ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : একটি কুমড়ার ওজন কত হতে পারে? সাধারণত কয়েক কেজি ওজনের কুমড়াই পরিচিত। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের কৃষক রন ওয়ালেস এমন এক কুমড়া ফলিয়েছেন, যার ওজন ছোট একটি গাড়ির ওজনের কাছাকাছি। তার ফলানো কুমড়াটির ওজন ৩ হাজার ১৫৬ পাউন্ড অর্থাৎ প্রায় ১ হাজার ৪৩২ কেজি।
বিশ্বের সবচেয়ে ভারী কুমড়া হিসেবে এটি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে জায়গা করে নিয়েছে। ইতিহাসে এই প্রথম কোনো কুমড়ার ওজন ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়াল। স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১০ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের রোড আইল্যান্ডের ওয়ারেন এলাকায় সাউদার্ন নিউ ইংল্যান্ড জায়ান্ট পাম্পকিন গ্রোয়ার্সের ওজন নির্ধারণ প্রতিযোগিতায় কুমড়াটির ওজন মাপা হয়। এর মাধ্যমে মাত্র এক সপ্তাহ আগে গড়া রেকর্ড ভেঙে দেন ওয়ালেস। ৩ অক্টোবর যুক্তরাজ্যের কৃষক ইয়ান প্যাটন ২ হাজার ৮৫৭ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে রেকর্ড গড়েছিলেন। ওয়ালেসের কুমড়াটি আগের রেকর্ডের চেয়ে প্রায় ৩০০ পাউন্ড বেশি ভারী।
ওয়ালেস গত ১৫ এপ্রিল নিজের গ্রিনহাউসে ছোট একটি বীজ রোপণ করেছিলেন। প্রায় ছয় মাসের পরিচর্যায় সেটিই পরিণত হয় রেকর্ড গড়া বিশাল কুমড়ায়। এ বছর প্রথমবারের মতো গ্রিনহাউসে কুমড়া চাষ করেন তিনি। এতে তাপমাত্রা ও পানির পরিমাণসহ চাষের বিভিন্ন বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা সহজ হয়েছে। কুমড়াটি বেড়ে ওঠার সবচেয়ে দ্রুত সময়ে প্রতিদিন প্রায় ৬০ পাউন্ড পর্যন্ত ওজন বাড়ছিল। কোনো কোনো সপ্তাহে এর ওজন বেড়েছে প্রায় ৫০০ পাউন্ড। সঠিক জাতের বীজ, অনুকূল আবহাওয়া এবং চাষের বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি- সব মিলিয়ে এই সাফল্য এসেছে বলে মনে করেন ওয়ালেস।
বিশাল কুমড়াটি প্রতিযোগিতাস্থলে নেওয়াও ছিল বড় চ্যালেঞ্জ। মাটি থেকে তুলতে ব্যবহার করা হয় বিশেষ হারনেস ও ভারী দড়ি। পরিবহনের সময় কুমড়াটি ভেজা চাদর, কম্বল ও প্লাস্টিকের আবরণ দিয়ে ঢেকে রাখা হয়। পরে বিশেষভাবে তৈরি একটি পাটাতনে তুলে ট্রাকে করে নিয়ে যাওয়া হয় প্রতিযোগিতায়। ওয়ালেসের কুমড়াটি প্রায় ২০টি বিশাল কুমড়ার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে। ওজন মাপার আগে তিনি ধারণা করেছিলেন, এটি হয়তো ৩ হাজার পাউন্ড ছাড়াতে পারে। কিন্তু প্রকৃত ওজন জানার পর প্রতিযোগিতাস্থলে উপস্থিত দর্শকেরা উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়েন।
বিশাল কুমড়া ফলিয়ে রেকর্ড গড়ার অভিজ্ঞতা ওয়ালেসের নতুন নয়। ২০০৬ সালে তিনি ১ হাজার ৫০২ পাউন্ড ওজনের কুমড়া ফলিয়ে প্রথমবারের মতো ১ হাজার ৫০০ পাউন্ডের সীমা অতিক্রম করেন। এরপর ২০১২ সালে তাঁর ফলানো কুমড়ার ওজন দাঁড়ায় ২ হাজার ৯ পাউন্ডে, যা প্রথমবারের মতো ২ হাজার পাউন্ডের সীমা ছাড়ায়। তবে এবারের সাফল্যকে বিশেষ বলে মনে করছেন তিনি। কয়েক বছর চাষের পদ্ধতি নিয়ে বৈজ্ঞানিকভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার পর অবশেষে সবকিছু একসঙ্গে কাজে লেগেছে বলে জানান এই কৃষক।
বিশাল কুমড়া চাষের ক্ষেত্রে প্রতিযোগীদের মধ্যে সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। ওয়ালেসের মতে, চাষিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, বীজ ও কৌশল পরস্পরের সঙ্গে ভাগ করে নেন। এই সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ক্রমাগত বড় কুমড়া ফলানোর পথ তৈরি করছে।
বিশ্বরেকর্ড গড়া কুমড়াটি বিভিন্ন উৎসবে প্রদর্শন করা হবে। পরে এটিকে বিশাল জ্যাক ও’ ল্যান্টার্ন- হ্যালোইনে কুমড়ার খোলসে তৈরি বিশেষ আলোকসজ্জা হিসেবে ব্যবহার করা হবে। উৎসব শেষে অন্য অনেক কুমড়ার মতো এটিও কম্পোস্টে পরিণত হবে। তবে এর কিছু বীজ সংরক্ষণ করে বিশ্বের বিভিন্ন কুমড়া চাষিদের সংগঠনে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে ওয়ালেসের। এসব বীজ নিলামে তুলে পাওয়া অর্থ তহবিল সংগ্রহে ব্যবহার করা হবে। এত বড় কুমড়া ফলানোর পরও এর সর্বোচ্চ আকার কত হতে পারে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন ওয়ালেস। আপাতত অন্য চাষিদের তাঁর রেকর্ড ভাঙার সুযোগ দিতে চান তিনি। তবে কেউ রেকর্ড ভেঙে ফেললে আবারও মাঠে নামার ইঙ্গিতও দিয়েছেন এই কৃষক।
সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস।








