ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যসচিব আখতার হোসেন আজ রোববার জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষ্যে ‘রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও তরুণদের কর্মসংস্থান’ প্রতিপাদ্যে জাতীয় যুবশক্তি আয়োজিত জাতীয় যুব সম্মেলনে বক্তব্য বললেন, সরকারের কাছে বিভিন্ন ধরনের গোয়েন্দা প্রতিবেদন থাকে। সরকারপ্রধানের কাছেও নানা ধরনের গোয়েন্দা তথ্য থাকে। কিন্তু আওয়ামী লীগের মিছিল হচ্ছে, বিভিন্ন জায়গায় বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে, আগুন দেওয়া হচ্ছে। এসব বিষয়ে গোয়েন্দা প্রতিবেদন দূরের কথা, ঘটনা ঘটার পরও তাদের গ্রেপ্তার করার মতো সক্ষমতা সরকার দেখাতে পারছে না।
তিনি বলেন, সরকার যদি বাংলাদেশের মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করতে না চায়, তাহলে তাদের জন্য আফসোস। আমরা চাই, নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় বাংলাদেশের রাজনীতি পরিচালিত হোক। কিন্তু সরকার যদি প্রতিটি জায়গায় ব্যর্থ হতে থাকে, তাহলে রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক যুক্তি তাদের আর থাকে না।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের রায় অস্বীকার করে সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জুলাই সনদের রাজনৈতিক ও আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা। একই সঙ্গে জুলাই গণহত্যার বিচারও ঝুলিয়ে রাখার চেষ্টা চলছে বলে মনে হচ্ছে। আওয়ামী লীগের মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িতদের ছাড় দেওয়ার কোনো চেষ্টা বাংলাদেশের মানুষ মেনে নেবে না।আখতার হোসেন বলেন, ২৪-এর গণ–অভ্যুত্থানের পর বাংলাদেশে তিনটি কথা সবচেয়ে বেশি আলোচিত হয়েছে। সেগুলো হলো সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন। নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু সংস্কার ও বিচারের প্রশ্নে এখনো কোনো অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। নির্বাচনের পর যারা দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন, বিএনপি সরকারের ওপর স্বাভাবিকভাবেই এই দুটি বিষয় সমাধানের দায়িত্ব ছিল।
তিনি বলেন, সংস্কারের প্রশ্নে এই সরকার জনগণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ হ্যাঁ-এর পক্ষে রায় দিয়েছেন। কিন্তু সরকার সেই গণভোটকে অস্বীকার করার পথ অবলম্বন করেছে। গণভোটের রায় আসার পরও যারা জুলাই সনদের আইনি ভিত্তি আছে কি না, সেই প্রশ্ন তুলছেন, তারা আসলে জনগণের রায়কে অস্বীকার করছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে এনসিপির সদস্যসচিব বলেন, গতকাল স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, জুলাই সনদের রাজনৈতিক ভিত্তি আছে, আইনি ভিত্তি নেই। আমরা তাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জাতীয় নাগরিক পার্টি জুলাই সনদ স্বাক্ষরের সময় দাবি জানিয়েছিল, এটি বাস্তবায়নের কার্যকর আইনি ভিত্তি তৈরি হওয়ার পরই এনসিপি সনদে স্বাক্ষর করবে। সংস্কারের অ্যাজেন্ডাগুলো জনগণের গণভোটে পাস হয়ে এসেছে। জুলাইয়ের প্রতিটি বিষয় জনগণের ভোটে পাস হওয়ার পর এর রাজনৈতিক ভিত্তিও আছে, আইনি ভিত্তিও আছে এবং সার্বভৌমত্বের স্বীকৃতিও আছে। এখান থেকে সরে আসার কোনো সুযোগ নেই।
জুলাই গণহত্যার বিচার প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগের যারা বিভিন্নভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে এখনো কোনো রায় কার্যকর হতে দেখা যায়নি। বরং উল্টো ঘটনা ঘটছে। ভয়ংকর অপরাধীদের সাজা কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। যাদের হাতের নাগালে পাওয়া যাচ্ছে, তাদের কম সাজা দেওয়া হচ্ছে। পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে, জুলাই গণহত্যার বিচার ঝুলিয়ে রাখার এক ধরনের চিন্তা সরকারের মধ্যে রয়েছে।








