ভারতের পুশইন নিয়ে ছাত্রদল নেতা আবিদের স্ট্যাটাস ভাইরাল

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সীমান্তে ভারতের পুশইন-কাণ্ড নিয়ে নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।

সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৮টা ৩৭ মিনিটে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। আবিদের ওই পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

সীমান্তে একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। আপনারা জানেন, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে নিয়মিত পুশইনের চেষ্টা চলছে। গত বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে বিজিবি বিএসএফের ২১টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে, যাতে ২০০-এরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

ঘটনাগুলো নিছক সংখ্যা না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে আছে আলাদা গল্প। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফ ৩০-৩৫ জনকে একটা প্রিজন ভ্যানে করে সীমান্তে নিয়ে আসে, পুশ ইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা মিলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে, বিএসএফ বাধ্য হয়ে মানুষগুলোকে ভ্যানে তুলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে রাতের অন্ধকারে ৩০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সীমান্ত পাহারা জোরদার করে সবগুলো চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

পঞ্চগড়ে বিএসএফ ১০ জন নারী-শিশুসহ একটি দলকে শূন্যরেখায় ফেলে চলে যায়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়, বিএসএফও ফিরিয়ে নেয় না, ফলে এই মানুষগুলো ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে জিরো লাইনে আটকে থাকে। আজ তাদেরও ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা মিডিয়ায় তেমন আলোচনা হচ্ছে না, সেটা হলো এ প্রতিরোধের চরিত্র। এ প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সাধারণ মানুষকে এ প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে, বিজিবি গ্রামবাসীদের সঙ্গে যৌথ টহল দিচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে সীমান্ত-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে। বিজিবিও তার পুরোনো শক্তি ও মনবল ফিরে পেয়েছে। নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবি মেগাফোন, সার্চলাইট আর শিস ব্যবহার করে রাতভর পাহারা দিচ্ছে।

পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যৌথ টহল চলছে। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় রাতজেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।

এটাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সীমান্তে বিগত সরকারের আমলের দুর্বলতার ইতিহাসে এমন সাহসিকতার নিদর্শন আমাদের নতুন করে শক্তি জোগায়। বর্তমানে বিজিবি ২৬টি জেলার সীমান্তে বিপুলসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করেছে, চারটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। ভারত কূটনৈতিকভাবে বলছে এগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ বহিষ্কার, কিন্তু কোনো উপযুক্ত যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়া রাতের বেলায় সীমান্তে লাইট নিভিয়ে প্রিজনভ্যানে করে মানুষ ঠেলে দেওয়াকে আইনি প্রক্রিয়া বলা যায় না।

ভারতের পুশইন নিয়ে ছাত্রদল নেতা আবিদের স্ট্যাটাস ভাইরাল

সীমান্তে এ মুহূর্তে যা ঘটছে সেটা শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন না। এটা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এবং সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে বিজিবির জওয়ানরা, আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে এই দেশের সাধারণ মানুষ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ভারতের সবচেয়ে শক্তিশালী ভোটার ব্লক হতে চলেছে জেন জি

» দেশের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় সক্ষমতা বৃদ্ধির কৌশল চলছে: বিমানবাহিনী প্রধান

» ভিআইপি বক্স ছেড়ে মাঠে নেমে খেলা দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

» সরকার সেই পুরোনো ফ্যাসিবাদী সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে চাচ্ছে: গোলাম পরওয়ার

» ভালুকায় ৫০০ কোটি টাকার বনভূমি দখলকারী মিন্টুকে মন্ত্রী বানিয়েছেন তারেক রহমান: সারজিস আলম

» হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনাকে দল টিকিয়ে রাখার রাজনৈতিক কৌশল বললেন পার্থ

» ১৬ মামলার আসামি ‘কাইল্লা সুমন’ গ্রেপ্তার

» আন্দোলন থামতেই মোদিবিরোধী পোস্টের বিরুদ্ধে অভিযানে দিল্লি পুলিশ

» খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু-সহিষ্ণুতা একসঙ্গে এগিয়ে নিতে হবে: শামা

» শিশুরা নিজেদের গড়ে তুললে দেশ সঠিকভাবে গড়ে উঠবে: প্রধানমন্ত্রী

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ভারতের পুশইন নিয়ে ছাত্রদল নেতা আবিদের স্ট্যাটাস ভাইরাল

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : সীমান্তে ভারতের পুশইন-কাণ্ড নিয়ে নিজের ফেসবুকে অ্যাকাউন্টে স্ট্যাটাস দিয়েছেন ছাত্রদলের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।

সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৮টা ৩৭ মিনিটে দেওয়া ওই স্ট্যাটাসটি ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়েছে। আবিদের ওই পোস্টটি নিচে হুবহু দেওয়া হলো।

সীমান্তে একটা নীরব বিপ্লব ঘটে গেছে। আপনারা জানেন, গত কয়েকদিন ধরে সীমান্তে নিয়মিত পুশইনের চেষ্টা চলছে। গত বুধবার থেকে শনিবারের মধ্যে বিজিবি বিএসএফের ২১টি পুশইন চেষ্টা প্রতিহত করেছে, যাতে ২০০-এরও বেশি মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়েছিল।

ঘটনাগুলো নিছক সংখ্যা না। প্রতিটি ঘটনার পেছনে আছে আলাদা গল্প। ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্তে বিএসএফ ৩০-৩৫ জনকে একটা প্রিজন ভ্যানে করে সীমান্তে নিয়ে আসে, পুশ ইনের চেষ্টা করে। কিন্তু বিজিবি এবং স্থানীয় গ্রামবাসীরা মিলে তাৎক্ষণিক প্রতিরোধ গড়ে তোলে, বিএসএফ বাধ্য হয়ে মানুষগুলোকে ভ্যানে তুলে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।

লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রামে রাতের অন্ধকারে ৩০ জনকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হয়। বিজিবি স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় সীমান্ত পাহারা জোরদার করে সবগুলো চেষ্টা ব্যর্থ করে দেয়।

পঞ্চগড়ে বিএসএফ ১০ জন নারী-শিশুসহ একটি দলকে শূন্যরেখায় ফেলে চলে যায়। বিজিবি তাদের প্রবেশে বাধা দেয়, বিএসএফও ফিরিয়ে নেয় না, ফলে এই মানুষগুলো ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় খোলা আকাশের নিচে রোদে-বৃষ্টিতে জিরো লাইনে আটকে থাকে। আজ তাদেরও ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছে বিএসএফ।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টা মিডিয়ায় তেমন আলোচনা হচ্ছে না, সেটা হলো এ প্রতিরোধের চরিত্র। এ প্রতিরোধে বিজিবির পাশাপাশি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোল প্লে করছে ওই এলাকার সাধারণ মানুষ। স্থানীয় সাধারণ মানুষকে এ প্রতিরক্ষায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত করা হয়েছে, বিজিবি গ্রামবাসীদের সঙ্গে যৌথ টহল দিচ্ছে এবং তাদের কাছ থেকে সীমান্ত-সংক্রান্ত গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করছে। বিজিবিও তার পুরোনো শক্তি ও মনবল ফিরে পেয়েছে। নেত্রকোনা সীমান্তে বিজিবি মেগাফোন, সার্চলাইট আর শিস ব্যবহার করে রাতভর পাহারা দিচ্ছে।

পঞ্চগড়সহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে যৌথ টহল চলছে। নাগরিক দায়িত্ববোধ থেকেই গ্রামবাসীরা স্বেচ্ছায় রাতজেগে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছে।

এটাকে ছোট করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। বাংলাদেশের সীমান্তে বিগত সরকারের আমলের দুর্বলতার ইতিহাসে এমন সাহসিকতার নিদর্শন আমাদের নতুন করে শক্তি জোগায়। বর্তমানে বিজিবি ২৬টি জেলার সীমান্তে বিপুলসংখ্যক সৈন্য মোতায়েন করেছে, চারটি শিফটে ২৪ ঘণ্টা টহল চলছে। ভারত কূটনৈতিকভাবে বলছে এগুলো অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের বৈধ বহিষ্কার, কিন্তু কোনো উপযুক্ত যাচাই প্রক্রিয়া ছাড়া রাতের বেলায় সীমান্তে লাইট নিভিয়ে প্রিজনভ্যানে করে মানুষ ঠেলে দেওয়াকে আইনি প্রক্রিয়া বলা যায় না।

ভারতের পুশইন নিয়ে ছাত্রদল নেতা আবিদের স্ট্যাটাস ভাইরাল

সীমান্তে এ মুহূর্তে যা ঘটছে সেটা শুধু নিরাপত্তার প্রশ্ন না। এটা সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন। এবং সেই প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে বিজিবির জওয়ানরা, আর তাদের পাশে দাঁড়িয়ে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছে এই দেশের সাধারণ মানুষ।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com