ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ২০২৬-২০২৭ মেয়াদে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) ৮১তম অধিবেশনে সভাপতি পদে প্রতিদ্বন্দিতা করছে বাংলাদেশ। এ পদে বাংলাদেশের প্রার্থীতার জন্য রাশিয়ার সমর্থন কামনা করেছে ঢাকা।
রোববার (১৪ মার্চ) ঢাকায় রুশ রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার খোজিনের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে এই সমর্থন চান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
তাদের আলোচনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘২০২৬-২৭ বর্ষে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম সেশনের সভাপতি পদে বাংলাদেশের প্রার্থিতার পক্ষে রাশিয়ার সমর্থন চেয়েছেন প্রতিমন্ত্রী।’
জাতিসংঘের ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ২ জুন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম সেশনের সভাপতি পদের নির্বাচন হবে। আঞ্চলিকভাবে ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে এবার এশিয়া-প্যাসিফিক গ্রুপ থেকে সভাপতি হওয়ার কথা।
সদ্য বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এ নির্বাচনের জন্য তৎকালীন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে মনোনয়ন দিয়েছিল। একইপদে ফিলিস্তিনের প্রার্থী থাকার কারণে বাংলাদেশ প্রার্থিতা স্থগিত রাখলেও প্রত্যাহার করেনি।
এরপর ফিলিস্তিন প্রার্থিতা প্রত্যাহার হলে বাংলাদেশের প্রার্থিতা পুনর্জ্জীবিত হয়। এর মধ্যে সরকার পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বদলে নতুন সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে বাংলাদেশের প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
সভাপতি পদে নির্বাচনে খলিলুর রহমানের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে রয়েছেন সাইপ্রাসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বিশেষ দূত আন্দ্রেয়াস এস কাকোরিস। এর মধ্যে জাতিসংঘে বাংলাদেশের প্রার্থিতাকে সমর্থন দিয়েছে ওআইসি। প্রার্থিতার পক্ষে প্রচার চালাতে তুরস্ক হয়ে নিউ ইয়র্ক সফরে গেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, রাষ্ট্রদূত খোজিনের সঙ্গে আলোচনায় রাশিয়া ও বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা বলেছেন প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ।
তিনি বলেছেন, জ্বালানি, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, শিক্ষা, দক্ষ অভিবাসন এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক সংযোগসহ বিভিন্ন খাতের মধ্য দিয়ে সেই সম্পর্ক বিস্তৃত হচ্ছে।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন রুশ রাষ্ট্রদূত। একইসঙ্গে রাশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অব্যাহত যোগাযোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এদিকে ঢাকায় রুশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুই পক্ষের আলোচনায় জাতিসংঘ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সংস্থায় পারস্পরিক সংলাপের পাশাপাশি বিনিয়োগ সহযোগিতার সম্ভাবনার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
৪০ বছর আগে একবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বাংলাদেশের হুমায়ুন রশিদ চৌধুরী। ১৯৮৫-৮৬ বর্ষে ৪১তম সেশনের জন্য তাকে সভাপতি প্রার্থী করেছিল হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ সরকার।








