ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ইসলামের কথা বলে জামায়াতে ইসলামী প্রতারণা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ দুপুর ১২টার দিকে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের নারগুণ ইউনিয়নের কিসমত দৌলতপুর দাখিল মাদরাসা মাঠে আয়োজিত এক পথসভায় এমন মন্তব্য করেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘চরমোনাইসহ দেশের আলেম-ওলামারা বলেছেন-জামায়াতে ইসলামী কোনো ইসলামিক দল নয়। তারা ইসলামের কথা বলে প্রতারণা করছে। জামায়াতে ইসলামী বলছে, দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতে যাওয়া যাবে-নাউজুবিল্লাহ। কোনো প্রকৃত মুসলমান এমন কথা বিশ্বাস করতে পারে না। মুসলমান বিশ্বাস করে আমলের ওপর; আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাত দেবেন কি দেবেন না, তা আমলের ওপরই নির্ভর করে।’
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘টেলিভিশন ও পত্রিকায় এসেছে-জামায়াতের আমির সাহেব নারীদের নিয়ে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেছেন। যে দলের একজন নেতা মা-বোনদের ইজ্জত ও সম্মান করতে পারে না, তাদের সম্পর্কে কটু কথা বলে- তারা কখনো বেহেশতে যেতে পারবে? তারা কি ভালো কাজ করতে পারবে?’
মির্জা ফখরুল বলেন, রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা থাকবে, নির্বাচনে নতুন দল আসবে-এতে আপত্তি নেই। তবে রাজনীতির নামে মিথ্যা বলা, গীবত করা ও কুৎসা রটানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জামায়াতে ইসলামী প্রতি ইঙ্গিত করে বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, ‘বর্তমানে একটি দল রাজনীতিতে সামনে আসছে, যাদের আমরা আগে কখনো দেখিনি। আমাদের সঙ্গেই ছিল, একসঙ্গে চলেছে, এখন নির্বাচনে অংশ নিতে আসছে। এতে আপত্তি নেই, তবে রাজনীতিতে দয়া করে মিথ্যা কথা বলবেন না, গীবতকারীদের মতো গীবত গাইবেন না এবং অন্যের কুৎসা রটাবেন না।’
বিএনপি কখনোই সমালোচনার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, বিএনপি সব সময় কাজের রাজনীতিতে বিশ্বাসী।
পথসভায় তিনি বলেন, ‘শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ছেলে তারেক রহমান একেবারেই জিয়ার মতো হয়ে উঠেছেন। দেশে ফিরেই তারেক রহমান বলেছেন ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’, অর্থাৎ তার একটি সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী এক বছরের মধ্যে ১ কোটি ছেলে-মেয়ের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে।
‘মা-বোনদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষি কার্ড চালু করা হবে এবং সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করা হবে। এছাড়া যারা এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, বিএনপি ক্ষমতায় এলে সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব সরকার নেবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে সর্বপ্রথম ভুট্টা চাষের সূচনা করা হয়েছে বিএনপির হাত ধরেই। কাজী ফার্মস আনার মাধ্যমে জেলায় ভুট্টা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে, কৃষকরা উপকৃত হয়েছেন এবং বহু মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁওয়ে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন করা হয়েছে।








