পৃথিবীর যেসব স্থানে গুপ্তধন পাওয়া গেছে

ছবি সংগৃহীত

 

গুপ্তধন শুধু সোনা-রুপার গল্প নয়, বরং প্রাচীন সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়া রাজ্য আর মানুষের অদম্য অনুসন্ধিৎসার সাক্ষী

ফিচার ডেস্ক : পৃথিবীর ইতিহাস মানেই রহস্য আর বিস্ময়ের গল্প। সময়ের গভীরে হারিয়ে গেছে এমন অনেক ধন-সম্পদ, যার কিছু আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি, আবার কিছু হঠাৎ করেই আবিষ্কৃত হয়েছে মাটির নিচে, সমুদ্রের তলায় কিংবা অজানা কোনো দ্বীপে। এই গুপ্তধনগুলো শুধু সোনা-রুপার গল্প নয়, বরং এগুলো প্রাচীন সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়া রাজ্য আর মানুষের অদম্য অনুসন্ধিৎসার সাক্ষী। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও কিছু রহস্য আজও অমীমাংসিত থেকে গেছে, যা মানুষকে বারবার নতুন করে খুঁজে দেখতে উৎসাহিত করে।

jagonews

১. ওক আইল্যান্ড, কানাডা

ওক আইল্যান্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় গুপ্তধনের জায়গা হিসেবে ধরা হয়। ১৭৯৫ সালে প্রথমবার এখানে একটি অদ্ভুত গভীর গর্ত আবিষ্কৃত হয়, যার ভেতরে স্তরে স্তরে কাঠ, মাটি এবং কৃত্রিম কাঠামোর মতো কিছু দেখা যায়। এরপর থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন দল এখানে খনন চালিয়েছে। খননের সময় অনেক জটিল পানি প্রবেশের সুড়ঙ্গ, পুরোনো কাঠামো এবং কিছু ঐতিহাসিক বস্তু পাওয়া গেলেও মূল গুপ্তধনের কোনো নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি। ধারণা করা হয়, এখানে হয়তো কোনো প্রাচীন জলদস্যু বা নাইট টেম্পলারদের লুকানো বিশাল ধন রয়েছে।

২. কোকোস আইল্যান্ড, কোস্টা রিকা

কোকোস আইল্যান্ডকে বহুদিন ধরে জলদস্যুদের গুপ্তধনের স্বর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৮ থেকে ১৯ শতকের মধ্যে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের জাহাজ লুট করে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ সোনা ও সম্পদ এখানে লুকানো হয়েছে বলে কিংবদন্তি রয়েছে। বিশেষ করে লিমার ট্রেজার নামে পরিচিত বিশাল ধনভাণ্ডার এখানে থাকার গুজব সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বহু অভিযান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া যায়নি, তবে কিছু ছোট সোনার বস্তু ও প্রাচীন নিদর্শন উদ্ধার হয়েছে।

jagonews

৩. ফ্লোরিডা কিজ, যুক্তরাষ্ট্র

ফ্লোরিডা কিজ অঞ্চল সমুদ্রের নিচে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ জাহাজ ও গুপ্তধনের জন্য বিখ্যাত। সবচেয়ে আলোচিত আবিষ্কার হলো নিউস্ট্রা সেনরা ডি অ্যাটোছা নামের একটি জাহাজের ধনভাণ্ডার। ১৬২২ সালে ঝড়ের কারণে ডুবে যাওয়া এই জাহাজ থেকে ১৯৮৫ সালে উদ্ধারকারী মেল ফিশার দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিপুল পরিমাণ সোনা, রূপা, হীরা এবং মূল্যবান রত্ন উদ্ধার করেন। এই আবিষ্কারকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সামুদ্রিক ট্রেজার ফাইন্ড বলা হয়।

৪. পানাগিউরিশটে ট্রেজার, বুলগেরিয়া

১৯৪৯ সালে বুলগেরিয়ার পানাগিউরিশটে এলাকায় একদল শ্রমিক মাটি খননের সময় আকস্মিকভাবে প্রাচীন সোনার তৈরি পাত্র আবিষ্কার করে। পরে জানা যায়, এটি থ্রাসিয়ান সভ্যতার প্রায় ৪র্থ থেকে ৩য় শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব সময়ের রাজকীয় ধন। এই গুপ্তধনের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নকশা করা সোনার পাত্র, পানপাত্র ও অলংকার, যা প্রাচীন সভ্যতার শিল্প ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

jagonews

৫. স্টাফোর্ডশায়ার হোর্ড, ইংল্যান্ড

২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের একটি মাঠে শখের ধাতু অনুসন্ধানকারী একটি বিশাল অ্যাংলো-স্যাক্সন গুপ্তধন আবিষ্কার করেন। এতে ছিল ৩,৫০০-এরও বেশি সোনার ও রূপার তৈরি জিনিসপত্র, যার মধ্যে যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্রের অংশ ও রাজকীয় অলংকারও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো যুদ্ধ বা আক্রমণের সময় নিরাপদে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই আবিষ্কার অ্যাংলো-স্যাক্সন ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬. স্যাডল রিজ হোর্ড, যুক্তরাষ্ট্র

২০১৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি দম্পতি তাদের জমিতে হাঁটার সময় মরিচা ধরা পুরোনো ক্যান খুঁজে পান। পরে সেই ক্যান খুলতেই বেরিয়ে আসে শত শত সোনার কয়েন, যা ১৮৪০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে তৈরি। মোট ১,৪০০-এরও বেশি কয়েন পাওয়া যায়, যেগুলোর মূল্য মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় আকস্মিক গুপ্তধন আবিষ্কার হিসেবে পরিচিত।

jagonews

৭. আটলান্টিক মহাসাগরের ট্রেজার শিপ

আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে বহু শতাব্দী ধরে ডুবে আছে অসংখ্য জাহাজ, যার মধ্যে কিছুতে ছিল বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এসব জাহাজ থেকে হাজার হাজার সোনার ও রূপার মুদ্রা, ধাতব বার এবং প্রাচীন সামুদ্রিক নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সমুদ্রের গভীরতায় এখনো অনেক জাহাজ ও ধনসম্পদ অজানা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতের আবিষ্কারের অপেক্ষায়।  সূএ : জাগোনিউজ২৪.কমে

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ট্রাক-সিএনজির সংঘর্ষে নিহত ১

» আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যাওয়া আসামি র‌্যাব হাতে গ্রেফতার

» যুদ্ধের মাঝেই আবুধাবির গ্যাস প্রকল্পে ৬.২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে ইউএই

» প্রবাসী কার্ডধারীদের ভূমি সেবা সহজ করতে ভূমিমন্ত্রীর নির্দেশ

» যেকোনো দুর্যোগে দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে: জুবাইদা রহমান

» নেতাকর্মীকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান রিজভীর

» মানবতাবিরোধী অপরাধে মোজাফফরকে ট্রাইব্যুনালে হাজিরের নির্দেশ

» তিন জেলায় চার নদীর পানি বিপৎসীমার ওপরে, সতর্কসীমায় আরও ১২টি

» গুম ও বিচারবহির্ভূত খুনকে প্রশ্রয় দেবে না সরকার : ডা. জাহেদ

» এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে ভুয়া বিজ্ঞপ্তি, বোর্ডের জরুরি বার্তা

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

পৃথিবীর যেসব স্থানে গুপ্তধন পাওয়া গেছে

ছবি সংগৃহীত

 

গুপ্তধন শুধু সোনা-রুপার গল্প নয়, বরং প্রাচীন সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়া রাজ্য আর মানুষের অদম্য অনুসন্ধিৎসার সাক্ষী

ফিচার ডেস্ক : পৃথিবীর ইতিহাস মানেই রহস্য আর বিস্ময়ের গল্প। সময়ের গভীরে হারিয়ে গেছে এমন অনেক ধন-সম্পদ, যার কিছু আজও খুঁজে পাওয়া যায়নি, আবার কিছু হঠাৎ করেই আবিষ্কৃত হয়েছে মাটির নিচে, সমুদ্রের তলায় কিংবা অজানা কোনো দ্বীপে। এই গুপ্তধনগুলো শুধু সোনা-রুপার গল্প নয়, বরং এগুলো প্রাচীন সভ্যতা, হারিয়ে যাওয়া রাজ্য আর মানুষের অদম্য অনুসন্ধিৎসার সাক্ষী। আধুনিক প্রযুক্তির যুগেও কিছু রহস্য আজও অমীমাংসিত থেকে গেছে, যা মানুষকে বারবার নতুন করে খুঁজে দেখতে উৎসাহিত করে।

jagonews

১. ওক আইল্যান্ড, কানাডা

ওক আইল্যান্ডকে বিশ্বের সবচেয়ে রহস্যময় গুপ্তধনের জায়গা হিসেবে ধরা হয়। ১৭৯৫ সালে প্রথমবার এখানে একটি অদ্ভুত গভীর গর্ত আবিষ্কৃত হয়, যার ভেতরে স্তরে স্তরে কাঠ, মাটি এবং কৃত্রিম কাঠামোর মতো কিছু দেখা যায়। এরপর থেকে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে বিভিন্ন দল এখানে খনন চালিয়েছে। খননের সময় অনেক জটিল পানি প্রবেশের সুড়ঙ্গ, পুরোনো কাঠামো এবং কিছু ঐতিহাসিক বস্তু পাওয়া গেলেও মূল গুপ্তধনের কোনো নিশ্চিত সন্ধান মেলেনি। ধারণা করা হয়, এখানে হয়তো কোনো প্রাচীন জলদস্যু বা নাইট টেম্পলারদের লুকানো বিশাল ধন রয়েছে।

২. কোকোস আইল্যান্ড, কোস্টা রিকা

কোকোস আইল্যান্ডকে বহুদিন ধরে জলদস্যুদের গুপ্তধনের স্বর্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ১৮ থেকে ১৯ শতকের মধ্যে স্প্যানিশ সাম্রাজ্যের জাহাজ লুট করে সংগৃহীত বিপুল পরিমাণ সোনা ও সম্পদ এখানে লুকানো হয়েছে বলে কিংবদন্তি রয়েছে। বিশেষ করে লিমার ট্রেজার নামে পরিচিত বিশাল ধনভাণ্ডার এখানে থাকার গুজব সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। বহু অভিযান চালানো হলেও এখন পর্যন্ত বড় কোনো গুপ্তধনের সন্ধান পাওয়া যায়নি, তবে কিছু ছোট সোনার বস্তু ও প্রাচীন নিদর্শন উদ্ধার হয়েছে।

jagonews

৩. ফ্লোরিডা কিজ, যুক্তরাষ্ট্র

ফ্লোরিডা কিজ অঞ্চল সমুদ্রের নিচে ডুবে যাওয়া স্প্যানিশ জাহাজ ও গুপ্তধনের জন্য বিখ্যাত। সবচেয়ে আলোচিত আবিষ্কার হলো নিউস্ট্রা সেনরা ডি অ্যাটোছা নামের একটি জাহাজের ধনভাণ্ডার। ১৬২২ সালে ঝড়ের কারণে ডুবে যাওয়া এই জাহাজ থেকে ১৯৮৫ সালে উদ্ধারকারী মেল ফিশার দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর বিপুল পরিমাণ সোনা, রূপা, হীরা এবং মূল্যবান রত্ন উদ্ধার করেন। এই আবিষ্কারকে আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম সামুদ্রিক ট্রেজার ফাইন্ড বলা হয়।

৪. পানাগিউরিশটে ট্রেজার, বুলগেরিয়া

১৯৪৯ সালে বুলগেরিয়ার পানাগিউরিশটে এলাকায় একদল শ্রমিক মাটি খননের সময় আকস্মিকভাবে প্রাচীন সোনার তৈরি পাত্র আবিষ্কার করে। পরে জানা যায়, এটি থ্রাসিয়ান সভ্যতার প্রায় ৪র্থ থেকে ৩য় শতাব্দী খ্রিস্টপূর্ব সময়ের রাজকীয় ধন। এই গুপ্তধনের মধ্যে রয়েছে অত্যন্ত সূক্ষ্ম নকশা করা সোনার পাত্র, পানপাত্র ও অলংকার, যা প্রাচীন সভ্যতার শিল্প ও ক্ষমতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

jagonews

৫. স্টাফোর্ডশায়ার হোর্ড, ইংল্যান্ড

২০০৯ সালে ইংল্যান্ডের একটি মাঠে শখের ধাতু অনুসন্ধানকারী একটি বিশাল অ্যাংলো-স্যাক্সন গুপ্তধন আবিষ্কার করেন। এতে ছিল ৩,৫০০-এরও বেশি সোনার ও রূপার তৈরি জিনিসপত্র, যার মধ্যে যুদ্ধের সময় ব্যবহৃত অস্ত্রের অংশ ও রাজকীয় অলংকারও রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো যুদ্ধ বা আক্রমণের সময় নিরাপদে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। এই আবিষ্কার অ্যাংলো-স্যাক্সন ইতিহাস বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬. স্যাডল রিজ হোর্ড, যুক্তরাষ্ট্র

২০১৩ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার একটি দম্পতি তাদের জমিতে হাঁটার সময় মরিচা ধরা পুরোনো ক্যান খুঁজে পান। পরে সেই ক্যান খুলতেই বেরিয়ে আসে শত শত সোনার কয়েন, যা ১৮৪০ থেকে ১৮৯০ সালের মধ্যে তৈরি। মোট ১,৪০০-এরও বেশি কয়েন পাওয়া যায়, যেগুলোর মূল্য মিলিয়ন ডলারেরও বেশি। এই ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে অন্যতম বড় আকস্মিক গুপ্তধন আবিষ্কার হিসেবে পরিচিত।

jagonews

৭. আটলান্টিক মহাসাগরের ট্রেজার শিপ

আটলান্টিক মহাসাগরের গভীরে বহু শতাব্দী ধরে ডুবে আছে অসংখ্য জাহাজ, যার মধ্যে কিছুতে ছিল বিপুল পরিমাণ ধনসম্পদ। আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এসব জাহাজ থেকে হাজার হাজার সোনার ও রূপার মুদ্রা, ধাতব বার এবং প্রাচীন সামুদ্রিক নিদর্শন উদ্ধার করা হয়েছে। তবে সমুদ্রের গভীরতায় এখনো অনেক জাহাজ ও ধনসম্পদ অজানা রয়ে গেছে, যা ভবিষ্যতের আবিষ্কারের অপেক্ষায়।  সূএ : জাগোনিউজ২৪.কমে

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com