‘তুই এত ধর্ম মানিস, বল তো আমি কি জাহান্নামে যাব?’

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়, যা আমাদের গভীর ভাবনায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাস বা কর্মক্ষেত্রে এমন অনেক বন্ধু থাকে, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়তো পড়ে না বা দ্বীনের অনুশাসন সেভাবে মেনে চলে না, কিন্তু আচরণ ও নৈতিকতায় তারা অসাধারণ। মানুষ হিসেবে তারা সৎ, সত্যবাদী ও পরোপকারী। এমন কোনো বন্ধু যখন সরাসরি প্রশ্ন করে বসে— ‘তুই এত ধর্ম মানিস, বল তো আমি কি জাহান্নামে যাব?’ তখন এক কঠিন ধর্মসংকটের সৃষ্টি হয়। একদিকে সত্যের শিক্ষা, অন্যদিকে স্নেহের সম্পর্ক। সত্যও বলতে হবে, আবার বন্ধুত্ব বজায় রেখে ভালোবাসার মাধ্যমে তাকে ইসলামের সুন্দর আদর্শের দিকে আহ্বানও করতে হবে। সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ এই জটিল ও স্পর্শকাতর প্রশ্নের এক অপূর্ব প্রজ্ঞাপূর্ণ ও যুগোপযোগী সমাধান দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে তুলে ধরা হলো—

১. ভালো গুণের অকপট স্বীকৃতি: ইসলামের উদার শিক্ষা

কোনো ব্যক্তি দ্বীন পালনে পিছিয়ে থাকলেও বা বেনামাজি হলেও তার মধ্যকার সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও পরোপকারের মতো মানবিক গুণগুলোর প্রশংসা করার উদারতা আমাদের থাকা উচিত। ইসলাম আমাদের এই ইনসাফ ও সৎসাহস শেখায়। ভালোকে ভালো বলা এবং সত্যের স্বীকৃতি দেওয়া একজন মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। কোনো মানুষ ইসলাম পুরোপুরি অনুশীলন না করলেই তার সব ভালো গুণকে অস্বীকার করা বা তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা দ্বীনের শিক্ষা হতে পারে না।

২. প্রশংসার মধ্য দিয়ে দাওয়াতের পথ উন্মোচন

কাউকে শুধুই ধমক বা জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে দ্বীনের পথে আনা যায় না; বরং তার ভেতরে থাকা ভালো কাজগুলোর স্বীকৃতি দিলে দাওয়াতের পথ সুগম হয়। এমন বন্ধুকে প্রজ্ঞার সঙ্গে বলা যায়— আজকের যুগে শুধু শারীরিক ইবাদত করার চেয়ে ভালো আচরণের অধিকারী হওয়া, লেনদেনে সততা বজায় রাখা এবং খাঁটি মানুষ হওয়া অনেক বেশি কঠিন। সে ক্ষেত্রে তোমার মধ্যে এই বিরল গুণগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যমান! জান্নাতে যাওয়ার পথ তো তোমার অনেকটাই এগিয়ে আছে, তবে সামান্য এক নামাজ ও খোদাভীতির অভাবে কেন তুমি পিছিয়ে থাকবে? এভাবে ভালোবাসার সঙ্গে ইতিবাচক উৎসাহ দিলে তার অন্তরে অনুশোচনা ও নামাজের আগ্রহ জাগতে পারে।

৩. জান্নাত-জাহান্নামের চূড়ান্ত ফয়সালা পরম করুণাময়ের হাতে

আমরা যারা নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করি, তারা কি নিশ্চিত যে আমরা জান্নাতে যাব? শেষ বিচারে কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে, তা দুনিয়াতে বসে নিশ্চিত করে বলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। নামাজ পড়ার পাশাপাশি কেউ যদি প্রতারণা, মিথ্যাচার, মানুষের হক নষ্ট করা কিংবা অবৈধ উপার্জনে লিপ্ত থাকে, তবে শুধু নামমাত্র নামাজ তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয় না। আবার কোনো মানুষ জীবনের একপর্যায়ে বেনামাজি থাকলেও শেষ মুহূর্তে আন্তরিক তওবা করে আল্লাহর চরম প্রিয় বান্দা হয়ে জান্নাতের অধিকারী হতে পারে। তাই কাউকে সরাসরি জাহান্নামি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া কোনো মুমিনের কাজ নয়।

৪. সামাজিক আচরণের সৌন্দর্য ও আদর্শের স্বচ্ছতা

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই অপ্রিয় ভাবার ইমানি মূলনীতি তার জায়গায় পুরোপুরি অটুট থাকবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমরা অমুসলিম বা পাপী মানুষের সঙ্গে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সৌজন্য বজায় রাখব না। সামাজিক আচরণের সৌন্দর্য একজন মুমিনের অন্যতম বড় হাতিয়ার। আমাদের আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা পরিষ্কার রেখে যখন আমরা আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলব, তখনই মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসার অনুপ্রেরণা পাবে।
৫. কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইনসাফ ও শুভ পরিণাম

ইসলাম মানুষের সৎ গুণের মূল্যায়ন এবং পরিণামের অনিশ্চয়তার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অমুসলিমদের আমানতদারির মতো ভালো গুণেরও ইনসাফপূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত—

وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِن تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ

‘আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যার কাছে তুমি বিপুল ধন-সম্পদ আমানত রাখলেও সে তা তোমার কাছে অবিকল ফেরত দেবে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৭৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাদিস

মানুষের জীবনের শেষ পরিণাম যে একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং বাহ্যিক আমল দেখে কাউকে চূড়ান্ত বিচার করা যে অনুচিত, সে বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ

‘কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকে, অতঃপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে জাহান্নামিদের আমল দিয়ে। আবার কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জাহান্নামিদের মতো কাজ করে, অতঃপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে জান্নাতিদের আমল দিয়ে (এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করে)।’ (মুসলিম ২৬৫১)

দ্বীন ইসলাম কোনো কঠোরতা বা অহংকারের নাম নয়, বরং তা পরম প্রজ্ঞা, বিনয় ও ইনসাফের এক অমলিন প্রকাশ। আমাদের বেনামাজি বা দ্বীনহীন বন্ধুদের প্রতি ঘৃণা না ছড়িয়ে তাদের ভালো দিকগুলোর মূল্য দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিজেদের ইবাদত নিয়ে অহংকার না করে বিনয়ী হওয়া দরকার। আমাদের সুন্দর আচরণ, দরদি মন ও হেকমতপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আমরা যেন বন্ধুত্বের সম্পর্কের ফাঁক গলে তাদের অন্তরে ইমান ও নামাজের আলো জ্বালিয়ে দিতে পারি। কারণ প্রজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও আন্তরিক ভালোবাসাই মানুষকে মহান আল্লাহর দরবারে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» প্রথমে শাস্তি মনে হয়েছিল, পরে বুঝলাম রক্ষা পেয়েছি: পদত্যাগ প্রসঙ্গে ইশরাক

» আওয়ামী লীগকে অনেক চিন্তা ভাবনা করে রাজনীতিতে ফিরতে হবে: তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী

» সাজেককে কেন্দ্র করে কী হচ্ছে, প্রশ্ন জামায়াত আমিরের

» প্রকাশ্যে নারীকে গুলি করে হত্যা!

» ‘তুই এত ধর্ম মানিস, বল তো আমি কি জাহান্নামে যাব?’

» মোংলায় প্রটোকল ভেঙে জনগণের সঙ্গে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

» অসুস্থ স্থানীয় সরকার মন্ত্রী ও ভূমি মন্ত্রী দেখতে হাসপাতালে গেলেন রিজভী

» বিএনপির লড়াকু সৈনিকদের দীর্ঘ বছরের আন্দোলন আর সংগ্রামের চূড়ান্ত ফল ২৪-এর ৫ আগস্ট: নয়ন

» চার দিনের সফরে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন মামুনুল হক

» দুর্নীতি বন্ধ করতে স্পিকারকে রেজিস্টার চালুর প্রস্তাব দিলেন তাসনিম জারা

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

‘তুই এত ধর্ম মানিস, বল তো আমি কি জাহান্নামে যাব?’

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আমাদের দৈনন্দিন জীবনে এমন অনেক অভিজ্ঞতা হয়, যা আমাদের গভীর ভাবনায় ফেলে দেয়। বিশেষ করে ক্যাম্পাস বা কর্মক্ষেত্রে এমন অনেক বন্ধু থাকে, যারা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ হয়তো পড়ে না বা দ্বীনের অনুশাসন সেভাবে মেনে চলে না, কিন্তু আচরণ ও নৈতিকতায় তারা অসাধারণ। মানুষ হিসেবে তারা সৎ, সত্যবাদী ও পরোপকারী। এমন কোনো বন্ধু যখন সরাসরি প্রশ্ন করে বসে— ‘তুই এত ধর্ম মানিস, বল তো আমি কি জাহান্নামে যাব?’ তখন এক কঠিন ধর্মসংকটের সৃষ্টি হয়। একদিকে সত্যের শিক্ষা, অন্যদিকে স্নেহের সম্পর্ক। সত্যও বলতে হবে, আবার বন্ধুত্ব বজায় রেখে ভালোবাসার মাধ্যমে তাকে ইসলামের সুন্দর আদর্শের দিকে আহ্বানও করতে হবে। সম্প্রতি এক ইসলামি আলোচনা অনুষ্ঠানে জনপ্রিয় ইসলামি ব্যক্তিত্ব শায়খ আহমাদুল্লাহ এই জটিল ও স্পর্শকাতর প্রশ্নের এক অপূর্ব প্রজ্ঞাপূর্ণ ও যুগোপযোগী সমাধান দিয়েছেন। গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি শায়খ আহমাদুল্লাহর অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেল থেকে তুলে ধরা হলো—

১. ভালো গুণের অকপট স্বীকৃতি: ইসলামের উদার শিক্ষা

কোনো ব্যক্তি দ্বীন পালনে পিছিয়ে থাকলেও বা বেনামাজি হলেও তার মধ্যকার সত্যবাদিতা, আমানতদারি ও পরোপকারের মতো মানবিক গুণগুলোর প্রশংসা করার উদারতা আমাদের থাকা উচিত। ইসলাম আমাদের এই ইনসাফ ও সৎসাহস শেখায়। ভালোকে ভালো বলা এবং সত্যের স্বীকৃতি দেওয়া একজন মুমিনের ইমানি দায়িত্ব। কোনো মানুষ ইসলাম পুরোপুরি অনুশীলন না করলেই তার সব ভালো গুণকে অস্বীকার করা বা তার সঙ্গে অশোভন আচরণ করা দ্বীনের শিক্ষা হতে পারে না।

২. প্রশংসার মধ্য দিয়ে দাওয়াতের পথ উন্মোচন

কাউকে শুধুই ধমক বা জাহান্নামের ভয় দেখিয়ে দ্বীনের পথে আনা যায় না; বরং তার ভেতরে থাকা ভালো কাজগুলোর স্বীকৃতি দিলে দাওয়াতের পথ সুগম হয়। এমন বন্ধুকে প্রজ্ঞার সঙ্গে বলা যায়— আজকের যুগে শুধু শারীরিক ইবাদত করার চেয়ে ভালো আচরণের অধিকারী হওয়া, লেনদেনে সততা বজায় রাখা এবং খাঁটি মানুষ হওয়া অনেক বেশি কঠিন। সে ক্ষেত্রে তোমার মধ্যে এই বিরল গুণগুলো ইতোমধ্যে বিদ্যমান! জান্নাতে যাওয়ার পথ তো তোমার অনেকটাই এগিয়ে আছে, তবে সামান্য এক নামাজ ও খোদাভীতির অভাবে কেন তুমি পিছিয়ে থাকবে? এভাবে ভালোবাসার সঙ্গে ইতিবাচক উৎসাহ দিলে তার অন্তরে অনুশোচনা ও নামাজের আগ্রহ জাগতে পারে।

৩. জান্নাত-জাহান্নামের চূড়ান্ত ফয়সালা পরম করুণাময়ের হাতে

আমরা যারা নিয়মিত নামাজ-রোজা পালন করি, তারা কি নিশ্চিত যে আমরা জান্নাতে যাব? শেষ বিচারে কে জান্নাতে যাবে আর কে জাহান্নামে যাবে, তা দুনিয়াতে বসে নিশ্চিত করে বলা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। নামাজ পড়ার পাশাপাশি কেউ যদি প্রতারণা, মিথ্যাচার, মানুষের হক নষ্ট করা কিংবা অবৈধ উপার্জনে লিপ্ত থাকে, তবে শুধু নামমাত্র নামাজ তাকে জান্নাতের নিশ্চয়তা দেয় না। আবার কোনো মানুষ জীবনের একপর্যায়ে বেনামাজি থাকলেও শেষ মুহূর্তে আন্তরিক তওবা করে আল্লাহর চরম প্রিয় বান্দা হয়ে জান্নাতের অধিকারী হতে পারে। তাই কাউকে সরাসরি জাহান্নামি হিসেবে দাগিয়ে দেওয়া কোনো মুমিনের কাজ নয়।

৪. সামাজিক আচরণের সৌন্দর্য ও আদর্শের স্বচ্ছতা

আল্লাহর জন্য ভালোবাসা এবং আল্লাহর জন্যই অপ্রিয় ভাবার ইমানি মূলনীতি তার জায়গায় পুরোপুরি অটুট থাকবে। কিন্তু এর মানে এই নয় যে, আমরা অমুসলিম বা পাপী মানুষের সঙ্গে সামাজিক সৌহার্দ্য ও সৌজন্য বজায় রাখব না। সামাজিক আচরণের সৌন্দর্য একজন মুমিনের অন্যতম বড় হাতিয়ার। আমাদের আদর্শ ও বিশ্বাসের জায়গা পরিষ্কার রেখে যখন আমরা আচরণের মাধ্যমে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটিয়ে তুলব, তখনই মানুষ ইসলামের সুশীতল ছায়াতলে আসার অনুপ্রেরণা পাবে।
৫. কুরআন ও হাদিসের আলোকে ইনসাফ ও শুভ পরিণাম

ইসলাম মানুষের সৎ গুণের মূল্যায়ন এবং পরিণামের অনিশ্চয়তার বিষয়ে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছে। পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা অমুসলিমদের আমানতদারির মতো ভালো গুণেরও ইনসাফপূর্ণ স্বীকৃতি দিয়েছেন, যা থেকে আমাদের শিক্ষা নেওয়া উচিত—

وَمِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ مَنْ إِن تَأْمَنْهُ بِقِنطَارٍ يُؤَدِّهِ إِلَيْكَ

‘আহলে কিতাবদের (ইহুদি ও খ্রিস্টান) মধ্যে এমন লোকও রয়েছে, যার কাছে তুমি বিপুল ধন-সম্পদ আমানত রাখলেও সে তা তোমার কাছে অবিকল ফেরত দেবে।’ (সুরা আল-ইমরান: আয়াত ৭৫)

রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর পবিত্র হাদিস

মানুষের জীবনের শেষ পরিণাম যে একমাত্র আল্লাহর হাতে এবং বাহ্যিক আমল দেখে কাউকে চূড়ান্ত বিচার করা যে অনুচিত, সে বিষয়ে হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-এর বর্ণনায় রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন—

إِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ، ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، وَإِنَّ الرَّجُلَ لَيَعْمَلُ الزَّمَنَ الطَّوِيلَ بِعَمَلِ أَهْلِ النَّارِ، ثُمَّ يُخْتَمُ لَهُ عَمَلُهُ بِعَمَلِ أَهْلِ الْجَنَّةِ

‘কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জান্নাতিদের মতো আমল করতে থাকে, অতঃপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে জাহান্নামিদের আমল দিয়ে। আবার কোনো ব্যক্তি দীর্ঘকাল জাহান্নামিদের মতো কাজ করে, অতঃপর তার জীবনের সমাপ্তি ঘটে জান্নাতিদের আমল দিয়ে (এবং সে জান্নাতে প্রবেশ করে)।’ (মুসলিম ২৬৫১)

দ্বীন ইসলাম কোনো কঠোরতা বা অহংকারের নাম নয়, বরং তা পরম প্রজ্ঞা, বিনয় ও ইনসাফের এক অমলিন প্রকাশ। আমাদের বেনামাজি বা দ্বীনহীন বন্ধুদের প্রতি ঘৃণা না ছড়িয়ে তাদের ভালো দিকগুলোর মূল্য দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে নিজেদের ইবাদত নিয়ে অহংকার না করে বিনয়ী হওয়া দরকার। আমাদের সুন্দর আচরণ, দরদি মন ও হেকমতপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে আমরা যেন বন্ধুত্বের সম্পর্কের ফাঁক গলে তাদের অন্তরে ইমান ও নামাজের আলো জ্বালিয়ে দিতে পারি। কারণ প্রজ্ঞাপূর্ণ আচরণ ও আন্তরিক ভালোবাসাই মানুষকে মহান আল্লাহর দরবারে ফিরিয়ে আনার সবচেয়ে শক্তিশালী মাধ্যম।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com