বাংলাদেশিসহ ১০ লক্ষাধিক মানুষের আমেরিকার স্বপ্ন ধূলিসাতের পথে

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : এসাইলাম ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট (ইএডি) নবায়ন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু ও নবায়নের আগে আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড ও ফেডারেল ডাটাবেজে থাকা তথ্য আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ফেডারেল রেজিস্টারে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবটি নিয়ে ৬০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আপত্তি না এলে আগামী আগস্টে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে অনেক বিদেশি নাগরিক ট্যুরিস্ট, ব্যবসা বা শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয় (এসাইলাম) আবেদন করেন। আবার কেউ কেউ সীমান্তে আটক হওয়ার পর আশ্রয় প্রার্থনা করে প্যারোলে মুক্তি পান। এসব ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাজ করার অনুমতি হিসেবে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সময় আবেদনকারীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অভিবাসন নথিতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকি কিংবা অন্যান্য নেতিবাচক তথ্য ফেডারেল ডাটাবেজে পাওয়া গেলে নবায়ন বাতিল হতে পারে।

অভিবাসন আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ নিয়ম কার্যকর হলে লক্ষাধিক বাংলাদেশিসহ ১০ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিক ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৩০৮ জনকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করেছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবেদন করলে নবায়ন প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে নবায়নের আগে প্রত্যেক আবেদনকারীর পটভূমি বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এর ফলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদন জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে ‘আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন’-এর পরিচালক ও ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার-অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন প্রক্রিয়া জটিল হলে অভিবাসী শ্রমনির্ভর বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট দেখা দিতে পারে এবং মার্কিন অর্থনীতিও এর প্রভাব অনুভব করবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান আরও সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়বে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইন গণমাধ্যমকে বলেন, অতিরিক্ত কড়াকড়ির ফলে অভিবাসী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে এবং শ্রমবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে অভিবাসনবিষয়ক সংগঠন ‘ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরাম’-এর প্রেসিডেন্ট জেনি মারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, নিরাপদ জীবনের আশায় আসা বিদেশিদের জন্য এমন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আইজিপির বক্তব্য আতঙ্কজনক : মামুনুল হক

» ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় আকস্মিক বিদ্যুৎবিভ্রাট

» দুই মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে যুবক নিহত

» ১৭ বছরের অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনার মাশুল দিতে হচ্ছে সরকারকে : জ্বালানিমন্ত্রী

» আইনজীবী তালিকাভুক্তির সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩৫ বছর নির্ধারণের সিদ্ধান্ত

» ধ্বংসস্তূপ থেকে স্বাস্থ্যখাতের অগ্রযাত্রা শুরু করেছে সরকার: রাষ্ট্রপতি

» সারের দাবিতে লালমনিরহাট-বুড়িমারী মহাসড়ক অবরোধ

» জাপানে জেরা’র এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী

» গাজীপুরে শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ, তীব্র যানজট

» সংগ্রাম ও আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বিএনপির অগ্রবাহিনী হয়েছে যুবদল: ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

বাংলাদেশিসহ ১০ লক্ষাধিক মানুষের আমেরিকার স্বপ্ন ধূলিসাতের পথে

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : এসাইলাম ও অভিবাসন-সংক্রান্ত আবেদন নিষ্পত্তির অপেক্ষায় থাকা বিদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট (ইএডি) নবায়ন প্রক্রিয়া আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ (ডিএইচএস) জানিয়েছে, ভবিষ্যতে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু ও নবায়নের আগে আবেদনকারীদের অতীত রেকর্ড ও ফেডারেল ডাটাবেজে থাকা তথ্য আরও নিবিড়ভাবে যাচাই করা হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ জুন) ফেডারেল রেজিস্টারে এ-সংক্রান্ত প্রস্তাব প্রকাশ করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, প্রস্তাবটি নিয়ে ৬০ দিন জনমত গ্রহণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্য আপত্তি না এলে আগামী আগস্টে এটি কার্যকর হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বর্তমানে অনেক বিদেশি নাগরিক ট্যুরিস্ট, ব্যবসা বা শিক্ষার্থী ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পর আশ্রয় (এসাইলাম) আবেদন করেন। আবার কেউ কেউ সীমান্তে আটক হওয়ার পর আশ্রয় প্রার্থনা করে প্যারোলে মুক্তি পান। এসব ক্ষেত্রে আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তাদের কাজ করার অনুমতি হিসেবে ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হয়।

নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, ওয়ার্ক পারমিট নবায়নের সময় আবেদনকারীর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, অভিবাসন নথিতে ভুল বা বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রদান, জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ঝুঁকি কিংবা অন্যান্য নেতিবাচক তথ্য ফেডারেল ডাটাবেজে পাওয়া গেলে নবায়ন বাতিল হতে পারে।

অভিবাসন আইনজীবী ও সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, এ নিয়ম কার্যকর হলে লক্ষাধিক বাংলাদেশিসহ ১০ লাখের বেশি বিদেশি নাগরিক ওয়ার্ক পারমিট নবায়নে জটিলতার মুখে পড়তে পারেন।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ইউএস সিটিজেনশিপ অ্যান্ড ইমিগ্রেশন সার্ভিসেস (ইউএসসিআইএস) প্রায় ৯ লাখ ৭৮ হাজার ৩০৮ জনকে ওয়ার্ক পারমিট ইস্যু করেছে। বর্তমানে অধিকাংশ ক্ষেত্রে পারমিটের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে আবেদন করলে নবায়ন প্রক্রিয়া তুলনামূলক সহজভাবে সম্পন্ন হয়।

প্রস্তাবিত নিয়ম কার্যকর হলে নবায়নের আগে প্রত্যেক আবেদনকারীর পটভূমি বিস্তারিতভাবে যাচাই করা হবে। অভিবাসন আইনজীবীদের মতে, এর ফলে আবেদন নিষ্পত্তিতে দীর্ঘসূত্রতা এবং অনেক ক্ষেত্রে অনুমোদন জটিল হয়ে উঠতে পারে।

এ বিষয়ে ‘আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশন’-এর পরিচালক ও ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার-অ্যাট-লার্জ অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন প্রক্রিয়া জটিল হলে অভিবাসী শ্রমনির্ভর বিভিন্ন খাতে কর্মী সংকট দেখা দিতে পারে এবং মার্কিন অর্থনীতিও এর প্রভাব অনুভব করবে।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের যুক্তি, এ পদক্ষেপের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মার্কিন নাগরিকদের কর্মসংস্থান আরও সুরক্ষিত করা সম্ভব হবে এবং অভিবাসন ব্যবস্থায় জবাবদিহিতা বাড়বে।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সাবেক কর্মকর্তা অ্যাডাম ক্লেইন গণমাধ্যমকে বলেন, অতিরিক্ত কড়াকড়ির ফলে অভিবাসী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক চাপ বাড়তে পারে এবং শ্রমবাজারেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এদিকে অভিবাসনবিষয়ক সংগঠন ‘ন্যাশনাল ইমিগ্রেশন ফোরাম’-এর প্রেসিডেন্ট জেনি মারে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থা মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক হওয়া প্রয়োজন। তার মতে, নিরাপদ জীবনের আশায় আসা বিদেশিদের জন্য এমন নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষেত্রে মানবিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতাকেও বিবেচনায় নেওয়া উচিত।সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: dhakacrimenewsbd@gmail.com

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com