কাল্পনিক গল্প কবিতা
একাকীত্বের নিঃশব্দ চিৎকার
কতটা বুক চাপা কষ্ট হলে এতটুকু ছেলে এমন ভাবে কান্না করে। মাদ্রাসায় শীতের ছুটি সবার হলেও ইয়াসিনের ছুটি হলোনা। কোথায় যাবে ছুটিতে? মাকে হারিয়েছে ২ বছর বয়সে,মা মারা যাওয়ার পর বাবা অনেক আদর করতো একমাত্র ছেলে ইয়াসিনকে। কিন্তু এই আদর বেশিদিন পায়নি ছোট্ট ছেলে ইয়াসিন। মায়ের মৃত্যুর ৬ মাসের মধ্যে দ্বিতীয় বিয়ে করে ইয়াসিনের বাবা। নতুন মাকে পেয়ে ইয়াসমিন খুবই হাসিখুশি দিন অতিবাহিত করতো কিন্তু দ্বিতীয় মায়ের চোখে ইয়াসিন দিন দিন অবহেলার পাত্র হতে লাগলো।অন্য দিকে ইয়াসিনের বাবা দ্বিতীয় বউ পেয়ে ছেলে ইয়াসিনকে আগের মতো আদর যত্ন করতে সময় পাচ্ছেন না। দ্বিতীয় মায়ের বুদ্ধিতে বাবা ইয়াসিনকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়ে দিলেন।ভর্তির শুরুতে খোঁজ খবর নিলেও বর্তমান সময়ে কোনো খোঁজ খবর নেয়নি ইয়াসিনের বাবা ও সৎ মা। দিন যায় মাস যায় জানালার গ্ৰিল ধরে দাঁড়িয়ে থেকে ৬ মাস অতিবাহিত করলো ছোট্ট ফুটফুটে ছেলে ইয়াসিন। গরমের দিন শেষ হয় শীতকালীন ছুটি শুরু হয়েছে মাদ্রাসায়। সকল ছেলেদের বাবা মা এবং নিকট আত্মীয় স্বজন মাদ্রাসায় এসেছেন তাদের ছেলেদেরকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। কিন্তু ইয়াসিন আজ এতিম হয়ে গেল বাবা ও সৎ মা থাকতে ও আজ তার কেউ নেই।কেউ বোঝেনি ইয়াসিনের কষ্ট কেউ যানতে চায়নি ইয়াসিন কেমন আছে?
সহপাঠি সবার পরিবার আসলেও ইয়াসিনের কেউ আসেনি,, তাকিয়ে তাকিয়ে দুই চোখ ভরা পানি নিজ হাতে মুছে যাচ্ছে আর বন্ধুদের বিদায় দিচ্ছে।
বাবা মায়ের ভুলের কষ্ট পাচ্ছে এই শিশুটি মা ওপারে চলে যাওয়ায় বাবা বিয়ে করে পর হয়ে গেলো, আর মাঝ খানে ছেলেটি এতিম হয়ে গেল।
না কেউ দেখতে আসে ছেলেটিকে না নিচ্ছে তার খোঁজ।
কখন তার বাবা মা আসবে চেয়ে থাকে,, এত ছোট শিশুটিকে এমন ভাবে কষ্ট কি ভাবে দেয় বাবা?
এমন অনেক শিশু আছে যাদের মা বাবা নেই,, মাদ্রাসা গুলোতে সব চেয়ে বড় কষ্ট হয় এই এতিম শিশুদের।
আপনার আশে পাশে অনেক মাদ্রাসায় দেখতে পাবেন পারলে এই শীতের সময় এতিম শিশুদের জন্য শীতের কাপড় ,খাবার দিয়ে সহযোগিতা করুন।
এই লেখাটা শুধু এই ইয়াসিনের জন্য না, এমন হাজারও ইয়াসিনের মত এতিম শিশু আছে আমাদের আশেপাশে।
-মোঃ ফিরোজ খান








