জামায়াত নিষিদ্ধ হলে শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? প্রশ্ন আজহারের

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিপরীতে প্রশ্ন তুলে দলটির সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?’

আজ রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের এই নেতা এ কথা বলেন।

সরকারি দলকে উদ্দেশ করে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা কি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন? আমি মনে করি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে?’

এ টি এম আজহারুল আরও বলেন, ‘আপনারা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোক পছন্দ করতেছেন, তাকেই রাখার চেষ্টা করতেছেন। এত বড় দল বিএনপি, তাকে এত পছন্দ হয় কেন? কোন দিক থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তাঁকে রাখতে হবে? ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে চাইলে সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন এ টি এম আজহার। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর মাধ্যমে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তবেই দেশে আইনের শাসন কায়েম হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অতি উচ্চাভিলাষী, ঋণনির্ভর এবং নানা সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং বৃহৎ রাজস্ব ঘাটতির মতো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে সরকারকে।

বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের একটি বড় অংশ। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড পরিমাণ দায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ (ফিন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট) চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুদকে ‘বড় পাপ’ আখ্যায়িত করে এ টি এম আজহার বলেন, ‘এই সুদে জর্জরিত আছে বাংলাদেশের জনগণ। বেশির ভাগ মুসলিমের দেশে আমরা সুদ চলতে দিতে পারি না।’ তিনি সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ‘রিটেইল সুকুক’ (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প ভাবার পরামর্শ দেন।

আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘যদি বাংলাদেশকে আমরা সুদ থেকে মুক্ত করতে চাই, এক বা দুই বছরে তা পারব না। তবে যদি আমরা প্রচেষ্টা শুরু করি, জনগণের টাকা নিয়ে জনগণের উপকার করে সুদমুক্ত সুকুক চালু করতে পারি, আমার মনে হয় ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। এটি সবার জন্যই কল্যাণকর হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» একযোগে ২৯ হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বৃক্ষরোপণ, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

» মিছিল-মিটিং, আনন্দ-ফূর্তির মাধ্যমে জাতি গড়ে উঠতে পারে না: শিবির সভাপতি

» নাহিদ ইসলাম কোনো ব্যক্তি নন, একটি ইতিহাস: ড. ইউনূস

» দেশের পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে গলা টিপে হত্যা করেছেন ইউনূস : রাশেদ খান

» জামায়াত নিষিদ্ধ হলে শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? প্রশ্ন আজহারের

» হাসিনাকে দেশে এনে ফাঁসিতে ঝোলানো হবে: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

» চলতি অর্থবছরের ২৭ জুন পর্যন্ত রেমিট্যান্স বেড়েছে ১৭.৩ শতাংশ

» অক্টোবরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্যে প্রস্তুতি চলছে : ইসি

» ফ্রান্সে স্কাইডাইভিংয়ের বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ১১ জনের প্রাণহানি

» ‘আনসার-ভিডিপি দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তুলে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনছে’

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

জামায়াত নিষিদ্ধ হলে শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? প্রশ্ন আজহারের

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার দাবির বিপরীতে প্রশ্ন তুলে দলটির সংসদ সদস্য এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, ‘ধরলাম আমরা নিষিদ্ধ হয়ে গেলাম। এই শূন্যস্থান পূরণ করবে কে? আপনারা কি একাই দেশ চালাবেন? আপনারা কি একদলীয় শাসন কায়েম করবেন?’

আজ রোববার জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে জামায়াতের এই নেতা এ কথা বলেন।

সরকারি দলকে উদ্দেশ করে এ টি এম আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘আপনারা কি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন? আমি মনে করি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করতে চাচ্ছেন। কারণ চার মাস আপনারা একজন লোক খুঁজে পেলেন না যে প্রেসিডেন্ট কে হবে?’

এ টি এম আজহারুল আরও বলেন, ‘আপনারা ফ্যাসিস্ট সরকারের লোক পছন্দ করতেছেন, তাকেই রাখার চেষ্টা করতেছেন। এত বড় দল বিএনপি, তাকে এত পছন্দ হয় কেন? কোন দিক থেকে ইঙ্গিত পেয়েছেন যে তাঁকে রাখতে হবে? ফ্যাসিবাদ নির্মূল করতে চাইলে সব চিহ্ন মুছে ফেলতে হবে।’

বক্তব্যের শুরুতে মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত জামায়াতে ইসলামীর সাবেক নেতা মতিউর রহমান নিজামী, আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, মুহাম্মদ কামারুজ্জামান, আবদুল কাদের মোল্লা ও মীর কাশেম আলীকে স্মরণ করেন এ টি এম আজহার। তিনি অভিযোগ করেন, অন্যায়ভাবে মিথ্যা মামলা সাজিয়ে ‘জুডিশিয়াল কিলিং’-এর মাধ্যমে তাঁদের হত্যা করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, তবেই দেশে আইনের শাসন কায়েম হবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘অতি উচ্চাভিলাষী, ঋণনির্ভর এবং নানা সীমাবদ্ধতায় আক্রান্ত’ বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের এই সংসদ সদস্য। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর বিপরীতে মোট আয় ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকা। এই বিশাল আকারের বাজেট বাস্তবায়নই হবে সরকারের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এ টি এম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, রাজস্ব আহরণে অনিশ্চয়তা, ঋণের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সংকোচন বাজেট বাস্তবায়নকে কঠিন করে তুলতে পারে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্য থাকলেও মূল্যস্ফীতি, বৈদেশিক মুদ্রার চাপ এবং বৃহৎ রাজস্ব ঘাটতির মতো বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে সরকারকে।

বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের ক্রমবর্ধমান চাপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াতের এই সংসদ সদস্য বলেন, বাজেটে পরিচালন ব্যয়ের পরিমাণ ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা, যা মোট বাজেটের একটি বড় অংশ। এর মধ্যে শুধু সুদ পরিশোধেই ব্যয় হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের এই রেকর্ড পরিমাণ দায় সরকারের আর্থিক সক্ষমতার ওপর গুরুতর চাপ সৃষ্টি করবে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য সুদমুক্ত আর্থিক উপকরণ (ফিন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্ট) চালুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।

সুদকে ‘বড় পাপ’ আখ্যায়িত করে এ টি এম আজহার বলেন, ‘এই সুদে জর্জরিত আছে বাংলাদেশের জনগণ। বেশির ভাগ মুসলিমের দেশে আমরা সুদ চলতে দিতে পারি না।’ তিনি সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে ইসলামী শরিয়াহ মোতাবেক ‘রিটেইল সুকুক’ (ইসলামী বন্ড) ইস্যুর মাধ্যমে জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিকল্প ভাবার পরামর্শ দেন।

আজহারুল ইসলাম বলেন, ‘যদি বাংলাদেশকে আমরা সুদ থেকে মুক্ত করতে চাই, এক বা দুই বছরে তা পারব না। তবে যদি আমরা প্রচেষ্টা শুরু করি, জনগণের টাকা নিয়ে জনগণের উপকার করে সুদমুক্ত সুকুক চালু করতে পারি, আমার মনে হয় ধীরে ধীরে বাংলাদেশ সুদমুক্ত হওয়ার পথে এগিয়ে যাবে। এটি সবার জন্যই কল্যাণকর হবে।’

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com