এই হামলা এমন সময়ে ঘটলো যখন ইউক্রেন নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদের অপেক্ষায় রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি থাকায় কিয়েভ রুশ হামলার মুখে আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। রয়টার্সের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, বিমান হামলার সতর্কতা জারি হওয়ার আগেই শনিবার ভোরে কিয়েভে একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, এই হামলায় রাশিয়া মোট ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন ব্যবহার করেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনী দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর কতগুলো প্রতিহত করা গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
ইউক্রেনের কর্মকর্তারা বলছেন, প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় গোলাবারুদের তীব্র সংকট রয়েছে।
এ কারণে শব্দের গতির কয়েক গুণ বেশি গতিতে ছুটে আসা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। গত এক মাসে ইউক্রেন বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করতে ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির বিমান বাহিনী। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে রাজধানী কিয়েভে হামলার মাত্রা আরও বাড়িয়েছে রাশিয়া। চলতি মাসেই কিয়েভ ও আশপাশের এলাকায় হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। শনিবারের হামলায় রাজধানীর একটি জেলায় একটি বাণিজ্যিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্য একটি এলাকায় ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
শহরের সামরিক প্রশাসন টেলিগ্রামে জানিয়েছে, হামলার কারণে একটি অফিস ভবনে আগুন লেগেছে। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানিয়েছেন, একটি বিদ্যুৎ উপকেন্দ্রেও আগুন লাগে। এছাড়া বিস্ফোরণের আঘাতে কয়েকটি আবাসিক ভবনের জানালার কাচ ভেঙে গেছে। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, শুধু কিয়েভ নয়, শনিবার সারাদেশে মোট ১১টি স্থানে রাশিয়ার হামলার ঘটনা ঘটেছে।








