ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।

তিনি বলেছেন, ইন্টারনেট সেবা সবার নাগালের মধ্যে না আনতে পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এর দাম জলের মতো সস্তা করে দিতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গত তিন দশকে দেশের টেলিকম খাতের বড় পরিবর্তন হয়েছে। শুরুতে মানুষের প্রধান চাহিদা ছিল শুধু যোগাযোগ স্থাপন বা ভয়েস কানেক্টিভিটি। মোবাইল প্রযুক্তির বিস্তারের মাধ্যমে সেই চাহিদা পূরণ হয়। পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারণা সামনে আসায় দেশের প্রায় সব মানুষ কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগের আওতায় এসেছে। তবে একসময় ইন্টারনেটকে কেবল একটি সংযোগ সেবা হিসেবে দেখা হলেও এখন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে ডেটা ‘নতুন জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করছে। কারণ, এই ডেটা-নির্ভর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল সেবার বিশাল এক ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।

এমদাদ উল বারী বলেন, শুধু সংযোগ প্রদান যথেষ্ট নয় সেই সংযোগ হতে হবে উচ্চগতির, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিংসহ সব খাতেই এখন মানসম্মত ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সিস্টেম পরিচালনার ক্ষেত্রে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের কোনো বিকল্প নেই।

ইন্টারনেটের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমিয়ে আনতে হবে। ইন্টারনেটের দাম জলের দামের মতো হতে হবে। যদিও আইএসপিরা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে, তবু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য এটি আরও সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, টেলিকম খাত একটি ‘এনাবলিং সেক্টর’। যা অন্যান্য সব খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই এই খাতে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা হওয়া উচিত। গ্রাহকের কাছ থেকে শুধু লাভ আদায়ের পরিবর্তে এমন সেবা দিতে হবে, যা মানুষের জীবনমান ও আয়ের সুযোগ বাড়ায়।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিনোদন নয়, কৃষি, বাজারব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। দেশে ব্রডব্যান্ড বিস্তারে আইএসপিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এই খাতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

লাইসেন্সিং নীতিমালা সংস্কারের বিষয়েও তিনি আভাস দেন। বলেন, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে বাজার আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো ভাগাভাগি (ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং) বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীও যদি উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন করতে পারে, তবে সেটিই হবে প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিফলন। এজন্য সরকার, খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



» ফুলে ভরে উঠল ঢামেকের সামনের ফুটপাত, সহযোগিতা চাইলেন ডিএসসিসি প্রশাসক

» ভূমি অফিসে দালালচক্র ঠেকাতে ১১ দফা পদক্ষেপ

» মানবতাবিরোধী অপরাধ ফের পিছিয়েছে নানক-তাপসসহ ২৮ জনের অভিযোগ গঠন শুনানি

» প্রাইভেট কোম্পানি ফ্লাইট অপারেট করতে চাইলে সরকার অবকাঠামো তৈরি করে দেবে: প্রধানমন্ত্রী

» সালিশের জের ধরে চাচাতো ভাইকে ছুরিকাঘাতে হত্যা

» লেবাননে হামলা বন্ধে যুক্তরাজ্য-জাপানসহ ১০ দেশের আহ্বান

» প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালায় পরিবর্তন আনার কথা ভাবছে সরকার: ববি হাজ্জাজ

» দেশের বাজারে বাড়ানো সোনার দাম

» ভারতীয় মদ, বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার ও ট্রাকসহ এক ব্যক্তি আটক

» গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে বাবা-ছেলে আহত

 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Desing & Developed BY PopularITLtd.Com
পরীক্ষামূলক প্রচার...

ইন্টারনেট সস্তা না হলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয় : বিটিআরসি চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

 

অনলাইন ডেস্ক : ইন্টারনেটের উচ্চমূল্য দেশের ডিজিটাল রূপান্তর ও সামগ্রিক উন্নয়নের অন্যতম বড় বাধা বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী।

তিনি বলেছেন, ইন্টারনেট সেবা সবার নাগালের মধ্যে না আনতে পারলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন সম্ভব নয়। তাই এর দাম জলের মতো সস্তা করে দিতে হবে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘ব্রডব্যান্ড এক্সপো ২০২৬’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিটিআরসি চেয়ারম্যান বলেন, গত তিন দশকে দেশের টেলিকম খাতের বড় পরিবর্তন হয়েছে। শুরুতে মানুষের প্রধান চাহিদা ছিল শুধু যোগাযোগ স্থাপন বা ভয়েস কানেক্টিভিটি। মোবাইল প্রযুক্তির বিস্তারের মাধ্যমে সেই চাহিদা পূরণ হয়। পরবর্তীতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের ধারণা সামনে আসায় দেশের প্রায় সব মানুষ কোনো না কোনোভাবে যোগাযোগের আওতায় এসেছে। তবে একসময় ইন্টারনেটকে কেবল একটি সংযোগ সেবা হিসেবে দেখা হলেও এখন তা সম্পূর্ণ ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। বর্তমানে ডেটা ‘নতুন জ্বালানি’ হিসেবে কাজ করছে। কারণ, এই ডেটা-নির্ভর প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করেই বিশ্বজুড়ে ডিজিটাল সেবার বিশাল এক ইকোসিস্টেম গড়ে উঠেছে।

এমদাদ উল বারী বলেন, শুধু সংযোগ প্রদান যথেষ্ট নয় সেই সংযোগ হতে হবে উচ্চগতির, নির্ভরযোগ্য এবং সাশ্রয়ী। ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, ব্যাংকিংসহ সব খাতেই এখন মানসম্মত ইন্টারনেট অপরিহার্য হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে সিস্টেম পরিচালনার ক্ষেত্রে ফিক্সড ব্রডব্যান্ডের কোনো বিকল্প নেই।

ইন্টারনেটের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে ইন্টারনেটের মূল্য আরও কমিয়ে আনতে হবে। ইন্টারনেটের দাম জলের দামের মতো হতে হবে। যদিও আইএসপিরা দীর্ঘদিন ধরে মূল্য স্থিতিশীল রেখেছে, তবু কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের জন্য এটি আরও সাশ্রয়ী করা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, টেলিকম খাত একটি ‘এনাবলিং সেক্টর’। যা অন্যান্য সব খাতের উন্নয়নে ভূমিকা রাখে। তাই এই খাতে বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিভঙ্গিও আলাদা হওয়া উচিত। গ্রাহকের কাছ থেকে শুধু লাভ আদায়ের পরিবর্তে এমন সেবা দিতে হবে, যা মানুষের জীবনমান ও আয়ের সুযোগ বাড়ায়।

গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, শুধু বিনোদন নয়, কৃষি, বাজারব্যবস্থা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মতো প্রয়োজনীয় সেবাগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে পৌঁছে দেওয়ার দিকে গুরুত্ব দিতে হবে। এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে। দেশে ব্রডব্যান্ড বিস্তারে আইএসপিরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে এবং এই খাতে ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও এই খাত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে।

লাইসেন্সিং নীতিমালা সংস্কারের বিষয়েও তিনি আভাস দেন। বলেন, নতুন নীতিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে এবং এটি বাস্তবায়িত হলে বাজার আরও প্রতিযোগিতামূলক ও গতিশীল হবে। একই সঙ্গে অবকাঠামো ভাগাভাগি (ইনফ্রাস্ট্রাকচার শেয়ারিং) বাড়ানোর দিকেও জোর দেওয়া হচ্ছে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের একজন শিক্ষার্থীও যদি উচ্চগতির ইন্টারনেট ব্যবহার করে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্ভাবন করতে পারে, তবে সেটিই হবে প্রকৃত ডিজিটাল বাংলাদেশের প্রতিফলন। এজন্য সরকার, খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান এ. আসাদ, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান এবং আইএসপিএবির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল করিম ভূঁইয়া।

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ



সর্বশেষ আপডেট



সর্বাধিক পঠিত



 

সম্পাদক ও প্রকাশক :মো সেলিম আহম্মেদ,

ভারপ্রাপ্ত,সম্পাদক : মোঃ আতাহার হোসেন সুজন,

নির্বাহী সম্পাদকঃ আনিসুল হক বাবু

 

ইমেল: [email protected]

ফোন নাম্বার : ০১৫৩৫১৩০৩৫০,

Design & Developed BY ThemesBazar.Com