ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মধ্যেই দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ নৌ বিমান মহড়া শুরু করেছে। যুদ্ধকালীন যৌথ কার্যক্রম জোরদার করার লক্ষ্যে এই মহড়ায় মূলত ‘কাউন্টার-এয়ার’ এবং ‘এয়ার ইন্টারডিকশন’ মিশনগুলোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বিমান বাহিনীর এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, উত্তর জিওলা প্রদেশের গুনসান শহরে অবস্থিত গুনসান বিমান ঘাঁটিতে সোমবার থেকে ‘ফ্রিডম ফ্ল্যাগ’ নামের এই মহড়া শুরু হয়েছে, যা দুই সপ্তাহ ধরে চলবে। এতে উভয় দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিমান সম্পদ অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়া বিমান বাহিনীর এফ-১৫কে, কেএফ-১৬ এবং এফ-৩৫এ যুদ্ধবিমান।
মহড়ায় কেসি-৩৩০ পরিবহন বিমান এবং ই-৭৩৭ ‘পিস আই’ আর্লি ওয়ার্নিং অ্যান্ড কন্ট্রোল (আগাম সতর্কবার্তা ও নিয়ন্ত্রণ) বিমানও মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীর এফ-১৬ ফাইটিং ফ্যালকন যুদ্ধবিমান, আরসি-১৩৫ গোয়েন্দা বিমান এবং মার্কিন নৌবাহিনীর এমএইচ-৬০এস সি-হক হেলিকপ্টার এতে অংশ নিচ্ছে। পাশাপাশি মার্কিন মেরিন কোরের এফ-৩৫বি স্টিলথ যুদ্ধবিমান এবং এমকিউ-৯ রিপার চালকবিহীন নজরদারি বিমানও এই মহড়ায় যুক্ত রয়েছে।
বিমান বাহিনী জানিয়েছে, উভয় দেশের বিমান বাহিনী দিন ও রাতে ‘মিশন পরিকল্পনা সেল’ পরিচালনা করবে। এর মাধ্যমে তারা কৌশল ও দক্ষতা আদান-প্রদানের পাশাপাশি যুদ্ধকালীন কার্যক্রম এবং মিশন বাস্তবায়নের পদ্ধতিগুলোকে আরও পরিশীলিত করে তুলবে। এই মিশনগুলোর উদ্দেশ্য হলো পারস্পরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করা এবং যুদ্ধকালীন যৌথ কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা গড়ে তোলা। এর মধ্যে রয়েছে আত্মরক্ষামূলক ‘কাউন্টার-এয়ার’ এবং ‘এয়ার ইন্টারডিকশন’-এর মতো বিষয়গুলো।
বিমান বাহিনী জানিয়েছে, আধুনিক যুদ্ধের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে তাল মিলিয়ে এই মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার নেতৃত্বে পরিচালিত যৌথ অনুশীলনের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া মূল্যায়ন করা হবে। এটি সিউলের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনের কাছ থেকে যুদ্ধকালীন অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ পুনরায় গ্রহণের চলমান প্রচেষ্টারই একটি অংশ। দক্ষিণ কোরিয়া ২০৩০ সালের মধ্যে বা তার আগেই যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে যুদ্ধকালীন অপারেশনাল নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চায়। এর জন্য তারা যৌথ বাহিনীকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো নিজেদের সক্ষমতা যাচাই করে দেখছে।
‘ফ্রিডম ফ্ল্যাগ’ নামের এই দ্বিবার্ষিক মহড়াটি ২০২৪ সালে চালু করা হয়েছে। এটি আগে প্রচলিত বড় আকারের যৌথ বিমান মহড়াগুলো বছেরের প্রথমার্ধে অনুষ্ঠিত ‘কোরিয়া ফ্লাইং ট্রেনিং’ এবং দ্বিতীয়ার্ধে অনুষ্ঠিত ‘ভিজিল্যান্ট ডিফেন্স’ পরিবর্তে আয়োজন করা হচ্ছে। সূত্র: তাসনিম নিজউ এজেন্সি।








