নতুন বাংলাদেশে আর গুম দেখতে চাই না: ফুয়াদ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস দীর্ঘ। মুজিব আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান নিখোঁজ হয়েছিলেন, আমরা এখনো তাঁকে পাইনি। নতুন বাংলাদেশে আর গুম দেখতে চাই না।

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টি আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ: জবাবদিহি, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

ফুয়াদ বলেন, গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত গুমবিরোধী আইন প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, নতুন আইনে কিছু নতুন বিষয় থাকলেও এটি অনেকাংশে ২০০৯ সালের আইনের মতো মনে হচ্ছে। গুমসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন পুলিশ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।

ফুয়াদ বলেন, গুমের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না। স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা, জবাবদিহি এবং নির্দেশদাতাসহ প্রত্যেক দায়ী ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সামনে প্রত্যাবাসন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন ও বাংলাদেশে তাদের শোষণ—এই তিনটি পথ খোলা আছে। তবে কোন পথ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। একইভাবে, গুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকটকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভারতের কালাদান প্রকল্পের নিরাপত্তা ও বাস্তবায়ন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ বিষয়টি কাজে লাগিয়ে ভারতকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও সক্রিয় করা সম্ভব।

এ সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে দেখার জন্য একটি ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি’ গঠনেরও প্রস্তাব দেন।গুম প্রসঙ্গে সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, বিগত সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর কিছু সদস্য গুমের ঘটনায় জড়িত হয়েছেন, যা একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বিব্রতকর। রাষ্ট্রে জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» মদিনার ইসলামের কথা বলে মাদ্রাসাছাত্রদের পাশে দাঁড়াননি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী: পাটওয়ারী

» সারা দেশে বিশেষ অভিযান চালানোর নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

» অনুমোদনহীন স্লিপার কোচের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

» হেফাজত-এনসিপির ‘মহব্বত’ অটুট রাখার অঙ্গীকার

» ‘দিনে ১০ খুন’ ও বেকারত্ব সরকারের ব্যর্থতার সাক্ষ্য দেয়: চরমোনাই পীর

» চাঁদাবাজি, দমন-পীড়ন, লুটপাট ও দলীয়করণ আবার ফিরে এসেছে: গোলাম পরওয়ার

» এখনই বিএনপির সঙ্গে আওয়ামী লীগের তুলনা করতে চাই না: সারজিস

» নতুন বাংলাদেশে আর গুম দেখতে চাই না: ফুয়াদ

» আর কোনো গুম নয়, কোনো পরিবারকে অপেক্ষায় থাকতে হবে না: রিজভী

» আসামি ধরতে গিয়ে ধস্তাধস্তি হাতীবান্ধায় দুই পুলিশ সদস্য আহত

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

নতুন বাংলাদেশে আর গুম দেখতে চাই না: ফুয়াদ

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, বাংলাদেশে গুমের ইতিহাস দীর্ঘ। মুজিব আমল থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময়ে মানুষ গুমের শিকার হয়েছে। শহীদ বুদ্ধিজীবী ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জহির রায়হান নিখোঁজ হয়েছিলেন, আমরা এখনো তাঁকে পাইনি। নতুন বাংলাদেশে আর গুম দেখতে চাই না।

আজ শনিবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে এবি পার্টি আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা গণহত্যা ও গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ: জবাবদিহি, মানবাধিকার ও ন্যায়বিচারের প্রত্যয়’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন তিনি।

ফুয়াদ বলেন, গুমের সংস্কৃতির স্থায়ী অবসান ঘটাতে হবে। গুমের মতো গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার নিশ্চিত করতে কার্যকর আইন ও স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন।

প্রস্তাবিত গুমবিরোধী আইন প্রসঙ্গে ফুয়াদ বলেন, নতুন আইনে কিছু নতুন বিষয় থাকলেও এটি অনেকাংশে ২০০৯ সালের আইনের মতো মনে হচ্ছে। গুমসহ রাষ্ট্রীয় বাহিনীর মাধ্যমে সংঘটিত অপরাধের নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে স্বাধীন পুলিশ তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে। বিএনপিকে মনে রাখতে হবে, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়। অতীত থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।

ফুয়াদ বলেন, গুমের সংস্কৃতির অবসান ঘটাতে হলে শুধু আইন করলেই হবে না। স্বাধীন তদন্ত ব্যবস্থা, জবাবদিহি এবং নির্দেশদাতাসহ প্রত্যেক দায়ী ব্যক্তিকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ব্যারিস্টার ফুয়াদ বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে বাংলাদেশের সামনে প্রত্যাবাসন, তৃতীয় দেশে পুনর্বাসন ও বাংলাদেশে তাদের শোষণ—এই তিনটি পথ খোলা আছে। তবে কোন পথ বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে সুস্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি। একইভাবে, গুমের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে স্বাধীন ও কার্যকর তদন্ত ব্যবস্থা প্রয়োজন।

ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (এফএসডিএস) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) ফজলে এলাহী আকবর বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে রোহিঙ্গা সংকটকে একটি কৌশলগত সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে। ভারতের কালাদান প্রকল্পের নিরাপত্তা ও বাস্তবায়ন রোহিঙ্গা অধ্যুষিত রাখাইন পরিস্থিতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। এ বিষয়টি কাজে লাগিয়ে ভারতকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আরও সক্রিয় করা সম্ভব।

এ সময় তিনি জাতীয় নিরাপত্তা–সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমন্বিতভাবে দেখার জন্য একটি ‘ন্যাশনাল সিকিউরিটি এজেন্সি’ গঠনেরও প্রস্তাব দেন।গুম প্রসঙ্গে সাবেক এই সামরিক কর্মকর্তা বলেন, বিগত সময়ে সশস্ত্র বাহিনীর কিছু সদস্য গুমের ঘটনায় জড়িত হয়েছেন, যা একজন সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে বিব্রতকর। রাষ্ট্রে জবাবদিহি, বিচারব্যবস্থার কার্যকারিতা ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা না গেলে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকানো কঠিন হবে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com