মৃতব্যক্তির নামে কোরবানির ৩টি শরিয়তসম্মত পদ্ধতি

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় দেখা যায়, অনেক মুমিন মৃত বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নিকটাত্মীয়ের জন্য কোরবানি দেন। অনেকে এটিকে মৃত ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ মনে করেন, আবার কেউ ভাবেন- এটি কি শরিয়তসম্মত নাকি বিদআত? ইসলামি শরিয়তের আলোকে মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করার তিনটি সঠিক ও নিরাপদ পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো।

১. সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে নফল কোরবানি

মৃত ব্যক্তির নামে আলাদাভাবে কোরবানি দেওয়া জায়েজ এবং এটি তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। তবে এটি কেবল নফল ইবাদত হিসেবে প্রযোজ্য। কোরবানিদাতাকে আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে নফল কোরবানি করেছেন। হাদিসে এসেছে, তিনি দুটি দুম্বা কোরবানি করতেন- একটি উম্মতের জন্য, আরেকটি নিজের ও পরিবারের জন্য। (ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ)

২. নিজের কোরবানির সওয়াবে মৃতকে অংশীদার করা

নিজের ওয়াজিব কোরবানির সময় মৃত আত্মীয়কে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বড় পশু বা ভাগে কোরবানিতে নিজের অংশ রেখে মনে মনে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করলে নিজের কোরবানিও আদায় হবে এবং মৃত ব্যক্তিও সওয়াব পাবেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) কোরবানির সময় দোয়া করতেন- ‘হে আল্লাহ! এটি মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন।’ (আবু দাউদ: ২৭৯২)
আলেমগণ এই হাদিসের আলোকে মতামত দিয়েছেন যে, নিজের কোরবানির সওয়াবে মৃত ব্যক্তিকে শামিল করা জায়েজ।

৩. মৃত ব্যক্তির অসিয়ত অনুযায়ী কোরবানি

যদি মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর আগে অসিয়ত করেন যে তাঁর সম্পদ থেকে কোরবানি করা হবে, তবে উত্তরাধিকারীদের সেই অসিয়ত পূরণ করা ওয়াজিব- যদি সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সম্ভব হয়।

বিশেষ বিধান

অসিয়তের কোরবানির গোশত কোরবানিদাতা বা তাঁর আত্মীয়রা খেতে পারবেন না। সম্পূর্ণ গোশত গরিব-মিসকিনদের মধ্যে সদকা করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৮; ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ৫/২৯৩)

কোরবানির গোশত বণ্টনের বিধান

নফল কোরবানির ক্ষেত্রে গোশত নিজে খাওয়া ও আত্মীয়দের বিতরণ করা যায়। তবে অসিয়তের কোরবানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ গোশত সদকা হিসেবে বিতরণ করতে হবে; নিজে বা আত্মীয়রা খাওয়া জায়েজ নয়।

বিদআত থেকে সতর্কতা

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি কেবল নফল ইবাদত বা সদকা হিসেবে দেওয়া যায়, ওয়াজিব হিসেবে নয়। নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় না করে কেবল মৃতের নামে কোরবানি করা শরিয়তসম্মত নয়।

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি একটি সওয়াবের আমল, যা সুন্নাহসম্মতভাবে সম্পন্ন হলে মৃতের উপকারে আসে। তবে নিয়ত কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া জরুরি এবং লোকদেখানো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা আবশ্যক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» একাদশে ভর্তিতে আসন সংকটের শঙ্কা নেই, ফাঁকা থাকবে কয়েক লাখ

» ধানমন্ডিতে গাছ পড়ে দুমড়ে-মুচড়ে গেছে দুটি প্রাইভেটকার

» ছাত্রদল সহিংস রাজনীতি থেকে বের হতে পারছে না: শিবির সেক্রেটারি

» গণভোটের রায় মেনে রাষ্ট্র সংস্কার করতে হবে: জামায়াত আমির

» ম্যানেজিং কমিটি দ্বারা শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা বাতিল চান এমপি হাসনাত

» বিরোধী দল সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনা করবে এটাই গণতন্ত্র: রিজভী

» নির্বাচনী সহিংসতা-অনিয়ম ভবিষ্যতে আরও বাড়বে : মজিবুর রহমান

» সৌদিতে অগ্নিকাণ্ডে নিহতদের মরদেহ দেশে আনাসহ পরিবারের পুনর্বাসন দাবি চরমোনাই পীরের

» পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ডিবি পুলিশের অভিযানে ১৮ জন গ্রেপ্তার

» নেপালে অপু বিশ্বাসের ‘শিকার’ সিনেমার শুটিং শুরু

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

মৃতব্যক্তির নামে কোরবানির ৩টি শরিয়তসম্মত পদ্ধতি

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :প্রতি বছর ঈদুল আজহার সময় দেখা যায়, অনেক মুমিন মৃত বাবা-মা, দাদা-দাদি বা নিকটাত্মীয়ের জন্য কোরবানি দেন। অনেকে এটিকে মৃত ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ মনে করেন, আবার কেউ ভাবেন- এটি কি শরিয়তসম্মত নাকি বিদআত? ইসলামি শরিয়তের আলোকে মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি করার তিনটি সঠিক ও নিরাপদ পদ্ধতি নিচে তুলে ধরা হলো।

১. সওয়াব পৌঁছানোর নিয়তে নফল কোরবানি

মৃত ব্যক্তির নামে আলাদাভাবে কোরবানি দেওয়া জায়েজ এবং এটি তার জন্য সদকা হিসেবে গণ্য হয়। তবে এটি কেবল নফল ইবাদত হিসেবে প্রযোজ্য। কোরবানিদাতাকে আগে নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় করতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (স.) নিজে তাঁর উম্মতের পক্ষ থেকে নফল কোরবানি করেছেন। হাদিসে এসেছে, তিনি দুটি দুম্বা কোরবানি করতেন- একটি উম্মতের জন্য, আরেকটি নিজের ও পরিবারের জন্য। (ইবনে মাজাহ, আবু দাউদ)

২. নিজের কোরবানির সওয়াবে মৃতকে অংশীদার করা

নিজের ওয়াজিব কোরবানির সময় মৃত আত্মীয়কে সওয়াব পৌঁছানোর উদ্দেশ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়। বড় পশু বা ভাগে কোরবানিতে নিজের অংশ রেখে মনে মনে সওয়াব পৌঁছানোর নিয়ত করলে নিজের কোরবানিও আদায় হবে এবং মৃত ব্যক্তিও সওয়াব পাবেন।
রাসুলুল্লাহ (স.) কোরবানির সময় দোয়া করতেন- ‘হে আল্লাহ! এটি মুহাম্মাদ, তাঁর পরিবার এবং উম্মতের পক্ষ থেকে কবুল করুন।’ (আবু দাউদ: ২৭৯২)
আলেমগণ এই হাদিসের আলোকে মতামত দিয়েছেন যে, নিজের কোরবানির সওয়াবে মৃত ব্যক্তিকে শামিল করা জায়েজ।

৩. মৃত ব্যক্তির অসিয়ত অনুযায়ী কোরবানি

যদি মৃত ব্যক্তি মৃত্যুর আগে অসিয়ত করেন যে তাঁর সম্পদ থেকে কোরবানি করা হবে, তবে উত্তরাধিকারীদের সেই অসিয়ত পূরণ করা ওয়াজিব- যদি সম্পদের এক-তৃতীয়াংশের মধ্যে সম্ভব হয়।

বিশেষ বিধান

অসিয়তের কোরবানির গোশত কোরবানিদাতা বা তাঁর আত্মীয়রা খেতে পারবেন না। সম্পূর্ণ গোশত গরিব-মিসকিনদের মধ্যে সদকা করা ওয়াজিব। (বাদায়েউস সানায়ে: ৪/২০৮; ফতোয়ায়ে আলমগিরি: ৫/২৯৩)

কোরবানির গোশত বণ্টনের বিধান

নফল কোরবানির ক্ষেত্রে গোশত নিজে খাওয়া ও আত্মীয়দের বিতরণ করা যায়। তবে অসিয়তের কোরবানির ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ গোশত সদকা হিসেবে বিতরণ করতে হবে; নিজে বা আত্মীয়রা খাওয়া জায়েজ নয়।

বিদআত থেকে সতর্কতা

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি কেবল নফল ইবাদত বা সদকা হিসেবে দেওয়া যায়, ওয়াজিব হিসেবে নয়। নিজের ওয়াজিব কোরবানি আদায় না করে কেবল মৃতের নামে কোরবানি করা শরিয়তসম্মত নয়।

মৃত ব্যক্তির নামে কোরবানি একটি সওয়াবের আমল, যা সুন্নাহসম্মতভাবে সম্পন্ন হলে মৃতের উপকারে আসে। তবে নিয়ত কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য হওয়া জরুরি এবং লোকদেখানো থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থাকা আবশ্যক।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com