ছবি সংগৃহীত
অনলাইন ডেস্ক : ঈদের ছুটিকে ঘিরে পদ্মা ও যমুনাসহ দেশের প্রধান সেতুগুলোতে যানবাহনের চাপ স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ পর্যন্ত বেড়ে যায়। তবে নদীর তলদেশে নির্মিত দেশের প্রথম সুড়ঙ্গপথ কর্ণফুলী টানেলে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। উৎসব কিংবা দীর্ঘ ছুটির সময় অন্যান্য সড়ক অবকাঠামোয় যান চলাচল বাড়লেও কর্ণফুলী টানেলে সেই তুলনায় গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায় না।
এবার পবিত্র ঈদুল আজহার সাত দিনের ছুটিতে পদ্মা সেতুতে ২ লাখ ৪৪ হাজার গাড়ি পার হয়েছে। টোল আদায় হয়েছে ২৪ কোটি ৭৫ লাখ টাকা। আর যমুনা সেতু দিয়ে চলাচল করেছে ২ লাখ ৫৮ হাজারের বেশি গাড়ি। টোল আদায় হয় ১৭ কোটি টাকা। সেখানে একই সময়ে কর্ণফুলী টানেল দিয়ে চলাচল করেছে ৩১ হাজার ৮৮৯টি গাড়ি, যা থেকে টোল আদায় হয় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে চলেছে ৪ হাজার ৫৫৫টি। স্বাভাবিক সময়ে টানেলে গাড়ি আসা-যাওয়া করে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ করে।
চট্টগ্রামের পতেঙ্গা থেকে জেলার আনোয়ারা পর্যন্ত নির্মিত এই টানেলটি ২০২৩ সালে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। ১০ হাজার ৬৮৯ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত টানেলটিতে প্রতিদিন গড়ে ১৯ হাজার ৬৬৯টি যানবাহন চলাচলের প্রক্ষেপণ ছিল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদনে। তবে চালুর পর থেকে সেই লক্ষ্যমাত্রার ধারেকাছেও পৌঁছাতে পারেনি যান চলাচল। স্বাভাবিক সময়ের মতো ঈদের দীর্ঘ ছুটিতেও টানেলে গাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে না।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, কর্ণফুলী টানেল চালুর পর থেকে গত ২৩ মে পর্যন্ত যান চলাচল করেছে মোট ৩৬ লাখ ২৮ হাজার ২২২টি। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে গাড়ি চলাচল করেছে ৩ হাজার ৮৬৮টি। যা থেকে মোট টোল আদায় হয়েছে ১০৫ কোটি ১ লাখ টাকা। প্রতিদিন গড়ে টোল আদায়ের পরিমাণ ১১ লাখ ১৯ হাজার টাকা।
ঈদের ছুটিতেও কেন টানেলে গাড়ির পরিমাণ বাড়ে না- তা নিয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমে কথা বলেছেন। তার ভাষ্য, ঈদের সময় মহাসড়কে ভারী পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়। এতে টানেলে গাড়ির পরিমাণ আরও কমে যায়। টানেলের আনোয়ারা প্রান্তে এখনো বড় আকারের শিল্পায়ন হয়নি। কল-কারখানা হচ্ছে না। মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দরও চালু হয়নি। টানেলকে কেন্দ্র করে ওয়ান সিটি টু টাউনের কথা বলা হয়েছিল, তা–ও হয়নি। এ ছাড়া আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ পর্যন্ত সড়ক প্রশস্ত করা হয়নি। এগুলো টানেলে গাড়ি চলাচলের পরিমাণ বাড়বে। তবে আগামী দুই-তিন বছরের মধ্যে গাড়ি চলাচল বাড়ার সম্ভাবনা কম।
সড়ক পরিবহন মালিকদের মতে, টানেল ব্যবহারের এখনো উপযোগিতা তৈরি হয়নি। ঢাকা থেকে কক্সবাজার-বান্দরবানমুখী গাড়িগুলোও বাস্তবতার কারণেই টানেল ব্যবহার করছে না। কেননা টানেল ব্যবহার করলে গাড়িগুলো চট্টগ্রামের যাত্রী নেওয়ার সুযোগ পাবে না।
টানেলে গাড়ির পরিমাণ বৃদ্ধি নিয়ে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের সভাপতি বেলায়েত হোসেন গণমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা থেকে কক্সবাজার, বান্দরবানমুখী যেসব গাড়ি চলাচল করে তাদের কাউন্টার রয়েছে জিইসি মোড়, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ এলাকায়। তাই তারা গন্তব্যে যেতে টানেল ব্যবহার না করে চট্টগ্রাম নগরের ভেতর দিয়ে এসে শাহ আমানত সেতু ব্যবহার করে। এতে শাহ আমানত সেতুতে গাড়ি চলাচলের পরিমাণ বাড়ে ঈদে। কিন্তু টানেল দিয়ে গেলে তাদের বাড়তি পথ ঘুরতে হবে এবং যাত্রীও পাবে না। তবে আনোয়ারা থেকে চন্দনাইশ বাইপাস সড়ক হয়ে গেলে পরিস্থিতি পাল্টাতে পারে। এছাড়া দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের মধ্যে গণপরিবহনের জন্য কয়েকটি নতুন রুট চালু করতে হবে।
উল্লেখ্য, ঈদুল আজহায় ৩১ হাজার ৮৮৯টি গাড়ি থেকে টোল আদায় হয় ৯৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা। গত বছর ঈদুল আজহায় চলাচল করেছিল ৩১ হাজার ৩৬৬টি গাড়ি। তবে গত বছরের তুলনায় এবারের ঈদুল ফিতরের ছুটিতে কম গাড়ি চলাচল করেছে। চলতি বছরের ১৮ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত রমজানের ঈদের ছুটিতে ২৬ হাজার ৬৫৮টি গাড়ি পার হয় টানেল দিয়ে। টোল আদায় হয় ৬৭ লাখ ১৪ হাজার টাকা। গত বছর চলেছিল ৩২ হাজার গাড়ি। ২০২৪ সালে গাড়ির পরিমাণ ছিল ৩৩ হাজার ৭৭৩টি। সূএ : বাংলাদেশ প্রতিদিন








