আপনার কি রোজা কাজা আছে? এখনই সময়!

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান। রমজানের পূর্ণ বরকত লাভে প্রয়োজন যথাযথ আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি। গত রমজানে শারীরিক অসুস্থতা, সফর কিংবা নারীদের ঋতুস্রাবের মতো শরয়ি অপারগতার কারণে যাদের রোজা কাজা হয়েছিল, সেই অনাদায়ী রোজাগুলো আদায়ের জন্য বর্তমান শাবান মাসই হলো শেষ সময়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর বা কারণ না থাকলে পরবর্তী রমজান শুরুর আগেই বিগত বছরের বকেয়া রোজাগুলো শেষ করা জরুরি।

শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের বিধান ও দালিলিক গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো-

১. মহান আল্লাহর দেওয়া সুযোগ

অনিবার্য কারণে রোজা ছুটে গেলে মহান আল্লাহ তাআলা দয়া করে সেই রোজাগুলো পরবর্তী সময়ে আদায়ের সুযোগ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৪)
এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সংখ্যা পূরণ করা অর্থাৎ কাজা আদায় করা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আবশ্যকীয় নির্দেশ।

২. কাজা রোজা আদায়ের সময়সীমা

রমজানের কাজা রোজা আদায়ের জন্য শরিয়ত দীর্ঘ সময় বরাদ্দ করেছে। শাওয়াল মাস থেকে শুরু করে পরবর্তী শাবান মাস পর্যন্ত- অর্থাৎ প্রায় ১১ মাস এই সুযোগ অবারিত থাকে। তবে অলসতাবশত দেরি করা সমীচীন নয়। যাদের শরয়ি কোনো স্থায়ী ওজর নেই, তাদের জন্য শাবান মাসই হলো বিগত বছরের কাজা রোজা আদায়ের শেষ সুযোগ।

৩. উম্মুল মুমিনিনের আমল: একটি শক্তিশালী দলিল

শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের বৈধতা ও গুরুত্বের সবচেয়ে বড় দলিল হলো উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-এর আমল। তিনি বলেন- ‘আমার ওপর রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকত, যা আমি শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৫০)
হাদিস বিশারদগণের মতে, হজরত আয়েশা (রা.) আল্লাহর রাসুল (স.)-এর খেদমতে এবং তাঁর আনুষঙ্গিক কাজে সারা বছর ব্যস্ত থাকতেন। ফলে নফল রোজা রাখা তাঁর জন্য সহজ হলেও কাজা রোজা আদায়ের জন্য তিনি শাবান মাসকেই বেছে নিতেন। এটি প্রমাণ করে যে, গ্রহণযোগ্য কারণ থাকলে শাবান পর্যন্ত কাজা বিলম্ব করা জায়েজ।

৪. দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা ও পরবর্তী রমজান

যদি কোনো ব্যক্তি গত রমজানে অসুস্থ থাকার কারণে রোজা রাখতে না পারেন এবং সেই অসুস্থতা বা ওজর পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত স্থায়ী হয় (যেমন: দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালীন দুর্বলতা), তবে তাঁর জন্য বিধান ভিন্ন। এমতাবস্থায় তিনি বর্তমান রমজানের রোজাগুলো আগে রাখবেন। গত বছরের অনাদায়ী রোজাগুলো তাঁর জিম্মায় ‘বকেয়া ঋণ’ হিসেবে থেকে যাবে। তিনি ওজরমুক্ত হওয়ার পর সুবিধামতো সময়ে সেগুলো আদায় করবেন। এক্ষেত্রে গুনাহ হবে না, কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

৫. শাবান মাসের বিশেষ গুরুত্ব ও প্রস্তুতি

শাবান মাস হলো রমজানের প্রবেশদ্বার। এ মাসে রাসুল (স.) বেশি বেশি রোজা রাখতেন। তাই এ মাসে কাজা রোজা রাখলে একদিকে যেমন ফরজ দায়িত্ব পালন হয়, অন্যদিকে রমজানের আগে রোজা রাখার একটি শারীরিক ও মানসিক মহড়াও সম্পন্ন হয়। এতে রমজানের প্রথম দিকের রোজাগুলো রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

মুমিনদের প্রতি আহ্বান

শাবান মাস শুরু হওয়ার পর আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের বিগত রমজানের কোনো রোজা বাকি আছে কি না তা যাচাই করা। যদি ওজর ছাড়াই অনাদায়ী থাকে, তবে আর কালক্ষেপণ না করে শাবানের এই দিনগুলোতেই তা শেষ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, কাজা রোজা আমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ঋণ। আর রমজানের পবিত্র মোহনায় প্রবেশের আগে এই ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া মুমিনের জন্য পরম প্রশান্তির।

সূএ:ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন নাহিদ ইসলাম

» আলোর মশাল

» জাপানে ভোটগ্রহণ চলছে

» আপনার এলাকার নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ-পরামর্শ জানাবেন যে নম্বরে

» অষ্টম শ্রেণিতে শিক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশনের সময় বেড়েছে

» শিশু পড়ে গেলে কাঁদবে কি না – তা নির্ভর করে আপনার ওপর

» যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি: শুল্ক আরও কমার আশা উপদেষ্টার

» আপনার কি রোজা কাজা আছে? এখনই সময়!

» যৌথ বাহিনীর অভিযানে দেড় হাজার রোহিঙ্গা আটক

» যৌথ বাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ ককটেল, দা ও লাঠি উদ্ধার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

আপনার কি রোজা কাজা আছে? এখনই সময়!

ছবি সংগৃহীত

 

ধর্ম ডেস্ক :দোরগোড়ায় কড়া নাড়ছে রহমত, মাগফেরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান। রমজানের পূর্ণ বরকত লাভে প্রয়োজন যথাযথ আত্মিক ও শারীরিক প্রস্তুতি। গত রমজানে শারীরিক অসুস্থতা, সফর কিংবা নারীদের ঋতুস্রাবের মতো শরয়ি অপারগতার কারণে যাদের রোজা কাজা হয়েছিল, সেই অনাদায়ী রোজাগুলো আদায়ের জন্য বর্তমান শাবান মাসই হলো শেষ সময়। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, গ্রহণযোগ্য কোনো ওজর বা কারণ না থাকলে পরবর্তী রমজান শুরুর আগেই বিগত বছরের বকেয়া রোজাগুলো শেষ করা জরুরি।

শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের বিধান ও দালিলিক গুরুত্ব নিচে তুলে ধরা হলো-

১. মহান আল্লাহর দেওয়া সুযোগ

অনিবার্য কারণে রোজা ছুটে গেলে মহান আল্লাহ তাআলা দয়া করে সেই রোজাগুলো পরবর্তী সময়ে আদায়ের সুযোগ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তাকে অন্য দিনগুলোতে এই সংখ্যা পূরণ করে নিতে হবে।’ (সুরা বাকারা: ১৮৪)
এই আয়াতের মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, সংখ্যা পূরণ করা অর্থাৎ কাজা আদায় করা আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি আবশ্যকীয় নির্দেশ।

২. কাজা রোজা আদায়ের সময়সীমা

রমজানের কাজা রোজা আদায়ের জন্য শরিয়ত দীর্ঘ সময় বরাদ্দ করেছে। শাওয়াল মাস থেকে শুরু করে পরবর্তী শাবান মাস পর্যন্ত- অর্থাৎ প্রায় ১১ মাস এই সুযোগ অবারিত থাকে। তবে অলসতাবশত দেরি করা সমীচীন নয়। যাদের শরয়ি কোনো স্থায়ী ওজর নেই, তাদের জন্য শাবান মাসই হলো বিগত বছরের কাজা রোজা আদায়ের শেষ সুযোগ।

৩. উম্মুল মুমিনিনের আমল: একটি শক্তিশালী দলিল

শাবান মাসে কাজা রোজা আদায়ের বৈধতা ও গুরুত্বের সবচেয়ে বড় দলিল হলো উম্মুল মুমিনিন হজরত আয়েশা (রা.)-এর আমল। তিনি বলেন- ‘আমার ওপর রমজানের কাজা রোজা বাকি থাকত, যা আমি শাবান মাস ছাড়া আদায় করতে পারতাম না।’ (সহিহ বুখারি: ১৯৫০)
হাদিস বিশারদগণের মতে, হজরত আয়েশা (রা.) আল্লাহর রাসুল (স.)-এর খেদমতে এবং তাঁর আনুষঙ্গিক কাজে সারা বছর ব্যস্ত থাকতেন। ফলে নফল রোজা রাখা তাঁর জন্য সহজ হলেও কাজা রোজা আদায়ের জন্য তিনি শাবান মাসকেই বেছে নিতেন। এটি প্রমাণ করে যে, গ্রহণযোগ্য কারণ থাকলে শাবান পর্যন্ত কাজা বিলম্ব করা জায়েজ।

৪. দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা ও পরবর্তী রমজান

যদি কোনো ব্যক্তি গত রমজানে অসুস্থ থাকার কারণে রোজা রাখতে না পারেন এবং সেই অসুস্থতা বা ওজর পরবর্তী রমজান আসা পর্যন্ত স্থায়ী হয় (যেমন: দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতা, গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদানকালীন দুর্বলতা), তবে তাঁর জন্য বিধান ভিন্ন। এমতাবস্থায় তিনি বর্তমান রমজানের রোজাগুলো আগে রাখবেন। গত বছরের অনাদায়ী রোজাগুলো তাঁর জিম্মায় ‘বকেয়া ঋণ’ হিসেবে থেকে যাবে। তিনি ওজরমুক্ত হওয়ার পর সুবিধামতো সময়ে সেগুলো আদায় করবেন। এক্ষেত্রে গুনাহ হবে না, কারণ আল্লাহ তাআলা ইরশাদ করেছেন- ‘আল্লাহ তোমাদের সহজ চান এবং কঠিন চান না।’ (সুরা বাকারা: ১৮৫)

৫. শাবান মাসের বিশেষ গুরুত্ব ও প্রস্তুতি

শাবান মাস হলো রমজানের প্রবেশদ্বার। এ মাসে রাসুল (স.) বেশি বেশি রোজা রাখতেন। তাই এ মাসে কাজা রোজা রাখলে একদিকে যেমন ফরজ দায়িত্ব পালন হয়, অন্যদিকে রমজানের আগে রোজা রাখার একটি শারীরিক ও মানসিক মহড়াও সম্পন্ন হয়। এতে রমজানের প্রথম দিকের রোজাগুলো রাখা অনেক সহজ হয়ে যায়।

মুমিনদের প্রতি আহ্বান

শাবান মাস শুরু হওয়ার পর আমাদের প্রত্যেকের উচিত নিজের এবং পরিবারের সদস্যদের বিগত রমজানের কোনো রোজা বাকি আছে কি না তা যাচাই করা। যদি ওজর ছাড়াই অনাদায়ী থাকে, তবে আর কালক্ষেপণ না করে শাবানের এই দিনগুলোতেই তা শেষ করা উচিত। মনে রাখতে হবে, কাজা রোজা আমাদের ওপর আল্লাহর পক্ষ থেকে একটি ঋণ। আর রমজানের পবিত্র মোহনায় প্রবেশের আগে এই ঋণ থেকে মুক্ত হওয়া মুমিনের জন্য পরম প্রশান্তির।

সূএ:ঢাকা মেইল ডটকম

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

আমাদের সাথে যোগাযোগ করুন: ই-মেইল : [email protected],

মোবাইল :০১৫৩৫১৩০৩৫০

Design & Developed BY ThemesBazar.Com