ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারের বৃহত্তম শিল্পাঞ্চল রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিতে ফের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ভোরে ইরান থেকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান কাতার এনার্জি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান তাদের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, ভয়াবহ এই হামলায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) উৎপাদন ও রফতানি স্থাপনাগুলোতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, হামলার পরপরই স্থাপনাগুলোতে বড় ধরনের আগুন লাগে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত জরুরি উদ্ধারকারী দল মোতায়েন করা হয়েছে।
কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও নিশ্চিত করেছে যে রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটিকে লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এই শিল্পাঞ্চলটি বিশ্বের সবচেয়ে বড় এলএনজি উৎপাদন ও রফতানি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। হামলায় কাতার এনার্জির ‘পার্ল জিটিএল’ (গ্যাস-টু-লিকুইডস) স্থাপনাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাস লাফান ইন্ডাস্ট্রিয়াল সিটি কাতারের অর্থনীতি ও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এলএনজি উৎপাদন ও রপ্তানি ক্ষেত্রে এটি আন্তর্জাতিক বাজারে একটি মূল কেন্দ্র। সাম্প্রতিক হামলার ফলে কাতারের এলএনজি সরবরাহে অস্থায়ী ব্যাঘাত ঘটতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ তৈরি করতে পারে।
গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী, এই ধরনের হামলা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা এবং সামরিক সংঘাতের প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। যদিও কাতার এনার্জি জানিয়েছে যে তারা দ্রুত উৎপাদন কার্যক্রম পুনরায় চালু করার চেষ্টা করবে।
স্থানীয় নিরাপত্তা বাহিনী ও জরুরি সেবা সংস্থাগুলো এখন অগ্নিকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে এবং প্রাথমিক ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের জন্য ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে। হামলার কারণে এলএনজি স্থাপনাগুলোর অবকাঠামোগত ক্ষতি নিরূপণ করতে আরও কিছু সময় লাগতে পারে।
বিশ্বব্যাপী এ হামলা জ্বালানি নিরাপত্তা, গ্যাস সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে সম্ভাব্য মূল্য ওঠাপড়ার বিষয়ে নতুনভাবে সতর্কতার সূচনা করেছে। কাতার সরকার এই ঘটনায় দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা প্রতিরোধে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছে।








