ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান চাকরি থেকে বরখাস্ত

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় ঢাকার সাবেক জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনের আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসাদুজ্জামানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান ঢাকা জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত হন। তিনি একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিপিএতে যোগদান করেন।

পরে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে একাডেমি ত্যাগ করেন আসাদুজ্জামান। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে তাকে কর্মস্থলে হাজির বা যোগদানের জন্য তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তারপরও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তিনি।

এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ অধিদফতর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানোর পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেননি তিনি। এমনকি জবাব দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে অভিযোগ গুরুদণ্ডযোগ্য হতে পারে বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন এ মর্মে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শ) প্রবিধানমালা অনুযায়ী বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয় পিএসসি।

বিভাগীয় মামলার নথিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় গুরুদণ্ড আরোপের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামানকে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনীত পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» প্রধানমন্ত্রীর জাতিসংঘ সফর বাংলাদেশের স্বার্থ ও মর্যাদা আরও সুদৃঢ় করবে: রাষ্ট্রদূত ও সাংবাদিক মুশফিকুল

» ইস্তাম্বুলে যাত্রাবিরতি শেষে নিউইয়র্কের পথে প্রধানমন্ত্রী

» ডিএসসিসির বর্জ্য থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে চীনা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক

» ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান চাকরি থেকে বরখাস্ত

» রাষ্ট্রপতির সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের নেতাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

» সুপ্রিম কোর্টের সামনে ককটেল বিস্ফোরণ, ছাত্রলীগের সাবেক নেতা গ্রেপ্তার

» বিএনপি কোনো খুচরা দল নয়, জনগণের দল: আবদুস সালাম

» ‘তেলের দাম বাড়াতে গণশুনানি ছাড়া রাতে গেজেট’, প্রশ্ন শিশির মনিরের

» জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সরকারের ব্যর্থতার সূচক: আখতার হোসেন

» ‘বিরোধীদলের সঙ্গে হাসিনার যোগসাজশ হতে পারে, অবাক হওয়ার কিছু নেই’: ইশরাক

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ঢাকার সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান চাকরি থেকে বরখাস্ত

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : কর্মস্থলে অননুমোদিতভাবে অনুপস্থিত থাকায় ঢাকার সাবেক জেলা পুলিশ সুপার মো. আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

সোমবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরীর সই করা এক প্রজ্ঞাপনের আদেশ সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসাদুজ্জামানকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ১৭ সেপ্টেম্বর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার নথি অনুযায়ী, আসাদুজ্জামান ঢাকা জেলার এসপি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ২০২৪ সালের ২৭ আগস্টের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে (বিপিএ) সংযুক্ত হন। তিনি একই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর বিপিএতে যোগদান করেন।

পরে ১৭ থেকে ২১ সেপ্টেম্বর ছুটি ভোগের উদ্দেশ্যে ১৭ সেপ্টেম্বর পূর্বাহ্নে একাডেমি ত্যাগ করেন আসাদুজ্জামান। তবে ছুটি শেষে কর্মস্থলে যোগদান করেননি তিনি। পরবর্তী সময়ে তাকে কর্মস্থলে হাজির বা যোগদানের জন্য তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইল ঠিকানায় একাধিকবার যোগাযোগ করা হয়। তারপরও কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন তিনি।

এ ঘটনায় আসাদুজ্জামানের বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী পলায়নের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ অধিদফতর থেকে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পত্র পাঠানোর পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয় এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেননি তিনি। এমনকি জবাব দাখিলের সময় বাড়ানোর আবেদনও করেননি। পরে অভিযোগ গুরুদণ্ডযোগ্য হতে পারে বিবেচনায় ২০২৫ সালের ১ জুলাই তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়।

তদন্ত শেষে গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে আনা পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। এরপর গত বছরের ১৬ অক্টোবর তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত বা অন্য কোনো উপযুক্ত গুরুদণ্ড দেওয়া হবে না কেন এ মর্মে দ্বিতীয় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। ওই নোটিশেরও তিনি কোনো জবাব দেননি।

পরবর্তীতে আসাদুজ্জামানকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পরামর্শ) প্রবিধানমালা অনুযায়ী বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) পরামর্শের জন্য পাঠানো হয়। গত ১২ আগস্ট তাকে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া যেতে পারে বলে পরামর্শ দেয় পিএসসি।

বিভাগীয় মামলার নথিতে বলা হয়, সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ রাষ্ট্রপতি হওয়ায় গুরুদণ্ড আরোপের জন্য রাষ্ট্রপতির অনুমোদন নেওয়া হয়। গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাষ্ট্রপতি এ বিষয়ে অনুমোদন দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে আসাদুজ্জামানকে ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হিসেবে চাকরি থেকে বরখাস্তকরণসূচক গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

আদেশে বলা হয়, তার বিরুদ্ধে আনীত পলায়নের অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী এ গুরুদণ্ড দেওয়া হলো।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com