ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরানো হতে পারে?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অপসারণের কথা ভাবছেন বলে একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিজ দপ্তরকে পাশ কাটিয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক ও যুদ্ধবিরতি–সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি প্রেসিডেন্টকে না জানিয়ে আইআরজিসি নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, গত দুই সপ্তাহে আরাগচি কার্যত সরকারের পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ভাহিদির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মতো ভূমিকা পালন করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নাকি ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তিনি আরাগচিকে বরখাস্ত করবেন।

তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এনডিটিভি জানিয়েছে, তারা এই দাবির সত্যতা আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার স্থবিরতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ১৫ এপ্রিল ইসরায়েলি দৈনিক ইসরায়েল হায়োম জানায়, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় মার্কিন কর্মকর্তারা হতাশ হন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শর্ত ছিল—ইরানি প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু দুই শীর্ষ বিপ্লবী গার্ড কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিতে বাধা দেন।

এই পরিস্থিতিতে পেজেশকিয়ান নাকি গালিবাফকে আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে দেশকে ‘সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিপর্যয়’ থেকে রক্ষা করতে উদ্যোগ নিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই রাজনৈতিক–সামরিক টানাপোড়েন এখন দেশের কূটনৈতিক ভবিষ্যতকেই অনিশ্চিত করে তুলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তি, এটা প্রতিষ্ঠিত সত্য হয়ে গেছে : আইনমন্ত্রী

» বৃষ্টি ও তেলের দামের প্রভাব পড়েছে বাজারে

» জিয়া পরিবার জনগণের জন্য কাজ করেছে তা প্রমাণিত: প্রতিমন্ত্রী

» শুরু হলো বিএনপির শ্রমিক সমাবেশ, বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান

» শ্রমজীবী মানুষের ন্যায্য মজুরি এখনও নিশ্চিত হয়নি: নাহিদ ইসলাম

» শ্রমিক বাঁচলে শিল্প বাঁচবে, লড়াই হোক অধিকার আদায়ের : জামায়াত আমির

» রেমিট্যান্সের ভিত্তি স্থাপন করেন জিয়াউর রহমান: রাষ্ট্রপতি

» আগামীকাল সিলেট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী, উদ্বোধন করবেন ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’

» বৃষ্টিতে ঢাকার বিভিন্ন সড়কে জলাবদ্ধতা

» পীর শামীম হত্যা মামলার আসামি রাজীব মিস্ত্রি গ্রেফতার

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বে দ্বন্দ্ব স্পষ্ট, পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে সরানো হতে পারে?

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান শান্তি আলোচনা অচল হয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে ইরানের শীর্ষ নেতৃত্বের ভেতরে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে অপসারণের কথা ভাবছেন বলে একাধিক সূত্রের বরাতে সংবাদমাধ্যমে দাবি করা হয়েছে।

ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ অভিযোগ করেছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি নিজ দপ্তরকে পাশ কাটিয়ে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)-এর নির্দেশনা অনুসরণ করছেন। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান পারমাণবিক ও যুদ্ধবিরতি–সংক্রান্ত আলোচনায় তিনি প্রেসিডেন্টকে না জানিয়ে আইআরজিসি নেতৃত্বের নির্দেশ অনুযায়ী কাজ করছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সূত্রগুলোর দাবি, গত দুই সপ্তাহে আরাগচি কার্যত সরকারের পররাষ্ট্র নীতি বাস্তবায়নের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী হিসেবে নয়, বরং আইআরজিসি কমান্ডার আহমদ ভাহিদির একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগীর মতো ভূমিকা পালন করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান নাকি ঘনিষ্ঠদের জানিয়েছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে তিনি আরাগচিকে বরখাস্ত করবেন।

তবে এ বিষয়ে এখনো ইরান সরকার আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি এবং স্বাধীনভাবে এসব অভিযোগ যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এনডিটিভি জানিয়েছে, তারা এই দাবির সত্যতা আলাদাভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনার স্থবিরতার একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনকি ১৫ এপ্রিল ইসরায়েলি দৈনিক ইসরায়েল হায়োম জানায়, ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নেওয়া ইরানি প্রতিনিধিদলের পূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা না থাকায় মার্কিন কর্মকর্তারা হতাশ হন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, আলোচনায় ফেরার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের একটি শর্ত ছিল—ইরানি প্রতিনিধিদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকতে হবে। কিন্তু দুই শীর্ষ বিপ্লবী গার্ড কর্মকর্তা রাজনৈতিক প্রতিনিধিদের প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত দিতে বাধা দেন।

এই পরিস্থিতিতে পেজেশকিয়ান নাকি গালিবাফকে আহ্বান জানিয়েছেন নেতৃত্বের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলে দেশকে ‘সম্পূর্ণ অর্থনৈতিক বিপর্যয়’ থেকে রক্ষা করতে উদ্যোগ নিতে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের এই রাজনৈতিক–সামরিক টানাপোড়েন এখন দেশের কূটনৈতিক ভবিষ্যতকেই অনিশ্চিত করে তুলছে।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com