ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক :মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কার মধ্যে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। সপ্তাহজুড়ে এই পতন অব্যাহত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় বেলা ১১টা ৪৮ মিনিট পর্যন্ত (জিএমটি ভোর ৫টা ৪৮ মিনিট) আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট স্বর্ণের দাম ০ দশমিক ৬ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স চার হাজার ৪৪৫ দশমিক ৫১ ডলারে দাঁড়ায়। চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম প্রায় ২ শতাংশ কমেছে বলে জানা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগস্ট ডেলিভারির জন্য স্বর্ণের ফিউচারও ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমে চার হাজার ৪৭১ দশমিক ৭০ ডলারে নেমে এসেছে।
মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক অস্থিরতা
প্রতিবেদনে বলা হয়, লেবাননে যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ। একই সঙ্গে ইসরায়েল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। এতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য শান্তি আলোচনা নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, “ইরান-সংঘাতের সমাধান নিয়ে বাড়তে থাকা হতাশা স্বর্ণের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি সুদের হার আরও কঠোর হওয়ার সম্ভাবনাও বাজারকে চাপের মধ্যে রেখেছে।”
যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রানীতি ও সুদের চাপ
ক্যানসাস সিটি ফেডারেল রিজার্ভের প্রেসিডেন্ট জেফ্রি শ্মিড বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সামনে দুটি পথ রয়েছে- সুদের হার স্থির রাখা বা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে তা আরও বাড়ানো।
অন্যদিকে সান ফ্রান্সিসকো ফেডের প্রেসিডেন্ট মেরি ডালি বলেন, ভবিষ্যতের সুদের হার নির্ভর করবে অর্থনীতির গতিপথের ওপর।
তিনি জানান, মুদ্রানীতি বর্তমানে ‘ভালো অবস্থানে’ রয়েছে এবং ফেড প্রয়োজন হলে যেকোনও পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত।
বিশ্লেষকদের মতে, সুদের হার বাড়লে সাধারণত সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়, ফলে দামেও চাপ পড়ে।
বাজারের পূর্বাভাস ও বিনিয়োগকারীদের অপেক্ষা
সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, বাজারে চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা প্রায় ৫১ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে।
এদিকে বিনিয়োগকারীরা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন নন-ফার্ম পেরোলস (কর্মসংস্থান) প্রতিবেদনের দিকে নজর রাখছেন, যা ফেডের ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অন্যান্য ধাতব বাজারেও পতন
বিশ্ববাজারে শুধু স্বর্ণই নয়, অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও কমেছে। স্পট সিলভার ২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৭২ দশমিক ৩৬ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনাম ১ শতাংশ কমে এক হাজার ৮৮০ দশমিক ৪০ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ১ দশমিক ৭ শতাংশ কমে এক হাজার ২৯৮ দশমিক ৪৯ ডলারে দাঁড়িয়েছে। সব ধাতুই সপ্তাহ শেষে ক্ষতির পথে রয়েছে।
এশীয় বাজারে চাহিদা কম
ভারতে এ সপ্তাহে স্বর্ণের চাহিদা কম ছিল, কারণ ক্রেতারা আন্তর্জাতিক দামের অস্থিরতার কারণে বাজার থেকে দূরে ছিলেন। একই সময়ে চীনে স্বর্ণের প্রিমিয়ামও হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, সুদের হার বৃদ্ধির আশঙ্কা এবং অর্থনৈতিক তথ্য প্রকাশের অপেক্ষা- সব মিলিয়ে বিশ্ববাজারে স্বর্ণসহ মূল্যবান ধাতুগুলোর ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স








