ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৬টি, আর্জেন্টিনা জিতেছে ২টি এবং ড্র হয়েছে ৫টি। তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ২-২ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চিত্রটি আরও রোমাঞ্চকর। দুই দল বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ম্যাচে আর্জেন্টিনা জেতে ২-১ ব্যবধানে। ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোতে ২-২ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ১-০ ব্যবধানে জেতে ইংল্যান্ড। ফলে বিশ্বকাপের মূল ফলাফলে দুই দলের দুটি করে জয় থাকলেও, নকআউটে এগিয়ে আর্জেন্টিনা।

বর্তমান ফর্মের বিচারেও দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। দুই দলই নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে জয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে।

ব্যক্তিগত লড়াইয়েও থাকবে বড় আকর্ষণ। একদিকে লিওনেল মেসি, যিনি নিজের শেষ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৬০ বছরের বিশ্বকাপ অপেক্ষা শেষ করতে চায় ইংল্যান্ড। দুই দলের মাঝমাঠ, আক্রমণ এবং রক্ষণ সব বিভাগেই রয়েছে বিশ্বমানের ফুটবলার।

পরিসংখ্যান বলছে, সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামান্য এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে আর্জেন্টিনার স্মৃতি বেশি উজ্জ্বল। তবে এই সেমিফাইনালে অতীত কোনো দলকেই বাড়তি সুবিধা দেবে না। কারণ বিশ্বকাপের শেষ চারে একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা একজন তারকার জাদুই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প।

তাই ইতিহাস এক কথা বললেও, বর্তমান বলছে অন্য কথা। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দুই দলই সেমিফাইনালে উঠেছে নিজেদের সামর্থ্যে। এখন দেখা যাক, ঐতিহাসিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়ে শেষ হাসি কার মুখে ফুটে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» কাতারের সাবেক আমিরের মৃত্যুতে শোক বইয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর সই

» যুবদল নেতাকে কুপিয়ে হত্যা

» বাংলাদেশের ঐতিহ্য সংরক্ষণে ১০ লাখ ডলারের বেশি অনুদান দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র

» বিশেষ অভিযানে ৩০জন গ্রেফতার

» যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যে যা যা পদক্ষেপ নিচ্ছে ইরান

» ইরানের ১৭০টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার দাবি যুক্তরাষ্ট্রের

» গাঁজাসহ যুবক আটক

» নিজেরা ঠিক না রাখলে, অন্য কেউ এদেশ ঠিক করে দেবে না: প্রধানমন্ত্রী

» জেলের জালে ধরা পড়েছে এক জোড়া বিরল প্রজাতির বিষাক্ত সামুদ্রিক মাছ লায়নফিশ

» জুয়া ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের দুই সদস্য গ্রেফতার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ডের মুখোমুখি লড়াইয়ে কে এগিয়ে?

ছবি সংগৃহীত

 

স্পোর্টস ডেস্ক :বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম তীব্র দুই প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড। দুই দেশের এই লড়াই শুধু ফুটবলের নয়, ইতিহাস, আবেগ ও অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্তেরও। তাই সেমিফাইনালের আগে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে মুখোমুখি লড়াইয়ে আসলে কে এগিয়ে?

অফিসিয়াল আন্তর্জাতিক ম্যাচে দুই দল ১৪ বার মুখোমুখি হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ড জিতেছে ৬টি, আর্জেন্টিনা জিতেছে ২টি এবং ড্র হয়েছে ৫টি। তবে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ২-২ ড্রয়ের পর টাইব্রেকারে জিতে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল আর্জেন্টিনা।

তবে বিশ্বকাপের মঞ্চে চিত্রটি আরও রোমাঞ্চকর। দুই দল বিশ্বকাপে চারবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে জিতে শেষ পর্যন্ত শিরোপাও জিতেছিল। ১৯৮৬ সালের কোয়ার্টার ফাইনালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ এবং ‘গোল অব দ্য সেঞ্চুরি’র ম্যাচে আর্জেন্টিনা জেতে ২-১ ব্যবধানে। ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোতে ২-২ ড্র হওয়ার পর টাইব্রেকারে জয় পায় আর্জেন্টিনা। আর ২০০২ সালের গ্রুপ পর্বে ডেভিড বেকহ্যামের পেনাল্টিতে ১-০ ব্যবধানে জেতে ইংল্যান্ড। ফলে বিশ্বকাপের মূল ফলাফলে দুই দলের দুটি করে জয় থাকলেও, নকআউটে এগিয়ে আর্জেন্টিনা।

বর্তমান ফর্মের বিচারেও দুই দলই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে অতিরিক্ত সময়ে ৩-১ গোলে হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠেছে। অন্যদিকে ইংল্যান্ডও নরওয়েকে ২-১ গোলে হারিয়ে শেষ চার নিশ্চিত করেছে। দুই দলই নকআউট পর্বে পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে ফিরে জয়ের মানসিকতা দেখিয়েছে।

ব্যক্তিগত লড়াইয়েও থাকবে বড় আকর্ষণ। একদিকে লিওনেল মেসি, যিনি নিজের শেষ বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয় শিরোপার স্বপ্ন দেখছেন। অন্যদিকে হ্যারি কেইন, জুড বেলিংহামদের নেতৃত্বে দীর্ঘ ৬০ বছরের বিশ্বকাপ অপেক্ষা শেষ করতে চায় ইংল্যান্ড। দুই দলের মাঝমাঠ, আক্রমণ এবং রক্ষণ সব বিভাগেই রয়েছে বিশ্বমানের ফুটবলার।

পরিসংখ্যান বলছে, সামগ্রিক মুখোমুখি লড়াইয়ে ইংল্যান্ডের সামান্য এগিয়ে থাকা সত্ত্বেও বিশ্বকাপের নকআউট ইতিহাসে আর্জেন্টিনার স্মৃতি বেশি উজ্জ্বল। তবে এই সেমিফাইনালে অতীত কোনো দলকেই বাড়তি সুবিধা দেবে না। কারণ বিশ্বকাপের শেষ চারে একটি মুহূর্ত, একটি ভুল কিংবা একজন তারকার জাদুই বদলে দিতে পারে পুরো গল্প।

তাই ইতিহাস এক কথা বললেও, বর্তমান বলছে অন্য কথা। আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ড দুই দলই সেমিফাইনালে উঠেছে নিজেদের সামর্থ্যে। এখন দেখা যাক, ঐতিহাসিক এই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়ে শেষ হাসি কার মুখে ফুটে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com