ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) অ্যাপ্লাইড কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং (এসিসিই) বিভাগের ১৩তম ব্যাচের সাবেক শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি যুক্তরাষ্ট্রে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন। গত পাঁচ দিন ধরে তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না, যা পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জানা গেছে, বৃষ্টি বর্তমানে University of South Florida-এ স্নাতকোত্তর (এমএসসি) পর্যায়ে অধ্যয়নরত ছিলেন।
সহপাঠী ও বিভাগীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক দিন আগে এক সহপাঠীর সঙ্গে ক্যাম্পাসের বাইরে যাওয়ার পর থেকেই তিনি নিখোঁজ হন। এরপর থেকে তার ও সঙ্গে থাকা ওই সহপাঠীর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে, যা ঘটনাটিকে আরও রহস্যজনক করে তুলেছে।
নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ও স্টেট পুলিশ যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে। ফোন ট্র্যাকিংয়ের মাধ্যমে সর্বশেষ অবস্থান ক্যাম্পাসের ভেতরে শনাক্ত হলেও এরপর আর কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে বিষয়টি মায়ামিতে অবস্থিত বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলকে অবহিত করা হয়েছে। কনস্যুলেট সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনে Federal Bureau of Investigation (এফবিআই)-কে সম্পৃক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী নিকটবর্তী হাসপাতাল, বিমানবন্দর ও ডিটেনশন সেন্টারগুলোতেও খোঁজ নিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত তার কোনো সন্ধান মেলেনি।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার সর্বশেষ বৃষ্টির সঙ্গে তাদের কথা হয়। এরপর থেকে আর কোনো যোগাযোগ সম্ভব হয়নি। সহপাঠীদের কাছ থেকে বিষয়টি জানার পর পরিবার পুলিশকে অবহিত করে এবং বিভিন্ন মাধ্যমে খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তারা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছে এবং সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছে।
সহপাঠী, বন্ধু-বান্ধব ও পরিবারের সদস্যরা বৃষ্টির নিরাপদ প্রত্যাবর্তনের জন্য সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন। কেউ তার সম্পর্কে কোনো তথ্য জানলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে এক সহপাঠী জানান, নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই তারা চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। এখন পর্যন্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য না পাওয়ায় উৎকণ্ঠা আরও বাড়ছে। পরিবার ও সহপাঠীদের মধ্যে গভীর হতাশা কাজ করছে।
এসিসিই বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ফাতেহা নুর রুবেল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষার্থী নিখোঁজের ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছে এবং তাকে দ্রুত খুঁজে বের করতে সব ধরনের সহযোগিতা করা হচ্ছে। সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








